1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার জন্মদিন আজ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪
  • ৩৬ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট :: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী তিনি। বহু বছর অভিনয়ের বাইরে। তবুও তার নামটি এখনো সমানভাবে উচ্চারিত হয়। তিনি শাবানা। দেশের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকা করলে এখনো তার নামটিই সবার উপরেই রাখতে হবে।

আজ শনিবার এই নামজাদা অভিনেত্রীর জন্মদিন। ৭২ পেরিয়ে ৭৩ বছরে পা দিয়েছেন সত্তর ও আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই নায়িকা।

১৯৫৩ সালের ১৫ জুন শাবানার জন্ম হয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে। বাবার নাম ফয়েজ চৌধুরী, যিনি একজন টাইপিস্ট ছিলেন। মা ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। শাবানা ঢাকার গেন্ডারিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হলেও তার পড়ালেখা ভালো লাগত না। সে কারণে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে মাত্র ৯ বছর বয়সে।

শাবানার জন্ম নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। কিন্তু এই নামে চলচ্চিত্র জগতের তেমন কেউই তাকে চেনেন না বা চিনবেনও না। সবার কাছে তিনি শাবানা নামেই পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রের একটি আজন্ম ব্র্যান্ড এই নামটি। কিন্তু আফরোজা সুলতানা রত্না থেকে তিনি কীভাবে হলেন শাবানা?

চলচ্চিত্রকার এহতেশাম ছিলেন অভিনেত্রীর চাচা। বাবার খালাতো ভাই। তার মাধ্যমেই শাবানার চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে। ১৯৬২ সালে ১১ বছরে বয়সে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ‘রত্না’ নামে। ১৯৬৬ সালে উর্দু ছবি ‘চকোরী’তে রত্না থেকে তিনি হয়ে যান শাবানা।

বাবা ফয়েজ চৌধুরী মেয়ে রত্নাকে নিয়ে প্রায়ই এফডিসিতে যেতেন। চলচ্চিত্রকার এহতেশাম তখন ‘নতুন সুর’ নামে একটি ছবির কাজ করছেন। সেটা ছিল ১৯৬১ সালের কথা। একজন শিশুশিল্পী দরকার ছিল সেখানে। শিশু রত্নাকে দেখে এহতেশাম পছন্দ করলেন। এভাবেই ‘নতুন সুর’ ছবিতে প্রথম অভিনয় জীবন শুরু হলো শাবানার।

তবে এরও অনেক পরে ১৯৬৬ সালে ‘চকোরী’ ছবি থেকে তার রত্না নাম পাল্টে নতুন নাম রাখা হলো শাবানা। ‘শাবানা’ নামটি দিলেন চলচ্চিত্র এহতেশাম নিজেই। নায়িকা হওয়ার আগে শাবানা শিশু অভিনেত্রী হিসেবে ‘তালাশ’, ‘সাগর’, ‘ভাইয়া’ ছবিতে অভিনয় করেন। নায়িকা হিসেবে তার অভিনয় শুরু ১৯৬৬ সালে ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ছবিতে।

ওই ছবিতে সোনাভানের ভূমিকায় ছিলেন শাবানা। তার নায়ক ছিলেন কাসেম। ‘চকোরী’ ছবিতে কাজ করার আগে ‘জংলী মেয়ে’ ছবির কাজ শুরু করেন তিনি। ‘জংলী মেয়ে’ ছবিতে তার নায়ক ছিলেন আজিম। ‘চকোরী’ মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। নায়ক ছিলেন নাদিম। এই ছবিতে শাবানা ও নাদিমের অসম্ভব নাম হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে নায়িকা হিসেবে চাঁদ আওর চাঁদনী, ভাগ্যচক্র ও কুলীতে; ১৯৬৯ সালে দাগ, মুক্তি; ১৯৭০ সালে পায়েল, সমাপ্তি, ছদ্মবেশী, বাবুল, মধুমিলন এবং একই অঙ্গে এত রূপ ছবিতে অভিনয় করেন।

স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত ছবি ‘ওরা এগারোজন’-এ অভিনয় করেন শাবানা। ওই বছরই ‘অবুঝ মন’ ছবিতে অভিনয় করে সারাদেশে অসম্ভব খ্যাতি পেলেন। ১৯৭২ সালে এ দুটি ছবিসহ তার আরও ছয়টি ছবি রিলিজ হয়। সেগুলো হলো—সমাধান, ছন্দ হারিয়ে গেল, এরাও মানুষ, মুন্না আওর বিজলী, চৌধুরী বাড়ি এবং স্বীকৃতি।

১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত শাবানা অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে কয়েকটি হলো— ফকির মজনু শাহ, চাষার মেয়ে, উৎসর্গ, মায়ার বাঁধন, আগুন, সোহাগ, মাটির ঘর, বধূ বিদায়, দুই পয়সার আলতা, লালুভুলু, ভাত দে, লাল কাজল প্রভৃতি। পাকিস্তান আমলে উর্দু ছবিতে নাদিমের সঙ্গে অভিনয় করে সফল হয়েছিলেন শাবানা। রাজ্জাক, ওয়াসিম, আলমগীরের সঙ্গেও শাবানার জুটি ছিল হিট।

শাবানা একবার জানিয়েছিলেন, রাজ্জাক ও আমি জুটি হিসেবে যখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে, ঠিক তখনই আলমগীরের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হলাম। সামাজিক ছবিতে আমরা সফল হয়েছিলাম। আমার ক্যারিয়ার গঠনে অনেক পরিচালকের অবদান রয়েছে। এহতেশাম চাচা যদি সুযোগ না দিতেন তাহলে হয়তো ‘শাবানা’ হতে পারতাম না। সামাজিক চরিত্রে নতুন ইমেজে আমাকে পরিচিত করার ব্যাপারে কাজী জহির, মমতাজ আলী, কামাল আহমেদের অবদান কোনো দিন মন থেকে সরে যাবে না।

১৯৬৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত শাবানা ঢাকার ফিল্মে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কয়েকশ’ ছবির নায়িকা ছিলেন। পোশাকী, সামাজিক, অ্যাকশন সব ছবিতেই তিনি সফল হয়েছিলেন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কয়েকশ’ বাংলা ছবির নায়িকা ও কেন্দ্রীয় চরিত্রে শাবানা অভিনয় করেন। জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন রেকর্ড ১১ বার। এর মধ্যে ৯টিই সেরা অভিনেত্রী বিভাগে। একটি প্রযোজক হিসেবে এবং আরেকটি আজীবন সম্মাননা।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় ১৯৯৮ সালে শাবানা চলচ্চিত্র জগত থেকে বিদায় নিয়ে স্বামী প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক এবং তিন সন্তানকে নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান। বহু বছর ধরে তিনি সেখানকারই বাসিন্দা। দেশে আসেন কালেভদ্রে। তবুও শাবানা নামটি এখন পর্যন্ত দর্শকের মুখে মুখে। এ জন্যই শাবানা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একজন কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন আজীবন।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..