1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  • E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১০:০৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
করোনা আপডেট : করোনায় আরও ২২৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১১,২৯১  

বোরকা পরে একা একা ঢাকার ফুটপাতে হাঁটেন রোজিনা !

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৭ বার পঠিত

বিনোদন ডেস্ক: ‘জীবন নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। নেই কোনো আক্ষেপ। যা আছে, তা–ই নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। মাঝেমধ্যে কোনো কিছু মনের মধ্যে উঁকি দিলে বোরকা পরে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি। ফুটপাত ধরে হাঁটতে থাকি। পিঠা বিক্রেতা, চা–দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলি। তাঁদের জীবনটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। মনে হয়, আমি তো অনেক ভালো আছি।’ এভাবেই নিজের যাপনের কথা বললেন বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা।

সত্তর দশকের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর আজ জন্মদিন। ষাটের দশকে রাজবাড়ীতে তাঁর জন্ম। শৈশবেই সিনেমার পোকা ঢুকেছিল মাথায়। রিকশার পেছনে শাবানা-কবরীর ছবি দেখলেই পিছু নিতেন। সেসব দিনের কথা স্মরণ করে রোজিনা বলেন, ‘আমাদের বাড়িটা ছিল রাজবাড়ী রেলস্টেশনের পাশে। রিকশার পেছনে শাবানা-কবরী ম্যাডামদের পোস্টার দেখতাম, মাইকে শুনতাম, “আসিতেছে”, ওটার পেছনে দৌড়াতাম। আবার মাইকে কোনো গান বাজতে শুনলে স্কুলব্যাগ রেখে দৌড় দিতাম পিছু পিছু। এসবের জন্য মায়ের কাছে, পণ্ডিতের কাছে কত যে মার খেয়েছি। কিন্তু আমার মাথায় ছিল, শাবানা-কবরীর মতো হতেই হবে।’

রোজিনা অভিনয়শিল্পী হয়েছেন। পাঁচ দশকে দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করে পেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা। মাঝে প্রায় ১৫ বছর অভিনয়ে ছিলেন না। সম্প্রতি সিনেমা পরিচালনা শুরু করেছেন তিনি। সরকারি অনুদানে বানাচ্ছেন ‘ফিরে দেখা’ নামের একটি ছবি। সেখানে অভিনয়ও করবেন তিনি।

দুই শতাধিক ছবিতে নানা রকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোজিনা। ছোট পর্দায় পরিচালনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প ও উপন্যাস নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু চলচ্চিত্রে তাঁদের কোনো গল্প-উপন্যাসের নায়িকা হতে না পেরে একটা দুঃখবোধ রয়ে গেছে তাঁর। রোজিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গল্প নিয়ে “ফিরে দেখা” ছবির কাহিনি। এই ছবির কাজ শেষের দিকে। তবে আমার পরিকল্পনা আছে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গল্প নিয়ে কাজ করার। এখন আসলে অভিনয়ের চেয়ে নির্মাতা হিসেবে কাজ করার বেশি ইচ্ছা। মনোযোগটা তাই ওদিকেই বেশি।’ যদিও অভিনয় এখন আর খুব বেশি টানে না তাঁকে। তবে গল্পে নিজের চরিত্রের প্রাধান্য পেলে, আবার অভিনয় করতে চান। নামকাওয়াস্তে কোনো ছবিতে আর কাজ করবেন না।

রোজিনা বাস করছেন দুই জায়গায়। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় ঢাকায়, বাকিটা সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে বছরে কয়েক মাসের জন্য আসেন বাংলাদেশে, আবার চলে যান। দেশে বেড়াতে এলে চলচ্চিত্রের কিছু ঘরোয়া আয়োজনে দেখা যায় তাঁকে।করোনার কারণে এখন সেটাও সীমিত হয়ে গেছে। গোয়ালন্দে নানাবাড়িতে তাঁর উদ্যোগে মসজিদ তৈরি হচ্ছে। ঢাকায় এলে তাই নানাবাড়িতেও যেতে হয় তাঁকে। বড় নাতনি হওয়ার সুবাদে নানার কাছ থেকে গোয়ালন্দে আরেকটি জায়গা তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে।

সেই বাড়ি ঘিরে রোজিনার আরেকটি স্বপ্ন সম্প্রতি মনের ভেতর ডানা মেলেছে। তিনি বলেন, ‘নানার কাছ থেকে পাওয়া বাড়িটিকে চক্ষু হাসপাতাল বানাতে চাই। চোখের আলোর জন্য চক্ষু হাসপাতাল করতে চাই। এবারের জন্মদিনে এটাই আমার আগামী দিনের পরিকল্পনা।গতকাল থেকেই ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেতে শুরু করেছেন রোজিনা। করোনা একের পর এক প্রিয়জন কেড়ে নিচ্ছে বলে সেসব খুব বেশি স্পর্শ করছে না তাঁকে।

রোজিনা বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে অনেকে আমার জন্মদিন মনে রেখেছেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, নিঃসন্দেহে ভালো লাগার মতো বিষয়টি। কিন্তু সবাই যেভাবে ছেড়ে চলে যাচ্ছে, মনটা ভীষণ খারাপ। যদিও সবাইকে যেতেই হবে, আজ কিংবা কাল। কষ্ট হচ্ছে, যাঁদের সঙ্গে লম্বা সময় কাটিয়েছি, তাঁদের কাউকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগও পাচ্ছি না। আমরা তো পরিবার। অভিনয় করতে গিয়ে সুখ-দুঃখের সংসার পেতেছি। কয়েক মাস পরপর সবাই আড্ডা দিতাম। সেই আড্ডা ভেঙে যাচ্ছে!’

রাজধানীর উত্তরায় রোজিনাদের বাড়ি। তাঁর সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন সন্ধ্যা নামতে শুরু করে। জানালেন, ইফতার তৈরিতে ব্যস্ত তিনি। বললেন, রাতে হয়তো ভাইবোনের ছেলেমেয়েরা ফুল-কেক নিয়ে হাজির হবে। তাঁদের কারণে জন্মদিনটা উদযাপন করতে হবে। সুস্থভাবে জীবনটা যাপনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনয়শিল্পী।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..