11:55 pm, Sunday, 7 June 2026

বিশ্বমঞ্চে মৌলভীবাজারের গর্ব: ফিফা বিশ্বকাপে অফিশিয়াল দায়িত্ব পেলেন সুমাইয়া আহমেদ রিদি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ গড়াতে বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া রেকর্ড ৪৮ দেশের এই ঐতিহাসিক মেগা আসরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর এই বিশ্বমঞ্চেই বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য ও গৌরবময় খবর বয়ে নিয়ে এসেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তান সুমাইয়া আহমেদ রিদি। অত্যন্ত কড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

যৌথ আয়োজক তিন দেশের মধ্যে কানাডার ঐতিহ্যবাহী টরন্টো ভেন্যুতে অফিশিয়াল প্রতিনিধি ও অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত থাকবেন রিদি। বিশ্বমঞ্চের এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তার এমন অন্তর্ভুক্তি কুলাউড়া তথা পুরো সিলেট অঞ্চলের জন্য এক মস্ত বড় গৌরব।

কানাডার টরন্টোতে সপরিবারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সুমাইয়া আহমেদ রিদি শিক্ষার আলো ছড়ানো এক চেনা পরিবারের সন্তান। তিনি কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক ইংরেজি প্রভাষক শাহিন আহমদ এবং প্রাইমারি স্কুলের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যা। বাবা-মায়ের যোগ্য সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবার নিজ এলাকার নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সুযোগ পাওয়াটা কেবলই ভাগ্যের ব্যাপার নয়, বরং নিজের চোখধাঁধানো যোগ্যতার বলেই তা অর্জন করেছেন রিদি। তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে বাংলা, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, কোরিয়ান এবং হিন্দি এই ৫টি ভাষায় কথা বলতে পারেন। বিশেষ করে কানাডার অন্যতম প্রধান দাপ্তরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ (ফরাসি) তাঁর দারুণ প্রিয় এবং এই ভাষায় তিনি অত্যন্ত দক্ষ।

এই বহুভাষী ও অসামান্য নেতৃত্ব গুণের (Leadership Skill) কারণেই টরন্টো সিটিতে আগত বিভিন্ন দেশের হাই-প্রোফাইল অতিথি, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রফেশনাল গাইডলাইন দেওয়া এবং দেখভালের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে রিদির ওপর।

ফিফা বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার আগে থেকেই কানাডার মাটিতে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন রিদি। তিনি ‘ইলেকশন কানাডা’ (Election Canada) এবং ‘ইলেকশন অন্টারিও’ (Election Ontario)-র অধীনে একাধিক নির্বাচনে অত্যন্ত সফলতার সাথে ‘প্রিসাইডিং অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যেকোনো জটিল পরিস্থিতি বা দলগত কাজ কীভাবে ঠান্ডা মাথায় সামলাতে হয়, সেই প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা তাঁর দারুণভাবে জানা আছে।

ফিফা ভলান্টিয়ারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়াসহ আন্তর্জাতিকমানের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে থাকে। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বের শীর্ষ ফুটবলারদের একদম কাছ থেকে দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন রিদি। স্বেচ্ছাসেবীদের গুরুত্ব নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন:
স্বেচ্ছাসেবীরা ফিফা টুর্নামেন্টের হৃদয়, প্রাণ ও হাসি। তারা নিজেদের পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে, টুর্নামেন্টের অন্তরালের দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় এবং এমন সব স্মৃতি তৈরি করে, যা আজীবন থেকে যায়।
সুদূর প্রবাসে থাকলেও রিদির মন পড়ে আছে দেশের মাটিতেই। তিনি জানান, অনেক সময় প্রবাসে বাংলাদেশিদের অন্য দেশের নাগরিক বলে ভুল করা হয়, কিন্তু তারা এই ধারণা ভেঙে দিতে চান। রিদি বলেন, ফিফা বিশ্বকাপের মতো এতো বড় গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সময় তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে বিশ্ববাসীর কাছে নিজের প্রিয় বাংলাদেশ, নিজের চেনা সিলেট এবং কুলাউড়াকে রিপ্রেজেন্ট করবেন।

