1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

মহররম আত্মত্যাগের মহান আদর্শ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ২৯০ বার পঠিত

আফতাব চৌধুরী :: কারবালা রণাঙ্গনের বিষাদমাখা ঐতিহাসিক কাহিনী এবং ইমাম হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যুর করুণ স্মৃতিবিজড়িত মহররম শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম জাহানে পালিত হয়ে আসছে। এরই মধ্য দিয়ে হাসান এবং হোসেনের পূণ্যস্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। হাসান এবং হুসেন ছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মোহাম্মদের কন্যা ফাতেমার পুত্র। তারা দু’জন ছিলেন বিনয়ে, বিদ্যায়, বীরত্বে বিশ্ববিখ্যাত। হযরত মোহাম্মদের পুত্র সন্তান না থাকার কারণে তাঁর মৃত্যুর পর কে হবেন খলিফা-ওই প্রশ্ন আরব জগতে প্রবলভাবে দেখা দেয়। হযরত আলী হযরত মোহাম্মদের জামাতা শৌর্য-বীর্যে খ্যাতিমান হলেও সে সময় তিনি ছিলেন নবীন এবং তাঁর দুই পুত্র হাসান এবং হুসেন ছিলেন বালক মাত্র। তাই মুসলমানেরা কর্তৃত্ব অর্পণ করলেন মোহাম্মদের অনুগত এবং প্রবীণ হযরত আবু বকরকে। হযরত আবু বকর এবং হযরত ওমরের পর হযরত ওসমান খলিফা হয়ে উম্মিয়া বংশের লোককে উচ্চপদে এবং মাবিয়াকে সিরিয়ার শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্তি দিয়েছিলেন। ওসমানের মৃত্যুর পর হযরত মোহাম্মদের জামাতা হযরত আলী খলিফা নিযুক্ত হন। ওসমান যাদের অন্যায়ভাবে নিযুক্তি দিয়েছিলেন, তাদের অনেককে অপসারন করলেন হযরত আলী। সে সময় মাবিয়া বিদ্রোহ এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হযরত আলীকে খেলাফত থেকে সরিয়ে নিজে স্বঘোষিত খলিফা হয়ে বসলেন। এতেই ক্ষান্ত হননি মাবিয়া। শুরু করেন আলীকে হত্যার চক্রান্ত এবং তাতে সফলও হন। এর কিছুদিন পর কুফার এক মসজিদে আলী নিহত হন গুপ্তঘাতকের হাতে। আলীর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হাসান খলিফার আসন লাভ করবেন, এই আশংকায় মাবিয়ার পুত্র এজিদ হাসানকেও হত্যার চক্রান্ত শুরু করেন। আলীর জ্যেষ্ঠপুত্র হাসান খলিফা হবেন, এজিদের এই আশংকা সত্য প্রমাণিত হল। আলীর মৃত্যুর পর হাসান কুফা গেলেন, সেখানে তাঁকে খলিফার পদে আসীন করা হয়। হাসানের খলিফা নির্বাচনে মাবিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে আক্রমণ
করলেন ইরাক। কিন্তু হাসান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে না গিয়ে সন্ধি করলেন মাবিয়ার সঙ্গে তাকে মেনে নিলেন খলিফা হিসেবে। কিন্তু মাবিয়া পুত্র এজিদ হাসান-হুসেনকে হত্যা করে ভবিষ্যতের পথ কন্টকমুক্ত করতে প্রাণপণ চেষ্টায় লেগে গেলেন। সফলও হলেন তিনি হাসানকে হত্যা করতে। হাসানের মৃত্যুর পর মাবিয়া প্রচার শুরু করলেন যে, তার মৃত্যুর পর এজিদই খলিফা হবেন। নিষ্ঠুর এজিদের অন্যায় আচরণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। ধর্মগুরুদের অপমান, জ্ঞানী ব্যক্তিদের অপদস্থ করতে এজিদ কসুর করেনি, ফলে জনগণ তার উপর বিশ্বাস এবং আস্থা রাখতে পারলেন না। এত অন্যায়-অবিচার সহ্য করতে না পেরে কুফার লোকেরা হুসেনের সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি সেই অনুযায়ী পরিবার-
পরিজন এবং সঙ্গীদের নিয়ে কুফা যাত্রা করেন। এই কুফা যাত্রা হুসেনের শেষ যাত্রা। আর ফিরতে পারলেন না। মদিনা থেকে কুফা-সুদূর মরুময় পথ পরিক্রমা শেষ করে ইরাক সীমান্তে এলেন। কিন্তু কুফার সেনাবাহিনী তাঁকে সহায়তা করতে আসেনি। জনমানবহীন প্রান্তরে হুসেন দেখলেন কী যেন এক শূন্যতার ভাব, এক বৈরাগ্যময়
