3:11 am, Monday, 13 July 2026

সেহরি ও ইফতারে কি খাওয়া যাবে, কি যাবে না

অনলাইন ডেস্ক: রমজান হলো বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ’র সংযম ও আত্ম-পরিশোধের পবিত্রতম মাস। বিশ্বের সকল মুসলিমরা এই মাসে নিজেকে সৃষ্টিকর্তার প্রতি একটু বেশিই নিবেদন করেন। এ মাস যে ইবাদতের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধনী-গরীব সকল শ্রেণি পেশার মানুষ না খেয়ে থেকে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন। রমজানের এই সময়ে শরীরের বিশেষভাবে যত্ন নেয়া প্রয়োজন। খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আপনি যদি সুস্থ না থাকেন তাহলে সঠিকভাবে সবগুলো রোজা রাখা সম্ভব হবে না। তাই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। এবার তাহলে সেহরি ও ইফতারে খাবার কেমন হওয়া উচিত তা তুলে ধরা হলো-

সেহরি : রমজানে সেহরি হচ্ছে দিন শুরু করার প্রথম খাবার। তাই সেহরিতে প্রচুর পরিমাণে শস্যজাতীয় খাবার রাখা উচিত এবং যা কিনা হবে সহজ্যপ্রাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত। সেহরির খাবারে অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও চর্বিজাতীয় খাবার ত্যাগ করতে হবে। অনেকের চিন্তাভাবনা, সারাদিন যেহেতু না খেয়ে থাকব তাই প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এই ধারনা একদমই ভুল। সেহরির খাদ্য তালিকায় ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজি, মাছ বা মাংস খাওয়া ভালো। এছাড়া অল্প চিড়া ও দইও বেশ উপকারী। এটি গরমের রমজানে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

দুধে ভেজানো ওটমিলও খাওয়া যেতে পারে। দুধে ভেজানো ওটমিল প্রোটিন-সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের জন্য উপকারী। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য এতে বিভিন্নরকম বাদাম বা ফলের টুকরো মিশাতে পারেন। এছাড়া এক বাটি দইয়ে ক্যালসিয়াম, আয়োডিন এবং ভিটামিনের মতো বিভিন্ন পুষ্টিগুণ থাকে। যা কিনা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার জন্য শরীরকে শক্তি সঞ্চার করে।

সারাদিন হাইড্রেটেড থাকতে তরমুজ, স্ট্রবেরি, কমলা, টমেটো, শসা, লেটুস, পালং শাক এবং অন্যান্য সবুজ শাক-সবজি ও বিভিন্ন রঙের ফলমূল রাখতে পারেন। যাদের দুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তারা এক গ্লাস দুধের সঙ্গে বাদাম, আখরোট ও চিনাবাদাম মিশিয়ে খেতে পারেন।

ইফতার : ইফতার হচ্ছে দিনের দ্বিতীয় খাবার। সারাদিন না খেয়ে সময় কাটানোর পর সন্ধ্যায় ইফতার করে পুনরায় শক্তি সঞ্চার করা হয়। যুগ যুগ ধরে মানুষ ইফতারে খেজুর ফলের সঙ্গে বিভিন্ন ফলমূল দিয়ে ইফতার করে আসছে। বর্তমানে অনেকে এই ইফতারে স্যুপ, বিরিয়ানি, হালিম, কাবাবসহ অন্যান্য খাবার রাখেন। মূলত ইফতারে এমন কিছু খাওয়া যাবে না যা কিনা অতিরিক্ত তৈলাক্ত। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর সন্ধ্যায় যদি এসব খাবার খাওয়া হয় তাহলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি অনেক সময় পেটেরও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ইফতারে রুটি, ব্রাউন রাইস, মাংস, মাছ, ডিম, ফলমূল এবং কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত। বেশি পরিমাণে নোনতা, মসলাদার বা তৈলাক্ত খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখাই ভালো। সম্ভব হলে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও তরল-জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কমলগঞ্জে ৫০০ বন্যার্ত মানুষের পাশে বিএনপি নেতা স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী

