ডেস্ক রিপোর্ট : বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে ভর্তুকি মূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবারের রমজান মাস জুড়ে মৌলভীবাজার জেলায় ৪০ হাজার উপকারভুগীর কাছে ডিলারদের মাধ্যমে ট্রাক সেলে পৌঁছে দিচ্ছে খেজুর, ছোলা, চিনি, ভোজ্য তেল ও ডাল সহ ৫টি ভোজ্য পণ্য। এর জন্য সদর উপজেলার শেরপুরে অবস্থিত টিসিবির সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ৫টি খাদ্য গুদামে মজুদ করা হয়েছে মোট ৩ হাজার ২শত মেট্রিক টন খাদ্য পণ্য। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও নিরবিচ্ছিন্ন পণ্য সর্বরাহ নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ রয়েছে গুদাম গুলোতে।
এর আগে চলতি মাসের ১৭ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর একদিন আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মৌলভীবাজার শহর সহ পুরো জেলায় ৫টি ট্রাক সেলের মাধ্যমে টিসিবির এই পণ্য বিক্রি শুরু হয়। মৌলভীবাজার জেলায় টিসিবির পণ্য সেবার ক্ষেত্রে কার্ডদারীদের পাশাপাশি আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত ট্রাক সেলও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সহ ৪ জেলায় ৩০টি ট্রাক সেলে পণ্য বিক্রি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় ৫টি ট্রাক সেলের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য বিক্রি চলমান রয়েছে। এই ৫ টি ট্রাকের মধ্যে প্রতি ট্রাকে ৪শ উপকারভুগীর জন্য পণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। শুধু মৌলভীবাজার জেলায় ২ হাজার উপকারভুগী প্রতিদিন টিসিবি পণ্য সেবা পাচ্ছেন। চলমান এই কর্মসূচি ১৭ ফেব্রুয়ারির থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ২০ দিন ব্যাপী চলমান থাকবে বলে টিসিবির দ্বায়িত্বশীল সূত্র জানায়।
টিসিবি জানিয়েছে প্রতিটি ট্রাক সেলে দরিদ্র থেকে ধনি সব শ্রেনীর মানুষই পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে। একজন উপকারভুগী ট্রাক সেল থেকে ২ কেজি ছোলা, ২ লিটার ভোজ্য তেল,১ কেজি মশুর ডাল, কেজি চিনি ও ১ কেজি খেজুর ক্রয় করতে পারবেন। যার প্রতিটি প্যাকেজ মূল্য দাঁড়াবে ৫৯০ টাকা করে।
সাধারণত টিসিবির পণ্যগুলো সরকারের নিয়োগ দেয়া ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে ডিলারদের কেউ কেউ টিসিবি পণ্য নিয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে থাকেন এমন অভিযোগেরও গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে সমস্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টিসিবি সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. সোহেল রানা। তিনি জানান, কালোবাজারী অনিয়ম রোধে ডিলারদের সর্বরাহ করা পণ্যর পরিমান জানিয়ে দেয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের। যাতে করে কোন ডিলার পণ্য কালোবাজারে বিক্রি না করতে পারে।
জানা গেছে মৌলভীবাজার জেলায় শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন ব্যতিত প্রতিদিন ৫টা করে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ২ হাজার উপকারভুগীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে টিসিবির এসব খাদ্য পণ্য। জেলায় প্রতিদিন ২ হাজার উপকারভুগী টিসিবি পণ্য ক্রয় করায় এর কিছুটা প্রভাব বাজারে পড়েছে বলে দাবি টিসিবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাদের দাবি এতে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা কঠিন চাপের মধ্যে রয়েছেন। তবে বাজারে বাস্তবে এর কোন প্রভাব পড়েনি।
টিসিবি সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক সোহেল রানা বলেন, টিসিবি সবসময়ই রমজানকে আলাদাভাবে ফোকাস করে। রমজানে দ্রব্য মূল্য যে একেবারে হুঁহুঁ করে বেড়ে যাবে তা কিন্ত সম্ভাবনা খুবই কম। কাজেই রমজানে আমার ধারণা বাজার স্থিতিশীল থাকবে, সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষমত্রা মধ্যে থাকবে দ্রব্যমূল্য।
এদিকে সরেজমিন টিসিবি বিভাগীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় পণ্য উঠা-নামার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। কিছুক্ষণ পরপর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার ডিলাররা পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপে করে পণ্য নিয়ে ছুটছেন তাদের গস্তব্যে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