পরিবেশ। পরিশ্রান্ত হুসেনের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হতে লাগল। এখানেই তাঁবু ফেলতে আদেশ করলেন। এই স্থলটিই হল ঐতিহাসিক কারবালা। যার পাশেই বয়ে চলেছে ফোরাত বা ইউফ্রেটিস নদী। কুফায় এসে হুসেনের মধ্যে যে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল, তা এবার প্রতীয়মান হতে লাগল, কুফার লোকেরা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কুফার সেনাপতি সেনাদল নিয়ে কারবালা মরু প্রান্তরে হুসেনের বাহিনীকে আক্রমণ করে। এছাড়া ফোরাত নদী ঘিরে রেখে পানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয়। হুসেনের সঙ্গে লোক লস্কর বেশি ছিল না, ছিল না পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র। দীর্ঘপথ পরিক্রমায় তারা ক্লান্ত। অন্যদিকে, ফোরাত নদীও অবরুদ্ধ। একবিন্দু পানি পাওয়ার
কোন উপায় ছিল না। তপ্ত মরুভূমির দেশে সঙ্গীসাথী সবাই পিপাসায় কাতর। অথচ যুদ্ধ করা অপরিহার্য।
তৃষ্ণার্ত শিশুর প্রাণ রক্ষার্থে পানি পর্যন্ত যখন ভিক্ষা করেও পেলেন না তখন দুঃখ-বিষাদে হুসেনের সঙ্গীরা যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। প্রতিপক্ষ দলের সৈন্য সম্ভারের প্রাচুর্য সত্তে¡ও উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ হল। বীর সেনানী হুসেনের পরিচালনায় এবং আক্রমণে ফোরাত নদীর রক্ষী দল বিপর্যস্ত হয়ে গেল। পরিশ্রান্ত হুসেন ঘোড়া থেকে নেমে পানি পানের জন্য ফোরাত নদীতে গেলেন। পানি হাতে নিয়েও কিন্তু মুখে দিতে পারলেন না হুসেন, তখনই তাঁর মনে হল তাঁবুর শিশু-মহিলা সবাই তৃষ্ণায় কাতর, তাদের রেখে পানিপান করবেন কিভাবে। ঠিক এমন সময় লুক্কায়িত শত্রু
সৈন্যদের অসংখ্য তীর হুসেনের দিকে নিক্ষিপ্ত হতে লাগল। তিনি চেয়ে দেখলেন, শত্রু সৈন্যরা তাঁকে অবরোধ করে ফেলেছে। ফোরাতের তীরে দাঁড়ানো হুসেন তখন ছিলেন নিরস্ত্র। ইতিপূর্বে এজিদের ঘোষণা-হুসেনের মাথা কেটে আনতে পারলে লক্ষ টাকা পুরষ্কার। তখন সীমার নামক এক জল্লাদ শাণিত তরবারির আঘাতে হুসেনের ঘাড়
দ্বিখন্ডিত করে ছিন্নমুন্ড নিয়ে কারবালা থেকে উধাও হয়ে গেল। তখন সমস্ত সৃষ্টি যেন থরথর করে কেঁপে উঠল। আকাশ-বাতাস চারদিকে আওয়াজ হতে লাগল-‘হায় হুসেন-হায় হুসেন’। সমগ্র বিশ্বের মুসলমানরা পরম নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিবছর মহররম মাসের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মহররমের বিষাদভরা উৎসব পালন করে আসছেন। শিয়া স¤প্রদায়ের লোকেরা সুসজ্জিত তাজিয়া তৈরি করে শোভাযাত্রা সহকারে নগর পরিক্রমার মাধ্যমে মহররম পালন রেন। সুন্নি সম্প্রদায়ের লোকেরাও পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে মহররম পালন করে আসছেন। মহররমের দশম অর্থাৎ শেষদিনেতাজিয়াবাহীগণ এবং তাদের অনুগামীরা উচ্চস্বরে ‘হায় হুসেন-হায় হুসেন’ধ্বণি দিতে দিতে বারবার বুকে হাতের মুষ্টির দ্বারা আঘাত করতে করতে কারবালারমর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ করেন। এরপর শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারী এবংতাজিয়াবাহী কৃত্রিম যোদ্ধারা হুসেনের স্মৃতিতে তাজিয়া পবিত্র পানিতেবিসর্জন দেন। এভাবেই বছরের পর বছর, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্ব মুসলিমেরঐতিহাসিক মহররম পালনের শাশ্বত স্মৃতি বয়ে নিয়ে যায় ফোরাত নদীর তীরে-কারবালার মরুপ্রান্তরে তাদের প্রিয় হুসেনের মাজারে।
সাংবাদিক-কলামিস্ট। ১৮.০৮.২০২১

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..