3:42 pm, Thursday, 10 September 2026

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়েছে বিক্ষোভকারীরা

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক :: নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া শ্রীলঙ্কার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশি প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েছেন। বিক্ষোভকারীদের আগ্রাসী এই পদক্ষেপের মুখে বাসভবন ছেড়ে পালিয়েছেন গাটাবায়া রাজাপাকসে।

সামরিক বাহিনীর সহায়তায় শুক্রবারই গোতাবায়া সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’টি সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে শনিবারের বিক্ষোভের খবর পেয়ে শুক্রবার সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিজের বাসভবন ত্যাগ করেন গোতাবায়া।

বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়ের সূত্র। তবে জানিয়েছে— তিনি নিরাপদে আছেন।

এদিকে, শনিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা পদত্যাগের দাবিতে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ঘেরাও করেন। প্রেসিডেন্টের পালিয়ে যাওয়ার খবর তাদের বিক্ষোভ না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের উদ্দেশে রাজধানী কলম্বোতে যে মিছিলটি বের হয়, সেটি চলতি বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ মিছিল।

শনিবার রাজধানী কলম্বোতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এর এক পর্যায়ে বিক্ষোভ থেকে প্রেসিডেন্টের বাসভবন অভিমুখে যাত্রা করেন তারা। এ সময় পুলিশি প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বাসভবনে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ এগিয়ে এলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাত হয় তাদের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘাতে আহত হয়ে অন্তত ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকট পার করছে শ্রীলঙ্কা। বর্তমানে দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বলে আর কিছু নেই। ফলে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত শ্রীলঙ্কা খাবার, ওষুধ, জ্বালানির মতো অতি জরুরি আমদানি প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

বর্তমান এই দুরাবস্থার জন্য দেশটির অধিকাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করছেন। গত মার্চ থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন শহরে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়েছে বিক্ষোভকারীরা

Update Time : 12:53:11 pm, Saturday, 9 July 2022

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক :: নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া শ্রীলঙ্কার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশি প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েছেন। বিক্ষোভকারীদের আগ্রাসী এই পদক্ষেপের মুখে বাসভবন ছেড়ে পালিয়েছেন গাটাবায়া রাজাপাকসে।

সামরিক বাহিনীর সহায়তায় শুক্রবারই গোতাবায়া সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’টি সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে শনিবারের বিক্ষোভের খবর পেয়ে শুক্রবার সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিজের বাসভবন ত্যাগ করেন গোতাবায়া।

বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়ের সূত্র। তবে জানিয়েছে— তিনি নিরাপদে আছেন।

এদিকে, শনিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা পদত্যাগের দাবিতে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ঘেরাও করেন। প্রেসিডেন্টের পালিয়ে যাওয়ার খবর তাদের বিক্ষোভ না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের উদ্দেশে রাজধানী কলম্বোতে যে মিছিলটি বের হয়, সেটি চলতি বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ মিছিল।

শনিবার রাজধানী কলম্বোতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এর এক পর্যায়ে বিক্ষোভ থেকে প্রেসিডেন্টের বাসভবন অভিমুখে যাত্রা করেন তারা। এ সময় পুলিশি প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বাসভবনে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ এগিয়ে এলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাত হয় তাদের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘাতে আহত হয়ে অন্তত ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকট পার করছে শ্রীলঙ্কা। বর্তমানে দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বলে আর কিছু নেই। ফলে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত শ্রীলঙ্কা খাবার, ওষুধ, জ্বালানির মতো অতি জরুরি আমদানি প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

বর্তমান এই দুরাবস্থার জন্য দেশটির অধিকাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করছেন। গত মার্চ থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন শহরে।