10:39 pm, Thursday, 8 October 2026

সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য হচ্ছে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, লেখা বন্ধ করার জন্য, আমাদের পক্ষের লেখার জন্য যে আমরা সাইবার সিকিউরিটি আইন করছি, তা কিন্তু একেবারেই না।

সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন রকম ফেক অ্যাকাউন্ট করে মানুষকে হেনস্তা করা হয়, হয়রানি করা হয়, মানুষ সুইসাইডাল পর্যায়ে চলে যায়– সেগুলো থেকে জনগণকে নিরাপত্তার জন্য, এমনকি অনেক সাংবাদিকদের নামেও তো ভুয়া তথ্য, গুজব রটনা করা হয়।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সুরক্ষিত রাখার জন্য একটা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যেটা আপনারাও একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন, আশ্বস্ত করতে চাই যে, সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার সাংবাদিকদের সুরক্ষিত রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে।

গণমাধ্যম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে, সাংবাদিকদের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার পরামর্শ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেওয়া হবে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি শুধু কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্যই সাইবার সুরক্ষা প্রয়োজন। কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভুলক্রমে এমন কিছু প্রকাশিত হলে, যা সাইবার সুরক্ষা আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। আমরা কিন্তু এটা বিবেচনা করছি। বিষয়টি কীভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, কীভাবে করা যায় এবং এর ভাষা কেমন হবে, সে বিষয়ে আমরা বিবেচনা করছি। সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য হচ্ছে না, এ বিষয়ে সরকারের মানসিকতা স্পষ্ট। সাংবাদিকদের লেখা বন্ধ করা বা সরকারের পক্ষে লেখানোর জন্য এ আইন করা হচ্ছে না।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তা করা হয়। এর ফলে অনেকে আত্মহত্যাপ্রবণ পর্যায়েও চলে যাচ্ছেন। একইভাবে সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাই জনগণের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও নিরাপদ রাখা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্যও সরকার কাজ করছে। সাংবাদিকরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

সভায় ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। নবম ওয়েজ বোর্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দশম ওয়েজ বোর্ডের আগে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি সাংবাদিক নেতারা জানিয়েছেন। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিষয়টি মন্ত্রিসভায়ও তোলা হবে। তবে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণমাধ্যম মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে। সরকার কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়ার পরও মালিকপক্ষ তা বাস্তবায়ন না করলে সাংবাদিকরা এর সুফল পাবেন না।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে শহরের ১৪টি পূজা মণ্ডপে অনুদানের চেক বিতরণ

সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য হচ্ছে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Update Time : 08:54:02 am, Sunday, 4 October 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, লেখা বন্ধ করার জন্য, আমাদের পক্ষের লেখার জন্য যে আমরা সাইবার সিকিউরিটি আইন করছি, তা কিন্তু একেবারেই না।

সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন রকম ফেক অ্যাকাউন্ট করে মানুষকে হেনস্তা করা হয়, হয়রানি করা হয়, মানুষ সুইসাইডাল পর্যায়ে চলে যায়– সেগুলো থেকে জনগণকে নিরাপত্তার জন্য, এমনকি অনেক সাংবাদিকদের নামেও তো ভুয়া তথ্য, গুজব রটনা করা হয়।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সুরক্ষিত রাখার জন্য একটা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যেটা আপনারাও একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন, আশ্বস্ত করতে চাই যে, সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার সাংবাদিকদের সুরক্ষিত রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে।

গণমাধ্যম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে, সাংবাদিকদের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার পরামর্শ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেওয়া হবে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি শুধু কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্যই সাইবার সুরক্ষা প্রয়োজন। কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভুলক্রমে এমন কিছু প্রকাশিত হলে, যা সাইবার সুরক্ষা আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। আমরা কিন্তু এটা বিবেচনা করছি। বিষয়টি কীভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, কীভাবে করা যায় এবং এর ভাষা কেমন হবে, সে বিষয়ে আমরা বিবেচনা করছি। সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য হচ্ছে না, এ বিষয়ে সরকারের মানসিকতা স্পষ্ট। সাংবাদিকদের লেখা বন্ধ করা বা সরকারের পক্ষে লেখানোর জন্য এ আইন করা হচ্ছে না।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তা করা হয়। এর ফলে অনেকে আত্মহত্যাপ্রবণ পর্যায়েও চলে যাচ্ছেন। একইভাবে সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাই জনগণের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও নিরাপদ রাখা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্যও সরকার কাজ করছে। সাংবাদিকরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

সভায় ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। নবম ওয়েজ বোর্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দশম ওয়েজ বোর্ডের আগে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি সাংবাদিক নেতারা জানিয়েছেন। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিষয়টি মন্ত্রিসভায়ও তোলা হবে। তবে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণমাধ্যম মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে। সরকার কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়ার পরও মালিকপক্ষ তা বাস্তবায়ন না করলে সাংবাদিকরা এর সুফল পাবেন না।