1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
জাতীয় : কোস্টগার্ডের প্রয়োজনে যা দরকার তা করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে মানসিকতা পরিবর্তন প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৭৬ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট : শুধু আইনের মাধ্যমে নারীদের প্রতি সহিংসতা কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে বেগম রোকেয়া দিবস ও বেগম রোকেয়া পদক-২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা আসবেই, তার পরও স্বনির্ভর হয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। নারীরা ভোগের বস্তু নয়, নারীরা সহযোদ্ধা; এই মানসিকতা নিয়ে সমাজকে সামনে যেতে হবে। শুধু আইনের মাধ্যমে নারীদের প্রতি সহিংসতা কমানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিশ্বাসটা করতে হবে যে নারীরা শুধু ভোগের বস্তু না, নারীরা সহযোদ্ধা। নারীরা সহযোগী। সহযাত্রায় চলতে হবে। সমান অধিকার দিতে হবে। এটা হল বাস্তবতা।

শেখ হাসিনা বলেন, পুরুষশাসিত সমাজ আমরা বলি। কিন্তু মেয়েদের ছাড়া পুরুষরা কি পথ চলতে পারে? পারে না। মায়ের পেটে জন্ম নিতে হবে, বোনের হাত ধরে হাঁটা শিখে, বড় হয়ে স্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল থাকে, বৃদ্ধ হয়ে গেলে তো কন্যাসন্তানই বেশি দেখে, সেই যতœ নেয় বেশি, এটাও তাদের মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আরও অনেক নারী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা অবদান রেখে চলেছেন। সরকার প্রতিবছর তাদের সম্মানিত করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, একজন নারী হিসেবে বেগম রোকেয়া আমাদের আদর্শ। কারণ সমাজের অচলায়তন ভেদ করে তিনি যদি শিক্ষার আলো না জ্বালতেন, তা হলে আজকে আমরা যতদূর এগোতে পেরেছি এটা পারতাম না। তিনি আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের আলোর পথে যাত্রা শুরু করিয়েছেন।

সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে সফলতার সঙ্গে নারীদের দায়িত্বপালনের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমি মনে করি অনেকটাই আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় যেয়ে আমাদের মেয়েরা কাজ করে। আমাদের যুদ্ধ বিমানও তারা চালাচ্ছে। কাজেই সব দিক থেকে মেয়েরা কিন্ত পিছিয়ে নেই। কাজেই এটা সবচেয়ে বড় কথা পুরুষরা যেটা পারে নারীরা তার চেয়ে আরও ভালো পারে, বেশি পারে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটাই প্রমাণ হয়েছে।

বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের সফলতার কথা বলতে গিয়ে রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বেশি বলব শেষে আবার দেখা যাবে পুরুষরাৃ আবার ভোট কমে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ আমাদের তো ইলেকশন করে আসতে হয়। সব দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়া আমাদের আদর্শ। তিনি নারীদের পথ দেখিয়েছেন। তার সময়ে সমাজে নারীদের লেখাপড়া যেন অপরাধ ছিল। সেই অবস্থা থেকে তিনি নারী জাগরণে কাজ করেছেন। এখন মেয়েরা কোন দিক থেকে পিছিয়ে নেই। বরং পুরুষরা যেটা পারে নারীরা তার থেকে আরও ভাল পারে, বেশি পারে; এতে কোন সন্দেহ নেই। সেটাই প্রমাণ হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসার এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ করে দিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথমবার যখন সরকার গঠন করি নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছি। পাশাপাশি প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক বাধ্যতামূলক করি। এই সিদ্ধান্তের পর অনেক বাবা-মা মেয়েদের বাধা দেয়নি। অন্তত মেয়ে যে একটা চাকরি পাবে সেটা তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাছাড়া কমিনিটি ক্লিনিকে মেয়েদের কর্মের ব্যবস্থা হয়। সর্বক্ষেত্রে একটা উদ্যোগ নিতে চেষ্টা করেছি।

নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২১’ দেওয়া হয়। পদকপ্রাপ্তদের তাদের প্রত্যেককে চার লাখ টাকার চেক, রেপ্লিকাসহ একটি ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ পদক ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য কুমিল্লা জেলার অধ্যাপিকা হাসিনা জাকারিয়া বেলা; নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় যশোরের অর্চনা বিশ্বাস; নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় কুমিল্লার শামসুন্নাহার রহমান পরাণ (মরোণোত্তর); সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিনাত হুদা এবং পল্লী উন্নয়নে অবদান রাখায় কুষ্টিয়ার গবেষক ড. সারিয়া সুলতানাকে এ বছর রোকেয়া পদক দেওয়া হয়।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া। ১৯৩২ সালের একই তারিখে কলকাতার সোদপুরে তার মৃত্যু হয়। বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর এ পুরস্কার দেয় বাংলাদেশ সরকার। লেখনির মাধ্যমে বাল্যবিয়ে, যৌতুক, পণ প্রথা, ধর্মের অপব্যাখ্যা, কুসংস্কারসহ নারীর প্রতি অন্যায়-আচরণ ও বৈষম্যে বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম রোকেয়া।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..