1:26 am, Wednesday, 13 May 2026

হাওরের পানি কমলেও কমেনি কৃষকের আহাজারি

হাসান আল মাহমুদ রাজু : হাকালুকি হাওরজুড়ে এখন হাসিমুখে ধান কাটার উৎসব হওয়ার কথা ছিলো। সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে ওঠার কথা। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! সিলেট বিভাগের দিগন্তজোড়ে ফসলের মাঠ এখন অথৈ পানির নিচে। যে ধান গোলায় তুলে সারা বছরের অন্নের জন্য নিশ্চিন্ত হওয়ার কথা, সেই ধান এখন পানির নিচ। বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ ভারি হচ্ছে কৃষকের। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত হাওর এলাকায় দেখা গেছে কৃষকের হাহাকার। অনেক জায়গায় ধান কাটার সময়টুকুও দেয়নি অকাল বন্যায়। আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার চাষিরা। পানিতে ভিজে যাওয়া সেই ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে চরম শঙ্কা।

৩ মে সরজমিনে হাকালুকি হাওর পারের কৃষক আব্দুক কালাম (৬৫),আব্দুল হক (৫০),লিল মিয়া (৩৯)বাসির তালুকদার(৪৫)রেনু মিয়া (৪৯),তাজুল মিয়া(৫০)নামর মিয়া (৭০),রহমান মিয়া (ছইদ আলী (৪৫),হাজি মুক্তাদির(৬৪),চিনু মিয়া (৫৫),জয়নুল ইসলাম(৫০),নাজিম উদফিন (২৯) সহ আরো অনেকে বলেন, ‘আমাদের সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর ধার-দেনা করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু অকাল বন্যায় তা হারিয়ে গেছে। এখন পরিবারের (মূহে) মুখে কী দেব? আর ঋণই বা শোধ করব কীভাবে, সেই চিন্তায় (চউকে) চোখে (মুহে) মুখে ঘুম (নাই) নেই।’ এখন আমরা কিতা (খরতাম) করতাম রেবা। সরকারের প্রতি আমাদের যুরদাবী এলাকায় ধান কাটার মিশিন দেওয়ার জন্য।যাতে আমরা মিশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটতে পারি।১০০০ টাকা দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না কারন কেও এত পানির মাঝে ধান কাটতে চায় না।এবং ধান গুলো শুকানোর জন্য কৃকৃষক নারী পুরুষ এখন বিপাকে রয়েছেন তারা সড়কের দু পাশে ঝুকিপূর্ণতা নিয়েও তারা কাচা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন যদিও সূর্যের আলো কিচুটা দেখা মিলেছে।কিন্তু আমরা সরকার বা কৃষি অধিদপ্তর থেকে কুন সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জসিম উদ্দিন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় হাওরে বুরো ধান ভালো হয়েছিল কিন্তু হঠাৎ টানা ভারি বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলের কারণে উপজেলার নদী দিয়ে হাকালুকি হাওরে পানি প্রবেশের কারণে বোরো ধান তলিয়ে যায়। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ শত ৯২ হেক্টর ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে যাদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে সে সব কৃষকদের নামের তালিকা করা হচ্ছে পরে সরকার থেকে বরাদ্ধ আসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ার একজন মানবিক, দূরদর্শী ও কর্মঠ প্রশাসকের বিদায়

হাওরের পানি কমলেও কমেনি কৃষকের আহাজারি

Update Time : 12:01:04 pm, Sunday, 3 May 2026

হাসান আল মাহমুদ রাজু : হাকালুকি হাওরজুড়ে এখন হাসিমুখে ধান কাটার উৎসব হওয়ার কথা ছিলো। সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে ওঠার কথা। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! সিলেট বিভাগের দিগন্তজোড়ে ফসলের মাঠ এখন অথৈ পানির নিচে। যে ধান গোলায় তুলে সারা বছরের অন্নের জন্য নিশ্চিন্ত হওয়ার কথা, সেই ধান এখন পানির নিচ। বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ ভারি হচ্ছে কৃষকের। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত হাওর এলাকায় দেখা গেছে কৃষকের হাহাকার। অনেক জায়গায় ধান কাটার সময়টুকুও দেয়নি অকাল বন্যায়। আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার চাষিরা। পানিতে ভিজে যাওয়া সেই ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে চরম শঙ্কা।

৩ মে সরজমিনে হাকালুকি হাওর পারের কৃষক আব্দুক কালাম (৬৫),আব্দুল হক (৫০),লিল মিয়া (৩৯)বাসির তালুকদার(৪৫)রেনু মিয়া (৪৯),তাজুল মিয়া(৫০)নামর মিয়া (৭০),রহমান মিয়া (ছইদ আলী (৪৫),হাজি মুক্তাদির(৬৪),চিনু মিয়া (৫৫),জয়নুল ইসলাম(৫০),নাজিম উদফিন (২৯) সহ আরো অনেকে বলেন, ‘আমাদের সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর ধার-দেনা করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু অকাল বন্যায় তা হারিয়ে গেছে। এখন পরিবারের (মূহে) মুখে কী দেব? আর ঋণই বা শোধ করব কীভাবে, সেই চিন্তায় (চউকে) চোখে (মুহে) মুখে ঘুম (নাই) নেই।’ এখন আমরা কিতা (খরতাম) করতাম রেবা। সরকারের প্রতি আমাদের যুরদাবী এলাকায় ধান কাটার মিশিন দেওয়ার জন্য।যাতে আমরা মিশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটতে পারি।১০০০ টাকা দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না কারন কেও এত পানির মাঝে ধান কাটতে চায় না।এবং ধান গুলো শুকানোর জন্য কৃকৃষক নারী পুরুষ এখন বিপাকে রয়েছেন তারা সড়কের দু পাশে ঝুকিপূর্ণতা নিয়েও তারা কাচা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন যদিও সূর্যের আলো কিচুটা দেখা মিলেছে।কিন্তু আমরা সরকার বা কৃষি অধিদপ্তর থেকে কুন সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জসিম উদ্দিন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় হাওরে বুরো ধান ভালো হয়েছিল কিন্তু হঠাৎ টানা ভারি বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলের কারণে উপজেলার নদী দিয়ে হাকালুকি হাওরে পানি প্রবেশের কারণে বোরো ধান তলিয়ে যায়। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ শত ৯২ হেক্টর ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে যাদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে সে সব কৃষকদের নামের তালিকা করা হচ্ছে পরে সরকার থেকে বরাদ্ধ আসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দেওয়া হবে।