বড়লেখা প্রতিনিধি : বড়লেখায় পবিত্র ঈদ সামনে রেখে চোরাকারবারিরা তৎপর হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে ভারতীয় মোটরসাইকেল, মসলা, মাদক ও গরু-মহিষ পাচার ওপেন-সিক্রেট ব্যাপার। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লাইন মেন্টেইন করে স্মাগলাররা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বিজিবি বিওপি টিলা বিওপির টহলদল একটি ভারতীয় অবৈধ মহিষের চালান আটক করেছে। জব্দ মহিষগুলো কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
বিজিবি-সহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখায় ভারতের সঙ্গে অর্ধশতাধিক কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর বেশিরভাগই অত্যন্ত দুর্গম ও গভীর জঙ্গলে ঘেরা এবং উভয়পার্শে রয়েছে চা বাগান। অধিকাংশ এলাকায় নেই কাটাতারের বেড়া। জিওগ্রাফিকেল সুবিধার সুযোগে চোরাকারবারিরা বড়লেখা সীমান্তের কুমাইরসাইল, বোবারথল, ডিমাই, পাল্লারথল, আতুয়া-সহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে গরু-মহিষ, মোটরসাইকেল, মাদক ও মসলা জাতীয় পণ্য পাচার করছে। ঈদকে সামনে রেখে ভারত থেকে অবৈধ পথে সবচেয়ে বেশি আসছে মাদক, মসলা ও মহিষের চালান। মহিষ চোরাকারবারিরা হাকালুকি হাওরকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে সেখানে চোরাই মহিষ মজুদ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। মহিষের চালান হাকালুকি হাওরে নিয়ে গেলেই যেন নিরাপদ। গত দুই মাসে হাকালুকি হাওরে অন্তত সহ¯্রাধিক অবৈধ ভারতীয় মহিষ মজুদ করে পাচার করা হয়েছে। বিজিবি সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালালেও শেষ পর্যন্ত মাঝ পথ থেকে অভিযান ব্যাক করতে হয়।
বৃহস্পতিবার একটি অবৈধ ভারতীয় মহিষের চালান সীমান্ত অতিক্রম করে হাকালুকি হাওরে নেওয়ার সময় বিজিবি বিওসি টিলা বিওপির সদস্যরা চালানটির পিছু নেয়। পায়ের চাপ ফলো করে ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে বিশেষ টহলদল ভোররাত চারটার দিকে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বিছরাবাজার এলাকার হাসানের বাড়ির গেটের নিকট থেকে ৮টি ভারতীয় অবৈধ মহিষ আটক করে। সকালে মহিষগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিজিবি।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়লেখার উপজেলার বিওসি টিলা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুস সামাদ জানান, সীমান্ত থেকে মহিষের পায়ের চাপ দেখে দেখে বিছরাবাজার গ্রামের হাসানের বাড়ির সামনে থেকে ৮টি অবৈধ ভারতীয় মহিষ আটক করেন। দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারিরা ভারতীয় মহিষ পাচার করে হাকালুকি হাওরে নিয়ে বিভিন্ন জলমহালে রেখে দেয়। পরে সেখান থেকে পাচার করে। ওই মহিষগুলোও হাকালুকি নেওয়া হচ্ছিল। জব্দ মহিষগুলো কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















