1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  • E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
করোনা আপডেট : ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ জনরে মৃত্যু, শনাক্ত ২ হাজার ৩২৫

সরকারের বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: কুলাউড়ায় ২নিকাহ রেজিস্টারের বিরুদ্ধে চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ৯৪০ বার পঠিত

কুলাউড়া প্রতিনিধি : কুলাউড়া উপজেলায় দুই নিকাহ রেজিস্টারের বিরুদ্ধে চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২২ জুন মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত দুই কাজী ফজলুল হক খান শাহেদ ও কাজী জাকির হোসেন উপস্থিত না হওয়াতে আগামী ২৯ জুন তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ১৫জুন অভিযুক্ত দুই কাজী ফজলুল হক খান শাহেদ ও জাকির হোসেনকে অভিযোগের তদন্তের জন্য নোটিশ প্রদান করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা সাব-রেজিস্টার মো. মোসারফ হোসেন চৌধুরী।
জেলা রেজিস্টার বরাবরে কুলাউড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হাফিজ বদরুল ইসলামের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার ৫, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফজলুল হক খাঁন শাহেদ। কুলাউড়া পৌরসভা একটি এ গ্রেডের পৌরসভা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোন এ গ্রেডের পৌরসভায় ২ ওয়ার্ডের অধিক কোন ওয়ার্ডে নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। নিকাহ রেজিস্টারের পাশাপাশি গত ৭ বছর থেকে তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে। তাছাড়া নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারের পাশাপাশি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারি যে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ সনের ২৪ নং আইন এর ধারা ২ এর (ঙ) তে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না কিংবা ভাইস চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। কিন্তুু ফজলুল হক খান শাহেদ ৭ বছর থেকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন ২০০৯, (১৯৭৪) এর ১৪ এ উল্লেখিত নিয়মানুসারে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় এক ব্যক্তি দুই ওয়ার্ডের অধিক ওয়ার্ডের কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
এদিকে জেলা রেজিস্টার বরাবরে কুলাউড়া শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির জনস্বার্থে করা আরেকটি অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কর্মরত নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন সরকারি চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে পাশ^বর্তী জুড়ী উপজেলার শাহপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন যা সরকারি চাকুরি বিধিমালা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মুসলিম পারিবারিক আইনের ২০ নং ধারামূলে কোন নিকাহ রেজিস্টার তাহাকে যে এলাকার জন্য কাজী নিযুক্ত করা হয়েছে সেই এলাকার বাইরে অন্য কোন উপজেলায় সরকারী/আধা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে সবেতনে চাকুরী করতে পারবেন না। কিন্তুু কাজী জাকির হোসেন কুলাউড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাজীর দায়িত্বের পাশাপাশি জুড়ী উপজেলার শাহপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতনভাতা গ্রহণ করছেন। অভিযোগকারিরা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এদিকে জেলা রেজিস্টারের কাছে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কুলাউড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টারকে নির্দেশনা প্রদান করেন জেলা রেজিস্টার।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুলাউড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার মো. মোসারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, গত মঙ্গলবারে নির্ধারিত সময়ে অভিযুক্তরা উপস্থিত না হওয়াতে তদন্তের নতুন তারিখ দেয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা যথাসময়ে উপস্থিত থাকলে তদন্ত কাজ অনুষ্ঠিত হবে। যদি উপস্থিত না হন তাহলে লকডাউন পরিস্থিতি বিবেচনা করে তদন্তের নতুন তারিখ দেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার এক পর্যায়ে তিনি ফোন রিসিভ করে নানা টালবাহানা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..