3:50 pm, Saturday, 13 December 2025

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশনে মেসি ও রোনালদো

 স্পোর্টস ডেস্ক

২০১৫ সালে লন্ডনের রাস্তায় দুটো স্বচ্ছ ডাস্টবিনে সিগারেটের শেষ অংশ ফেলে পথচারীদের একটি নীরব ভোটে অংশ নিতে বলা হয়েছিল। প্রশ্ন ছিল—বিশ্বসেরা কে? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? 

এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেই উত্তপ্ত বিতর্ক এখনও থামেনি। বরং ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলের এই দুই মহাতারকা।

সবকিছু ঠিক থাকলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে তারা দুজনেই অংশ নিতে যাচ্ছেন। এটি হলে, পুরুষ ফুটবলে তারাই হবেন প্রথম খেলোয়াড় যারা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়বেন। তখন রোনালদোর বয়স হবে ৪১ এবং মেসির ৩৯।

ক্লাব ও দেশের হয়ে দুজনের ঝুলিতেই রয়েছে ৮০০-এর বেশি গোল। দুজন মিলে জিতেছেন ৯টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ১৩টি ব্যালন ডি’অর। মেসির ভক্তরা ২০২২ বিশ্বকাপ জয়কে এগিয়ে রেখে তাকেই সেরা মানেন। অন্যদিকে, রোনালদোর ভক্তরা তার ইউরোপের বিভিন্ন লিগ জয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২২৬ ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড এবং সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী তার ৯৫৪ গোলের পরিসংখ্যানকে সামনে আনেন।

বিশ্বকাপে দুজনের যাত্রাপথ (২০০৬-২০২২)

মেসি ও রোনালদোর গত পাঁচটি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স নিচে তুলে ধরা হলো:

 সাল                     মেসি (আর্জেন্টিনা)                    রোনালদো (পর্তুগাল)
২০০৬১৯ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে গোল করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি।২১ বছর বয়সে গোল করে যাত্রা শুরু। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক গোল করেন, তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেন।
২০১০পুরো টুর্নামেন্টে কোনো গোল করতে পারেননি। জার্মানির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেন এবং দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।অধিনায়ক হিসেবে মাত্র ১টি গোল করেন। শেষ ১৬-তে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল।
২০১৪অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। ৪টি ম্যাচসেরার পুরস্কার ও গোল্ডেন বল জেতেন, কিন্তু ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়।হাঁটুর চোট নিয়ে খেলে মাত্র ১টি গোল করেন। দল গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায়।
২০১৮গ্রুপ পর্বে মাত্র ১টি গোল করেন। শেষ ১৬-তে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেন।স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন (ম্যাচ ড্র ৩-৩)। ইরানের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেন এবং শেষ ১৬-তে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেন।
২০২২অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি রাউন্ডে গোল করেন। ফাইনালে জোড়া গোল ও শিরোপা জিতে ম্যারাডোনার পাশে স্থান করে নেন।দলের পারফরম্যান্স ভালো থাকলেও রোনালদো ছিলেন নিষ্প্রভ। নকআউট পর্বে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয় এবং মরক্কোর কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেন।

কাতার বিশ্বকাপকেই মনে করা হয়েছিল এই দুই কিংবদন্তির শেষ। কিন্তু বয়সের ভার উপেক্ষা করে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত মেসি ও রোনালদো। ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে তাদের উপস্থিতি ফুটবল প্রেমীদের জন্য হতে পারে এক বাড়তি উপহার।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ ও হাফিজ উদ্দিন

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশনে মেসি ও রোনালদো

Update Time : 09:19:00 am, Wednesday, 3 December 2025

 স্পোর্টস ডেস্ক

২০১৫ সালে লন্ডনের রাস্তায় দুটো স্বচ্ছ ডাস্টবিনে সিগারেটের শেষ অংশ ফেলে পথচারীদের একটি নীরব ভোটে অংশ নিতে বলা হয়েছিল। প্রশ্ন ছিল—বিশ্বসেরা কে? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? 

এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেই উত্তপ্ত বিতর্ক এখনও থামেনি। বরং ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলের এই দুই মহাতারকা।

সবকিছু ঠিক থাকলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে তারা দুজনেই অংশ নিতে যাচ্ছেন। এটি হলে, পুরুষ ফুটবলে তারাই হবেন প্রথম খেলোয়াড় যারা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়বেন। তখন রোনালদোর বয়স হবে ৪১ এবং মেসির ৩৯।

ক্লাব ও দেশের হয়ে দুজনের ঝুলিতেই রয়েছে ৮০০-এর বেশি গোল। দুজন মিলে জিতেছেন ৯টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ১৩টি ব্যালন ডি’অর। মেসির ভক্তরা ২০২২ বিশ্বকাপ জয়কে এগিয়ে রেখে তাকেই সেরা মানেন। অন্যদিকে, রোনালদোর ভক্তরা তার ইউরোপের বিভিন্ন লিগ জয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২২৬ ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড এবং সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী তার ৯৫৪ গোলের পরিসংখ্যানকে সামনে আনেন।

বিশ্বকাপে দুজনের যাত্রাপথ (২০০৬-২০২২)

মেসি ও রোনালদোর গত পাঁচটি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স নিচে তুলে ধরা হলো:

 সাল                     মেসি (আর্জেন্টিনা)                    রোনালদো (পর্তুগাল)
২০০৬১৯ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে গোল করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি।২১ বছর বয়সে গোল করে যাত্রা শুরু। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক গোল করেন, তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেন।
২০১০পুরো টুর্নামেন্টে কোনো গোল করতে পারেননি। জার্মানির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেন এবং দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।অধিনায়ক হিসেবে মাত্র ১টি গোল করেন। শেষ ১৬-তে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল।
২০১৪অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। ৪টি ম্যাচসেরার পুরস্কার ও গোল্ডেন বল জেতেন, কিন্তু ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়।হাঁটুর চোট নিয়ে খেলে মাত্র ১টি গোল করেন। দল গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায়।
২০১৮গ্রুপ পর্বে মাত্র ১টি গোল করেন। শেষ ১৬-তে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেন।স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন (ম্যাচ ড্র ৩-৩)। ইরানের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেন এবং শেষ ১৬-তে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেন।
২০২২অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি রাউন্ডে গোল করেন। ফাইনালে জোড়া গোল ও শিরোপা জিতে ম্যারাডোনার পাশে স্থান করে নেন।দলের পারফরম্যান্স ভালো থাকলেও রোনালদো ছিলেন নিষ্প্রভ। নকআউট পর্বে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয় এবং মরক্কোর কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেন।

কাতার বিশ্বকাপকেই মনে করা হয়েছিল এই দুই কিংবদন্তির শেষ। কিন্তু বয়সের ভার উপেক্ষা করে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত মেসি ও রোনালদো। ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে তাদের উপস্থিতি ফুটবল প্রেমীদের জন্য হতে পারে এক বাড়তি উপহার।