খুব কম বয়সে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা সুমাইয়া রিদি আজ তরুণ প্রজন্মের জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর এই অর্জনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলায় বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরতে যাওয়া রিদির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ডেঙ্গু পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশ্বমঞ্চে মৌলভীবাজারের গর্ব: ফিফা বিশ্বকাপে অফিশিয়াল দায়িত্ব পেলেন সুমাইয়া আহমেদ রিদি

Update Time : 11:17:10 am, Sunday, 7 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ গড়াতে বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া রেকর্ড ৪৮ দেশের এই ঐতিহাসিক মেগা আসরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর এই বিশ্বমঞ্চেই বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য ও গৌরবময় খবর বয়ে নিয়ে এসেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তান সুমাইয়া আহমেদ রিদি। অত্যন্ত কড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

যৌথ আয়োজক তিন দেশের মধ্যে কানাডার ঐতিহ্যবাহী টরন্টো ভেন্যুতে অফিশিয়াল প্রতিনিধি ও অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত থাকবেন রিদি। বিশ্বমঞ্চের এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তার এমন অন্তর্ভুক্তি কুলাউড়া তথা পুরো সিলেট অঞ্চলের জন্য এক মস্ত বড় গৌরব।

কানাডার টরন্টোতে সপরিবারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সুমাইয়া আহমেদ রিদি শিক্ষার আলো ছড়ানো এক চেনা পরিবারের সন্তান। তিনি কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক ইংরেজি প্রভাষক শাহিন আহমদ এবং প্রাইমারি স্কুলের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যা। বাবা-মায়ের যোগ্য সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবার নিজ এলাকার নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সুযোগ পাওয়াটা কেবলই ভাগ্যের ব্যাপার নয়, বরং নিজের চোখধাঁধানো যোগ্যতার বলেই তা অর্জন করেছেন রিদি। তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে বাংলা, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, কোরিয়ান এবং হিন্দি এই ৫টি ভাষায় কথা বলতে পারেন। বিশেষ করে কানাডার অন্যতম প্রধান দাপ্তরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ (ফরাসি) তাঁর দারুণ প্রিয় এবং এই ভাষায় তিনি অত্যন্ত দক্ষ।

এই বহুভাষী ও অসামান্য নেতৃত্ব গুণের (Leadership Skill) কারণেই টরন্টো সিটিতে আগত বিভিন্ন দেশের হাই-প্রোফাইল অতিথি, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রফেশনাল গাইডলাইন দেওয়া এবং দেখভালের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে রিদির ওপর।

ফিফা বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার আগে থেকেই কানাডার মাটিতে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন রিদি। তিনি ‘ইলেকশন কানাডা’ (Election Canada) এবং ‘ইলেকশন অন্টারিও’ (Election Ontario)-র অধীনে একাধিক নির্বাচনে অত্যন্ত সফলতার সাথে ‘প্রিসাইডিং অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যেকোনো জটিল পরিস্থিতি বা দলগত কাজ কীভাবে ঠান্ডা মাথায় সামলাতে হয়, সেই প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা তাঁর দারুণভাবে জানা আছে।

ফিফা ভলান্টিয়ারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়াসহ আন্তর্জাতিকমানের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে থাকে। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বের শীর্ষ ফুটবলারদের একদম কাছ থেকে দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন রিদি। স্বেচ্ছাসেবীদের গুরুত্ব নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন:
স্বেচ্ছাসেবীরা ফিফা টুর্নামেন্টের হৃদয়, প্রাণ ও হাসি। তারা নিজেদের পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে, টুর্নামেন্টের অন্তরালের দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় এবং এমন সব স্মৃতি তৈরি করে, যা আজীবন থেকে যায়।
সুদূর প্রবাসে থাকলেও রিদির মন পড়ে আছে দেশের মাটিতেই। তিনি জানান, অনেক সময় প্রবাসে বাংলাদেশিদের অন্য দেশের নাগরিক বলে ভুল করা হয়, কিন্তু তারা এই ধারণা ভেঙে দিতে চান। রিদি বলেন, ফিফা বিশ্বকাপের মতো এতো বড় গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সময় তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে বিশ্ববাসীর কাছে নিজের প্রিয় বাংলাদেশ, নিজের চেনা সিলেট এবং কুলাউড়াকে রিপ্রেজেন্ট করবেন।

খুব কম বয়সে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা সুমাইয়া রিদি আজ তরুণ প্রজন্মের জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর এই অর্জনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলায় বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরতে যাওয়া রিদির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।