12:59 am, Wednesday, 13 May 2026

শ্রীমঙ্গলে আশ্রায়ণ প্রকল্প নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী

শামীম আক্তার হোসেন :: শ্রীমঙ্গলে আশ্রয়াণ প্রকল্প নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আশিদ্রোন ইউপি’র ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য ফারুক আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আহমেদ বলেন, স¤প্রতি কয়েক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ণ প্রকল্পের মোহাজিরাবাদ প্রকল্পে গিয়ে সুবিধাবোগীদের কাছ থেকে আমার বিরুদ্ধে ১০ হাজার করে অর্থ নেয়ার মিথ্যাচার করছে। গত ৫-৬ দিন পূর্বে বেগুনবাড়ি প্রকল্পে গিয়ে গণমাধ্যম পরিচয়ে হৃদয় দেব নাথ, তিমির বনিক ও আরো কয়েকজন সুবিধাভোগীর কাছে গিয়ে ‘ভাঙ্গা ঘর, চাল দিয়ে পানি পড়ে’ এসব কথা শিখিয়ে বক্তব্য গ্রহন ও বিদ্যুতের লাইনের ছিদ্র খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বড় করে ছবি তোলে। পরে শিখিয়ে দেয়া এসব বক্তব্য ও ছবি প্রচার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প নিয়ে মিথ্যাচার করে।
ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্প বিনা মূল্যে দরিদ্র ভ‚মিহীন ও গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এখানে কারো কাছে কোন প্রকার অর্থ নেয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, স¤প্রতি ফাহিমা নামে এক সুবিধাভোগীকে পৌর প্রেসক্লাব নামে একটি সংগঠনের অফিসে ডেকে বরাদ্দ বাতিলের ভয় দেখিয়ে তিমির বনিক ও তার অপর সহযোগী মিথ্যা তথ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, তিমির বনিক নিজেকে ঢাকার বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তার আইডিতে পোষ্ট দেয়। আমরা ২ ঘর পেয়েছি এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৫ হাজার টাকাও দাবী করে।
ফাহিমা বেগম বলেন, ২০১৬ সালে জায়গা আছে ঘর নেই এমন একটি সরকারী প্রকল্পে আমার বাবা আলী হোসেন শেখ একটি টিন শেডের ঘর বরাদ্দ পান। তিনি মারা যাবার পর সেখানে মা বসবাস করছেন। পরে আমি এবং আমার দরিদ্র ভ‚মিহীন ভ্যনচালক স্বামী মো. জাকির হোসেন আশ্রায়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ পাই।
ইউপি সদস্য সংবাদ সম্মেলনে জানান, আশ্রায়ণ প্রকল্পের জমি উদ্ধারকালে দীর্ঘদিন যাবত সেখানে হালিমা বেগম ও তার বিবাহিত ছেলে কাইয়‚ম মিয়ার আলাদা দুটি পরিবারের ৩টি বসত ঘর ছিল। সরকারী খাস জমি উদ্ধার অভিযানের ফলে পরিবার দুটি গৃহহীন হয়ে পড়েন। প্রশাসন থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু হালিমা বেগমকে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে করে হালিমা বেগমের ছেলে কাইয়ুম মিয়া ভ‚মিহীন পড়লেও প্রশাসন থেকে তাকে কোন ঘর দেয়া হয়নি। এই ঘটনাকে পুঁিজ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘একই পরিবারে ২টি ঘর পাওয়া’র মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক হৃদয় দেব নাথ সেখানে উপস্থিত হয়ে তার নাম উল্লেখ করায় উত্তেজিত হয়ে ইউপি সদস্যে ফারুক আহমেদ এর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হৃদয় দেবকে সাংবাদি পরিচয় দিতে হয় না, আমার পিঠে সাংবাদিক লেখা থাকে’। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে প্রেসক্লাব সভাপতির মধ্যস্থতায় ফারুক আহমেদ লিখিত স্ক্রিপট থেকে হৃদয় দেব নাথের নাম কেটে দেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকল্পের সুবিধাভোগী বীরঙ্গনা শীলা গুহসহ ১০-১২ জন সুবিধাভোগী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ার একজন মানবিক, দূরদর্শী ও কর্মঠ প্রশাসকের বিদায়

