1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও চানখারপুলে কোটাবিরোধীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ শুরু

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুলাই, ২০২৪
  • ৩৭ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট :: কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও চানখারপুল মোড় অবরোধ করে আন্দোলন করছেন চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ আরও চারটি দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীরা। এতে এ এলাকাগুলোতে ও আশেপাশের সড়কে প্রায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আজ রোববার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। একই সময়ে চানখারপুল মোড় অবরোধ করেছেন অমর একুশে হল, ফজলুল হক মুসলিম হল শহীদুল্লাহ্ হলসহ আশেপাশের কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আজ বেলা আড়াইটা থেকে সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেছে ঢাকা কলেজসহ আশেপাশের কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর তিতুমীর কলেজসহ আশেপাশের শিক্ষার্থীদের মহাখালী অবরোধ করার কথা রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ মোড় বন্ধ করে রাখায় শাহবাগের আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এমনকি মোড় বন্ধ করে দেওয়ার আগে যেসব গাড়ি শাহবাগের আশপাশে অবস্থান করছিল সেগুলোও আটকা পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

আন্দোলনে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের যদি বাধ্য করা হয় আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব। পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা আজ শাহবাগে জড়ো হয়েছি। পরবর্তী কর্মসূচি যা দেওয়া হবে, আমরা সে অনুযায়ী তা পালন করব।

এর আগে শনিবার (৬ জুলাই) কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, রোববার বিকেল ৩টায় সারা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু হবে।

পূর্ব ঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেন। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগ, হল এবং ইনিস্টিটিউটের ব্যানারে অবস্থানে যোগ দেন। এরপর এই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর টিএসসি হয়ে শাহবাগ এসে মোড় অবরোধ করেন।

বিজ্ঞান অনুষদের হলগুলো তাদের হল থেকে চানখারপুল আর ঢাকা কলেজসহ আশেপাশের কলেজগুলো সেখান থেকে সায়েন্সল্যাব অবরোধ করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘একাত্তরের পথ ধরো, বাংলা ব্লকেড সফল করো’, ‘কোটা ছেড়ে কলম ধরো, বাংলা ব্লকেড সফল করো’, ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কামব্যাক’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এর আগে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনকারীদের সমন্বয়করা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ঢাকার সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন মহাসড়ক, সড়ক অবরোধ করে সেখানে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা তাদের এই অবরোধ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে আজ দুপুরে গণভবনে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, লেখাপড়া বাদ দিয়ে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করার আন্দোলন করছে। যারা এর আগে আন্দোলন করেছিল, তারা আগে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কত পাস করত, এখন কত করছে। এটা সাবজুডিস ম্যাটার, আদালতে বিচারাধীন।

তিনি বলেন, পড়াশোনা বাদ দিয়ে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা সময় নষ্ট করছে। এ আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ধারণা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর কঠোর অবস্থানে যেতে পারে পুলিশ। এতোদিনের অবরোধে পুলিশ শিক্ষার্থীদের কোনো বাধা না দিলেও আজ অবরোধের কিছু পর শিক্ষার্থীদের শাহবাগ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে পুলিশ। আর অনুরোধে সাড়া না দিয়ে শিক্ষার্থীরা না সরলে অ্যাকশনেও যেতে পারে পুলিশ।

কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হলো, পরবর্তী সময়ে সরকার কোটাব্যবস্থা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া, সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা–সুবিধা একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। এই কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ছাত্র আন্দোলন হয়। সেই আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ৪ অক্টোবর সব ধরনের কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর ফলে সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়।

তবে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। ফলে কোটা বহাল হয়ে যায়।

এতে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। কোটা বাতিলের দাবিতে আবার রাস্তায় নামেন তাঁরা। ঈদুল আজহার আগে কয়েক দিন বিক্ষোভের পর দাবি মানতে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ১ জুলাই থেকে জোর আন্দোলন শুরু করেছেন তাঁরা। শাহবাগ মোড়ের চারদিক থেকে আসা চারটি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন করছেন কোটা বিরোধী শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। এ আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলা ব্লকেড’।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..