1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

কুলাউড়ায় ২০ দিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪
  • ১৫০ বার পঠিত

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া  : ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এখনো মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওর তীরবর্তী এলাকার ভূকশিমইল, কাদিপুর, জয়চন্ডী, ভাটেরা, বরমচাল আংশিক এলাকায় পানিবন্দি রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার। এতে করে দিন দিন তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে বন্যার পানি ক্রমশই বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২০ দিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলার প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা। ঢলের প্রবল স্রোতে ভেঙেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট।
শনিবার (৬ জুলাই) সরেজমিন পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা কৃষি অফিস, নির্বাচন অফিস, মহিলা বিষয়ক অফিস, সাব-রেজিস্টার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সমবায়, জনস্বাস্থ্য এবং পল্লী উন্নয়নসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়স্থ পুরো প্রশাসনিক ভবন পানিবন্দি। এখানকার আবাসিক এলাকার রাস্তায় গত ২০ দিন ধরে হাঁটু সমান পানি। কেউ কোনো যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় সেবাগ্রহিতা মানুষেরও ভিড় দেখা যায়নি বিভিন্ন দপ্তরে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণসহ আশেপাশের আবাসিক এলাকা নিমজ্জিত থাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। পানিবন্দি থেকে নিজ নিজ দপ্তরের কার্যাবলি সম্পাদন করছেন বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তারা।
এদিকে হাসপাতালের সেবাগ্রহীতা ও চিকিৎসকদের কথা চিন্তা করে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশমুখে যাতায়াতের সুবিধার্থে স্বেচ্ছাশ্রমে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যর একটি ভাসমান অস্থায়ী সেতু তৈরি করেন ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই, ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন সুমন ও আব্দুল কাইয়ুম। সেই সেতু দিয়ে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীসহ রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকরা চলাচল করছেন।
১৭ জুন থেকে এখনও হাকালুকি হাওরের বন্যার পানিতে কুলাউড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৪টি ওয়ার্ডের ঘরবাড়ি, অর্ধ শতাধিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ২৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার ৬৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সবমিলিয়ে উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মানুষের বাসাবাড়িসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে ডুবে আছে। এতে করে এখনও স্বাভাবিক হয়নি এ উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা। বন্যার শুরু থেকে জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই বন্যার্তদের পাশে সহায়তা নিয়ে ছুটছেন।
হাওর তীরের এলাকাবাসী জানায়, ভূকশিমইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শশারকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের সবক’টি মসজিদ-মাদ্রাসা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা শুরুর পর থেকে শুক্রবার জুম্মার নামাজে কিছু সংখ্যক মুসল্লী নৌকা বেয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন বলে জানান শশারকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী হাজী শাহ মোঃ কলা মিয়া। তিনি বলেন, বন্যার পানি ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে দুই থেকে আড়াইফুট থাকায় মসজিদে নামাজের সময় মুসল্লীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
এদিকে হাকালুকি হাওর তীরবর্তী কুলাউড়া উপজেলায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, পানিবাহিত রোগবালাই ও গবাদিপশুর খাবার ও বাসস্থান সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বানভাসিরা।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, প্রায় প্রতিবছর বন্যার পানির সঙ্গে লড়াই করে এ এলাকার মানুষকে বাঁচতে হয়। বন্যার স্থায়ী সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্ষা মৌসুম এলেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তারা। জুড়ী নদীসহ হাকালুকি হাওরের নদ-নদী, খাল-বিল, নালা খনন না হওয়ায় তলদেশ দিন দিন ভরাট হচ্ছে। ফলে নদ-নদী টইটম্বুর হয়ে পানি ধারণের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ২০ দিন ধরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা ১১৬টি। পানিবন্দি পরিবার ২১ হাজার ৫৮৫। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার। আর ঘরবাড়ির সংখ্যা ৪ হাজার ৫০ টি। সরকারিভাবে ১৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৮ হাজার পরিবারের জন্য। প্রায় ১৬ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার ১৫০০ প্যাকেট বরাদ্দ মিলেছে। ৫০০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্যাকেটজাত শুকনো খাবার ৬২০ টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৩০ প্যাকেট শিশু খাদ্য, ১৫০ প্যাকেট গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শিমুল আলী বলেন, বন্যা শুরুর দিন থেকে বিভিন্ন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও গ্রাম পর্যায়েও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এরপরও নতুন করে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। বন্যা পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহি উদ্দিন বলেন, বন্যার শুরু থেকেই সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকেই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বন্যার্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতির মাঝেও প্রশাসনিক কাজ অব্যাহত রয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি ।

ছবি ক্যাপশন : ১. কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শশারকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের সবক’টি মসজিদ-মাদ্রাসা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..