শ্রীমঙ্গলে আশ্রায়ণ প্রকল্প নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী

Update Time : 11:11:40 am, Thursday, 15 July 2021

শামীম আক্তার হোসেন :: শ্রীমঙ্গলে আশ্রয়াণ প্রকল্প নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আশিদ্রোন ইউপি’র ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য ফারুক আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আহমেদ বলেন, স¤প্রতি কয়েক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ণ প্রকল্পের মোহাজিরাবাদ প্রকল্পে গিয়ে সুবিধাবোগীদের কাছ থেকে আমার বিরুদ্ধে ১০ হাজার করে অর্থ নেয়ার মিথ্যাচার করছে। গত ৫-৬ দিন পূর্বে বেগুনবাড়ি প্রকল্পে গিয়ে গণমাধ্যম পরিচয়ে হৃদয় দেব নাথ, তিমির বনিক ও আরো কয়েকজন সুবিধাভোগীর কাছে গিয়ে ‘ভাঙ্গা ঘর, চাল দিয়ে পানি পড়ে’ এসব কথা শিখিয়ে বক্তব্য গ্রহন ও বিদ্যুতের লাইনের ছিদ্র খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বড় করে ছবি তোলে। পরে শিখিয়ে দেয়া এসব বক্তব্য ও ছবি প্রচার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প নিয়ে মিথ্যাচার করে।
ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্প বিনা মূল্যে দরিদ্র ভ‚মিহীন ও গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এখানে কারো কাছে কোন প্রকার অর্থ নেয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, স¤প্রতি ফাহিমা নামে এক সুবিধাভোগীকে পৌর প্রেসক্লাব নামে একটি সংগঠনের অফিসে ডেকে বরাদ্দ বাতিলের ভয় দেখিয়ে তিমির বনিক ও তার অপর সহযোগী মিথ্যা তথ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, তিমির বনিক নিজেকে ঢাকার বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তার আইডিতে পোষ্ট দেয়। আমরা ২ ঘর পেয়েছি এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৫ হাজার টাকাও দাবী করে।
ফাহিমা বেগম বলেন, ২০১৬ সালে জায়গা আছে ঘর নেই এমন একটি সরকারী প্রকল্পে আমার বাবা আলী হোসেন শেখ একটি টিন শেডের ঘর বরাদ্দ পান। তিনি মারা যাবার পর সেখানে মা বসবাস করছেন। পরে আমি এবং আমার দরিদ্র ভ‚মিহীন ভ্যনচালক স্বামী মো. জাকির হোসেন আশ্রায়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ পাই।
ইউপি সদস্য সংবাদ সম্মেলনে জানান, আশ্রায়ণ প্রকল্পের জমি উদ্ধারকালে দীর্ঘদিন যাবত সেখানে হালিমা বেগম ও তার বিবাহিত ছেলে কাইয়‚ম মিয়ার আলাদা দুটি পরিবারের ৩টি বসত ঘর ছিল। সরকারী খাস জমি উদ্ধার অভিযানের ফলে পরিবার দুটি গৃহহীন হয়ে পড়েন। প্রশাসন থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু হালিমা বেগমকে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে করে হালিমা বেগমের ছেলে কাইয়ুম মিয়া ভ‚মিহীন পড়লেও প্রশাসন থেকে তাকে কোন ঘর দেয়া হয়নি। এই ঘটনাকে পুঁিজ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘একই পরিবারে ২টি ঘর পাওয়া’র মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক হৃদয় দেব নাথ সেখানে উপস্থিত হয়ে তার নাম উল্লেখ করায় উত্তেজিত হয়ে ইউপি সদস্যে ফারুক আহমেদ এর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হৃদয় দেবকে সাংবাদি পরিচয় দিতে হয় না, আমার পিঠে সাংবাদিক লেখা থাকে’। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে প্রেসক্লাব সভাপতির মধ্যস্থতায় ফারুক আহমেদ লিখিত স্ক্রিপট থেকে হৃদয় দেব নাথের নাম কেটে দেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকল্পের সুবিধাভোগী বীরঙ্গনা শীলা গুহসহ ১০-১২ জন সুবিধাভোগী উপস্থিত ছিলেন।