স্টাফ রিপোটার: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়ন কঠোর নিরাপত্তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মোতায়েন করা হয়েছে ১২.৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। শুক্রবার বিকেলে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. আতাউর রহমান সুজন জুড়ী টিএন খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজ বেইজ ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে বিজিবির গৃহীত নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তোলে ধরেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে লে. কর্ণেল মো. আতাউর রহমান সুজন জানান, বিজিবি-৫২ (বিয়ানীবাজার) ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্ভুক্ত বড়লেখা, জুড়ী, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ মোট ৪টি উপজেলার ৩০৫টি ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২.৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব কার্যকর ও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৪টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যেখান থেকে বিজিবি সদস্যরা স্থায়ী ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা সমূহে বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং অন্যান্য এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, যানবাহন ও আধুনিক সরঞ্জামসহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বেইজ ক্যাম্প কেন্দ্রিক নিয়মিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোডবøক স্থাপন এবং চেকপোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুলাংশে জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে ভোটকেন্দ্র সমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অপারেশন ডেভিল হান্ট (ফেইজ-২) এর আওতায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করছে।অধিনায়ক আরো জানান, বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধীন ১৫টি বিওপির আওতাভুক্ত ১১৩.৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সকল প্রকার সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, ২৯ জানুয়ারি থেকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, পাইপ গান, নাশকতামূলক সরঞ্জাম ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। যার ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতামূলক তৎপরতা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনা এবং বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়ন (বিয়ানীবাজার) সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, রিজিয়ন সদর দপ্তর সরাইল দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বোপরি জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবিধান ও আইনের আলোকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ভবিষ্যতেও দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করে যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























