1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৯:১১ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

সিলেটে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে অজগর!

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৮৫ বার পঠিত

সিলেট প্রতিনিধি :: অজগর থাকে বন-জঙ্গলে। কিন্তু বনের অজগর এখন নিয়মিতই ‘ঘুরতে আসছে’ বাসা-বাড়িতে। সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি অজগর লোকালয়ে ধরা পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অজগর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আতঙ্কের কিছু নেই। অজগর নিরীহ ও বিষহীন সাপ। আক্রান্ত না হলে কাউকে কামড়ও দেয় না অজগর। এজন্য কোথাও অজগর পেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ বা পুলিশে খবর দেওয়ার কথা বলছেন দায়িত্বশীলরা।

জানা গেছে, সিলেট শহরতলির মেজরটিলা এলাকার রাবেয়া বেগমের বাসায় গেল প্রায় ছয় মাসে তিনটি অজগর ধরা পড়েছে। এর মধ্যে দুটি অজগর স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরে ফেলেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে ধরা পড়া অজগরটি বন বিভাগের লোক এসে ধরে নিয়ে যায়।

এদিকে, চলতি বছরের ২১ মে নগরীর উত্তর বালুচর সোনার বাংলা আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের মিল্টু মালাকারের বাড়ির ওঠান থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগ সেটি খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে নিয়ে অবমুক্ত করে। অজগরটির ওজন ছিল সাড়ে ৩ কেজি ও দৈর্ঘ্য ৬ ফুট।

গত ২৮ জুন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় একটি অজগর।

চলতি মাসের ১৩ তারিখে সিলেটের শাহপরান এলাকার একটি বাড়িতে ধরা পড়ে আরেকটি অজগর। যেটির ওজন ছিল ৩০ কেজি। ওই অজগরটিও বন বিভাগ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে সেটি অবমুক্ত করা হয় খাদিমনগরের ওই উদ্যানে।

এরও আগে খাদিমনগর বরজান চা বাগান থেকে বিশালাকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়। যেটির ওজন ছিল ১৫ কেজি, লম্বায় ছিল ১২ ফুট।

সিলেট নগরীর মিরেরময়দান এলাকার অর্ণব ৭৫নং বাসা থেকেও ৪ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার করার ঘটনা ঘটেছে।

এভাবে একের পর এক অজগর লোকালয়ে চলে আসার ঘটনায় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন ধ্বংস করায়, বনে খাবার না পেয়ে অজগর লোকালয়ে আসছে। এছাড়া সিলেট অজগরের ‘হটস্পট’ বলেও জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশবাদী সংগঠন ‌‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’ এর সমন্বয়ক আশরাফুল কবির বলেন, ‘বনের ভেতরে অজগরের খাবার কমে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে বনই ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। ফলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে অজগর। যেসব বাড়িতে হাঁস-মুরগি আছে তাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে।’

বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন সিলেটকে অজগরের ‘হটস্পট’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে প্রচুর অজগর রয়েছে। বিশেষত এখানকার চা-বাগানগুলো অজগরের নিরাপদ আশ্রয়।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এখন প্রায় সপ্তাহেই মানুষ ফোন করে অজগর পাওয়া কথা জানায়। পরে আমরা উদ্ধার করে নিয়ে আসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে চা-বাগানগুলোর ভেতরে অনেক বনমোরগ ও কাঠবিড়ালি পাওয়া যেত। এগুলো ছিল অজগরের প্রিয় খাদ্য। কিন্তু এসব এখন কমে গেছে। ফলে অজগর খাদ্যসংকটে পড়েছে। ফলে বন ও চা-বাগানের আশপাশের বাড়িতে যেগুলোতে হাঁস-মুরগি আছে, সেসব বাড়িতে অনেক সময় অজগর ঢুকে পড়ে।’

তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য এই বন বিভাগীয় কর্মকর্তার, ‘অজগর খুবই নিরীহ ও বিষহীন সাপ। নিজে আক্রান্ত না হলে সে কাউকে কামড় দেয় না। আবার কামড় দিলেও বিষক্রিয়া হওয়ার শঙ্কা নেই। কেবল ঘরের হাঁস-মুরগি লুকিয়ে রাখতে পারলে এই সাপ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।’

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..