সেহরি ও ইফতারে কি খাওয়া যাবে, কি যাবে না

Update Time : 02:30:08 pm, Thursday, 15 April 2021

অনলাইন ডেস্ক: রমজান হলো বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ’র সংযম ও আত্ম-পরিশোধের পবিত্রতম মাস। বিশ্বের সকল মুসলিমরা এই মাসে নিজেকে সৃষ্টিকর্তার প্রতি একটু বেশিই নিবেদন করেন। এ মাস যে ইবাদতের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধনী-গরীব সকল শ্রেণি পেশার মানুষ না খেয়ে থেকে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন। রমজানের এই সময়ে শরীরের বিশেষভাবে যত্ন নেয়া প্রয়োজন। খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আপনি যদি সুস্থ না থাকেন তাহলে সঠিকভাবে সবগুলো রোজা রাখা সম্ভব হবে না। তাই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। এবার তাহলে সেহরি ও ইফতারে খাবার কেমন হওয়া উচিত তা তুলে ধরা হলো-

সেহরি : রমজানে সেহরি হচ্ছে দিন শুরু করার প্রথম খাবার। তাই সেহরিতে প্রচুর পরিমাণে শস্যজাতীয় খাবার রাখা উচিত এবং যা কিনা হবে সহজ্যপ্রাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত। সেহরির খাবারে অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও চর্বিজাতীয় খাবার ত্যাগ করতে হবে। অনেকের চিন্তাভাবনা, সারাদিন যেহেতু না খেয়ে থাকব তাই প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এই ধারনা একদমই ভুল। সেহরির খাদ্য তালিকায় ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজি, মাছ বা মাংস খাওয়া ভালো। এছাড়া অল্প চিড়া ও দইও বেশ উপকারী। এটি গরমের রমজানে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

দুধে ভেজানো ওটমিলও খাওয়া যেতে পারে। দুধে ভেজানো ওটমিল প্রোটিন-সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের জন্য উপকারী। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য এতে বিভিন্নরকম বাদাম বা ফলের টুকরো মিশাতে পারেন। এছাড়া এক বাটি দইয়ে ক্যালসিয়াম, আয়োডিন এবং ভিটামিনের মতো বিভিন্ন পুষ্টিগুণ থাকে। যা কিনা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার জন্য শরীরকে শক্তি সঞ্চার করে।

সারাদিন হাইড্রেটেড থাকতে তরমুজ, স্ট্রবেরি, কমলা, টমেটো, শসা, লেটুস, পালং শাক এবং অন্যান্য সবুজ শাক-সবজি ও বিভিন্ন রঙের ফলমূল রাখতে পারেন। যাদের দুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তারা এক গ্লাস দুধের সঙ্গে বাদাম, আখরোট ও চিনাবাদাম মিশিয়ে খেতে পারেন।

ইফতার : ইফতার হচ্ছে দিনের দ্বিতীয় খাবার। সারাদিন না খেয়ে সময় কাটানোর পর সন্ধ্যায় ইফতার করে পুনরায় শক্তি সঞ্চার করা হয়। যুগ যুগ ধরে মানুষ ইফতারে খেজুর ফলের সঙ্গে বিভিন্ন ফলমূল দিয়ে ইফতার করে আসছে। বর্তমানে অনেকে এই ইফতারে স্যুপ, বিরিয়ানি, হালিম, কাবাবসহ অন্যান্য খাবার রাখেন। মূলত ইফতারে এমন কিছু খাওয়া যাবে না যা কিনা অতিরিক্ত তৈলাক্ত। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর সন্ধ্যায় যদি এসব খাবার খাওয়া হয় তাহলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি অনেক সময় পেটেরও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ইফতারে রুটি, ব্রাউন রাইস, মাংস, মাছ, ডিম, ফলমূল এবং কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত। বেশি পরিমাণে নোনতা, মসলাদার বা তৈলাক্ত খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখাই ভালো। সম্ভব হলে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও তরল-জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস