বড়লেখা প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের কারণে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের চরগ্রাম-শাহবাজপুর জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী। অবশেষে স্থানীয়দের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে চলাচলের ভোগান্তির অবসান হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন বন্ধ রয়েছে। এই রেললাইনের পাশ দিয়ে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের চরগ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি ছিল। বর্তমানে রেললাইনের পুনর্বাসনের কাজ চলমান রয়েছে। রেলপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণের ফলে চরগ্রাম-শাহবাজপুর সড়কটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন প্রথম দফায় টিআর প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন কাজ শুরু না করায় ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। পরে এলাকাবাসী পুনরায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করলে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুক উদ্দিন ও চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিনের মাধ্যমে কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসী হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই অবস্থায় এলাকার লোকজন নিজেদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে রাস্তাটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত এলাকার মানুষের সহযোগিতায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে ওই অর্থ দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাটি ভরাটের সময় রেললাইন প্রকল্পের সুপারভাইজার সুলতান আহমদ কাজ বন্ধের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্নভাবে বাধা দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরীর হস্তক্ষেপে কাজটি সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান শামীম বলেন, রেললাইনের কাজে আমাদের গ্রামের রাস্তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। দুই বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘুরেছি। নামমাত্র বরাদ্দ এলেও ঠিকমতো কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেরাই অর্থ তুলে রাস্তা সংস্কার করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, গ্রামবাসীর আবেদনের পর সরেজমিন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার মাটি ভরাট করা হয়েছে। গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিগগিরই আমি সড়কটি পরিদর্শন করব।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















