বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অধীন বাংলাদেশ টি বোর্ড নিয়ন্ত্রিত নিউ সমনবাগ চা বাগান, পাথারিয়া চা বাগান ও সমনবাগের মোকাম সেকশনের ৯৪ জন কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের অন্যায় নির্দেশটি অবশেষে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ১৭ ফেব্রæয়ারিই তা স্থগিত করতে বাগান ব্যবস্থাপককে জানানো হয়। এদিকে শ্রম অধিদপ্তরের (শ্রীমঙ্গল) হস্তক্ষেপে এদের দীর্ঘদিনের আটকে থাকা বেতন-ভাতা ও মজুরি পরিশোধ করেছে চা বাগান কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাতে ‘দি বাংলাদেশ টুডে’ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘বড়লেখায় চা বাগানের ৯৪ শ্রমিক-কর্মচারির বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপা হলে বাংলাদেশ চা বোর্ডে চেয়ারম্যান-সহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন মহলের নজরে আসে অমানবিক ঘটনাটি। এরপরই মামলা দায়েরের কার্যক্রম স্থগিত করে বাগান কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ১৩ জানুয়ারি চা বাগান শ্রমিক ও অডিট টিমের লোকজনের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্ঠি হয়। নারী শ্রমিকদের কটুক্তির জেরে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অডিট টিমকে বাগানে অবরুদ্ধ করে রাখে। চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির খবর পেয়ে ইউএনও, থানার ওসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে যান। দীর্ঘ চেষ্ঠায় তারা বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন। এর আগে অডিট টিমের প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম শ্রমিকদের সাথে অডিট টিমের কয়েকজন সদস্যের অসৌজন্যমুলক আচরণের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে ভুলববুঝাবুঝির ঘটনাটির এক মাস পর ১৬ ফেব্রæয়ারি চা বোর্ডের সচিব মো. মমিনুর রশীদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৩ জানুয়ারি বিশৃঙ্খলা সৃষ্ঠির অভিযোগে সহকারি ববস্থাপক রাজ নারায়ন পাল, করণিক রামসুজন ভর, ষ্টোর ক্লার্ক শ্রীকুমার, হেডক্লার্ক এসএম শাহিন, টিলা ক্লার্ক দীপক কুর্মি, কামাল হোসেন, সঞ্জিত রবিদাস, স›িদ্বপ সিংহ, টিলা স্টাফ জিতেন, নিখিল সাঁওতাল, অজিত রবি দাস, মোহন রিকমুন-সহ ৯৪ জন কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারি ও পুষ্যের বিরুদ্ধে ১৭ ফেব্রæয়ারির মধ্যে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইমদাদ-উর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই খবরে ফুঁসে উঠে হাজার শ্রমিক-কর্মচারি। নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুও টি বোর্ডে বার্তা পাঠান তিনি এলাকায় ফেরা পর্যন্ত যেন কারো বিরুদ্ধে মামলা করা না হয়।
নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) ইমদাদ-উর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, ১৭ ফেব্রæয়ারি মধ্যে মামলা দায়েরের নির্দেশটি ওইদিনই স্থগিত করা হয়। জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে বুধবার বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের (শ্রীমঙ্গল) উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইন মালিকপক্ষ ও শ্রমিক-কর্মচারির দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের সমঝোতায় বৃহস্পতিবার সহকারি ব্যবস্থাপক-সহ ৮৪ জন শ্রমিক-কর্মচারির এক মাস আটকে রাখা বেতন-ভাতা ও মজুরির ৭ লাখ ৭৮ হাজার ১০৪ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের (শ্রীমঙ্গল) উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইন জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে তিনি বাগান মালিকপক্ষ ও শ্রমিক-কর্মচারির মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেন। বুধবার তার কার্যালয়ে উভয়পক্ষের দ্বি-পাক্ষিক আলোচনায় মালিকপক্ষ বাগানের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও মজুরি পরিশোধে সম্মত হয়েছে।
দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) নিপেন পাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট পংকজ কন্দ, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান, জুড়ী ভ্যালীর সভাপতি কমল বোর্নাজী, সাধারণ সম্পাদক রতন পাল প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















