2:05 am, Monday, 30 March 2026

ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চায় সফল জাতি গঠনের প্রত্যাশা ডেপুটি স্পিকারের

ডেস্ক রিপোর্ট : ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের (যুক্তরাজ্যভিত্তিক) গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজীবন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করায় খালেদা জিয়াকে তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে এ অভ্যুত্থান গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহীদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান এবং আহত হয়ে যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)-এর ঐতিহাসিক ভাষণ উদ্ধৃত করে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমি সঠিক থাকলে আপনারা আমাকে সাহায্য করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন।’ এই মহান উক্তির প্রতিধ্বনি করে তিনি সংসদ সদস্যদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।

গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ।

এক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।

সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ০৩টি জ্বালানি তেলের ডিপোতে ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন

ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চায় সফল জাতি গঠনের প্রত্যাশা ডেপুটি স্পিকারের

Update Time : 10:21:14 am, Sunday, 29 March 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের (যুক্তরাজ্যভিত্তিক) গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজীবন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করায় খালেদা জিয়াকে তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে এ অভ্যুত্থান গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহীদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান এবং আহত হয়ে যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)-এর ঐতিহাসিক ভাষণ উদ্ধৃত করে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমি সঠিক থাকলে আপনারা আমাকে সাহায্য করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন।’ এই মহান উক্তির প্রতিধ্বনি করে তিনি সংসদ সদস্যদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।

গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ।

এক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।

সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।