7:02 pm, Tuesday, 21 April 2026

যে কারণে হেফাজত থেকে পদত্যাগ মুফতি কাসেমীর

রাজনীতি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিলেন তিনি।

হেফাজত নিয়ে তার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান আব্দুর রহিম কাসেমী। সেখানে তিনি পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে বলেন, হেফাজতের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে আমি পদত্যাগ করেছি।

কাসেমী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলামের সকল কার্যক্রম ও কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটির পদসমূহ থেকে পদত্যাগ করছি। যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক।

মুফতি কাসেমী আরও বলেন, দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিস্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্বাবধানে পরিচালিত সমস্ত মাদরাসাসমূহের শিক্ষক-ছাত্রদের এ সমস্ত দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি।

তিনি বলেন, রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূণ স্থাপনায় আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি করা এবং হরতাল চলাকালে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তাতে আমি এবং আমার মাদ্রাসার কোন ছাত্র অংশগ্রহণ করেনি। আমি হেফাজতে ইসলামের চলমান কোন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। তাদের সকল প্রকার নাশকতামূলক কার্যক্রমকে শরীয়তসম্মতভাবে অবৈধ মনে করি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

যে কারণে হেফাজত থেকে পদত্যাগ মুফতি কাসেমীর

Update Time : 07:14:50 am, Saturday, 24 April 2021

রাজনীতি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিলেন তিনি।

হেফাজত নিয়ে তার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান আব্দুর রহিম কাসেমী। সেখানে তিনি পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে বলেন, হেফাজতের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে আমি পদত্যাগ করেছি।

কাসেমী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলামের সকল কার্যক্রম ও কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটির পদসমূহ থেকে পদত্যাগ করছি। যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক।

মুফতি কাসেমী আরও বলেন, দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিস্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্বাবধানে পরিচালিত সমস্ত মাদরাসাসমূহের শিক্ষক-ছাত্রদের এ সমস্ত দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি।

তিনি বলেন, রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূণ স্থাপনায় আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি করা এবং হরতাল চলাকালে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তাতে আমি এবং আমার মাদ্রাসার কোন ছাত্র অংশগ্রহণ করেনি। আমি হেফাজতে ইসলামের চলমান কোন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। তাদের সকল প্রকার নাশকতামূলক কার্যক্রমকে শরীয়তসম্মতভাবে অবৈধ মনে করি।