3:27 am, Thursday, 17 September 2026

রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোয় মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের ভিড়, যা গত কয়েক দিন দেখা যায়নি। কঠোর বিধিনিষেধের অষ্টম দিন (৮ জুলাই) সকালে প্রতিটি সিগন্যালে এক থেকে দুই মিনিট করে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে।

সড়কে বের হওয়া মানুষের অধিকাংশই হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ। চেকপোস্টগুলোতেও দেখা গেছে যানবাহনের জট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রায় প্রতিটি বাহনকেই জেরা করছে।

আজ সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। এসব এলাকার মধ্যে ফকিরাপুল, রাজারবাগ, মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া, বাড্ডা, রামপুরা, দৈনিক বাংলা মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার, মগবাজার অন্যতম। এসব এলাকায় ব্যক্তিগত বাহনের পাশাপাশি মানুষের উপস্থিতিও ছিল বেশি।

রাজারবাগে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য আফসার উদ্দিন বলেন, সকালে অফিস সময়ে যানবাহনের একটু চাপ বেশি থাকে। তা ছাড়া খিলগাঁও এলাকায় মানুষের বসবাস বেশি। যে কারণে এখানে চাপটা একটু বেশি।

মতিঝিলে চাকরি করেন সাইদুর রহমান। রামপুরার বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হওয়া সাইদুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, লকডাউনের শুরু থেকেই আমাদের অফিস খোলা। প্রতিদিন অফিসে যেতে হয়। এখনো পর্যন্ত যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি। আজও রাস্তায় কোনো সমস্যা দেখছি না। কোনো প্রকার তল্লাশি ছাড়ায় চলাচল করতে পারছি।

রামপুরায় রিকশাচালক আবদুল গফুর মিয়া বলেন, করোনাকে তো আমরাও ভয় পাই, ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে তো আর খাবার পাব না। তাই যার যার জীবিকার জন্য সবাই লকডাউনেও বাইরে বের হয়েছে। মানুষ আর কয়দিন ঘরে থাকবে, সবার তো জমানো টাকা নেই। কাজে বের হলেই জীবিকা, পরিবার নিয়ে খাওয়া।

এদিকে বিধিনিষেধে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় গতকাল কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) অমান্য করায় গতকাল এক দিনে রেকর্ড এক হাজার ১০২ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি ডিএমপি পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৪৫ জনকে এক লাখ ৭১ হাজার ৯৮০ টাকা জরিমানা করে।

৮০৪টি গাড়িকে ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তবুও কেন সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমছে না? এ বিষয়ে অষ্টম দিনের লকডাউনে বাইরে বের হওয়া একাধিক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা তাদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একদিনে দেশে আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় এসএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো ছাত্রদল

রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে

Update Time : 07:21:49 am, Thursday, 8 July 2021

ডেস্ক রিপোর্ট :: রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোয় মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের ভিড়, যা গত কয়েক দিন দেখা যায়নি। কঠোর বিধিনিষেধের অষ্টম দিন (৮ জুলাই) সকালে প্রতিটি সিগন্যালে এক থেকে দুই মিনিট করে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে।

সড়কে বের হওয়া মানুষের অধিকাংশই হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ। চেকপোস্টগুলোতেও দেখা গেছে যানবাহনের জট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রায় প্রতিটি বাহনকেই জেরা করছে।

আজ সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। এসব এলাকার মধ্যে ফকিরাপুল, রাজারবাগ, মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া, বাড্ডা, রামপুরা, দৈনিক বাংলা মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার, মগবাজার অন্যতম। এসব এলাকায় ব্যক্তিগত বাহনের পাশাপাশি মানুষের উপস্থিতিও ছিল বেশি।

রাজারবাগে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য আফসার উদ্দিন বলেন, সকালে অফিস সময়ে যানবাহনের একটু চাপ বেশি থাকে। তা ছাড়া খিলগাঁও এলাকায় মানুষের বসবাস বেশি। যে কারণে এখানে চাপটা একটু বেশি।

মতিঝিলে চাকরি করেন সাইদুর রহমান। রামপুরার বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হওয়া সাইদুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, লকডাউনের শুরু থেকেই আমাদের অফিস খোলা। প্রতিদিন অফিসে যেতে হয়। এখনো পর্যন্ত যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি। আজও রাস্তায় কোনো সমস্যা দেখছি না। কোনো প্রকার তল্লাশি ছাড়ায় চলাচল করতে পারছি।

রামপুরায় রিকশাচালক আবদুল গফুর মিয়া বলেন, করোনাকে তো আমরাও ভয় পাই, ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে তো আর খাবার পাব না। তাই যার যার জীবিকার জন্য সবাই লকডাউনেও বাইরে বের হয়েছে। মানুষ আর কয়দিন ঘরে থাকবে, সবার তো জমানো টাকা নেই। কাজে বের হলেই জীবিকা, পরিবার নিয়ে খাওয়া।

এদিকে বিধিনিষেধে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় গতকাল কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) অমান্য করায় গতকাল এক দিনে রেকর্ড এক হাজার ১০২ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি ডিএমপি পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৪৫ জনকে এক লাখ ৭১ হাজার ৯৮০ টাকা জরিমানা করে।

৮০৪টি গাড়িকে ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তবুও কেন সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমছে না? এ বিষয়ে অষ্টম দিনের লকডাউনে বাইরে বের হওয়া একাধিক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা তাদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একদিনে দেশে আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।