10:30 am, Thursday, 11 June 2026

২ দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হাতে এলো ‘সোনার হরিণ’!

ডেস্ক রিপোর্ট :: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে পাওয়া টিকিট হাতে উচ্ছ্বাস।
‘শনিবার সকালে এসেছিলাম ২৭ তারিখের টিকিট কাটতে। সেদিন না পেয়ে পরের দিনের জন্য লাইনে দাঁড়াই। সেদিনও টিকিট পাইনি। দুই দিন পর আজকে টিকিট পেলাম। আনন্দ বলে প্রকাশ করার মতো নয়।’

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সোমবার সকালে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের যাত্রী আতাউর রহমান।

সোনার হরিণ হয়ে যাওয়া ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট হাতে পেয়ে দুই দিনের ক্লান্তি ভুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় আতাউরকে। একই অভিব্যক্তি তার মতো অনেকের।

কমলাপুরে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ দেয়া হচ্ছে ২৯ এপ্রিলের টিকিট। সকাল ৮টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কাউন্টার খোলা হয়। ওই সময় করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শত শত টিকিটপ্রত্যাশী। আগের দুই দিনের মতোই স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। অগ্রিম টিকিট পেতে রোববার থেকে শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন অনেকে। কারও অপেক্ষা আরও দীর্ঘ সময়ের। এত সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আজ ফল পেয়েছেন কয়েকজন।

তাদের একজন আতাউর বলেন, ‘সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতেই এত অপেক্ষা; কষ্ট সহ্য করা।’

নাজমুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘শনিবার থেকে অপেক্ষা করছি। নির্ঘুম রাত কেটেছে। আজকে টিকিট পেলাম। এখন বাসায় গিয়ে ঘুমাব।’

টিকিট পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত লাগছে। খুবই আনন্দিত আমি।’

দুই দিন অপেক্ষা করে টিকিট পেয়েছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাব। তাই শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পরে এসেছিলাম।

‘দুই দিন পরে মিলল টিকিট। দুই দিন পর হলেও অন্তত পেলাম। এতেই আমি দারুণ আনন্দিত।’

ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় শনিবার সকাল ৮টায়। ওই দিন দেয়া হয় ২৭ এপ্রিলের টিকিট। রোববার টিকিট দেয়া হয় ২৮ এপ্রিলের।

যাত্রীর চাপ কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ৫টি কেন্দ্রে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। স্থানগুলো হলো কমলাপুর, ঢাকা বিমানবন্দর, তেজগাঁও, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন)।

‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নিশ্চিত করতে যাত্রীদের এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কাউন্টারে প্রদর্শন করে টিকিট কিনতে হচ্ছে। একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারছেন।

ঈদের অগ্রিম বিক্রীত টিকিট ফেরত নেয়া হবে না।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের কৃষিপণ্য লুট ও পান গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন

২ দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হাতে এলো ‘সোনার হরিণ’!

Update Time : 07:35:42 am, Monday, 25 April 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে পাওয়া টিকিট হাতে উচ্ছ্বাস।
‘শনিবার সকালে এসেছিলাম ২৭ তারিখের টিকিট কাটতে। সেদিন না পেয়ে পরের দিনের জন্য লাইনে দাঁড়াই। সেদিনও টিকিট পাইনি। দুই দিন পর আজকে টিকিট পেলাম। আনন্দ বলে প্রকাশ করার মতো নয়।’

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সোমবার সকালে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের যাত্রী আতাউর রহমান।

সোনার হরিণ হয়ে যাওয়া ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট হাতে পেয়ে দুই দিনের ক্লান্তি ভুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় আতাউরকে। একই অভিব্যক্তি তার মতো অনেকের।

কমলাপুরে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ দেয়া হচ্ছে ২৯ এপ্রিলের টিকিট। সকাল ৮টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কাউন্টার খোলা হয়। ওই সময় করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শত শত টিকিটপ্রত্যাশী। আগের দুই দিনের মতোই স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। অগ্রিম টিকিট পেতে রোববার থেকে শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন অনেকে। কারও অপেক্ষা আরও দীর্ঘ সময়ের। এত সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আজ ফল পেয়েছেন কয়েকজন।

তাদের একজন আতাউর বলেন, ‘সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতেই এত অপেক্ষা; কষ্ট সহ্য করা।’

নাজমুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘শনিবার থেকে অপেক্ষা করছি। নির্ঘুম রাত কেটেছে। আজকে টিকিট পেলাম। এখন বাসায় গিয়ে ঘুমাব।’

টিকিট পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত লাগছে। খুবই আনন্দিত আমি।’

দুই দিন অপেক্ষা করে টিকিট পেয়েছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাব। তাই শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পরে এসেছিলাম।

‘দুই দিন পরে মিলল টিকিট। দুই দিন পর হলেও অন্তত পেলাম। এতেই আমি দারুণ আনন্দিত।’

ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় শনিবার সকাল ৮টায়। ওই দিন দেয়া হয় ২৭ এপ্রিলের টিকিট। রোববার টিকিট দেয়া হয় ২৮ এপ্রিলের।

যাত্রীর চাপ কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ৫টি কেন্দ্রে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। স্থানগুলো হলো কমলাপুর, ঢাকা বিমানবন্দর, তেজগাঁও, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন)।

‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নিশ্চিত করতে যাত্রীদের এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কাউন্টারে প্রদর্শন করে টিকিট কিনতে হচ্ছে। একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারছেন।

ঈদের অগ্রিম বিক্রীত টিকিট ফেরত নেয়া হবে না।