1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  • E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
করোনা আপডেট : করোনায় রেকর্ড ২৬৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১২,৭৪৪

লাউয়াছড়ায় আগুন: তদন্তে আসলো বনবিভাগের তিনজন দায়ী

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৯৭ বার পঠিত

স্টাফ রিপোটার: কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আগুন লাগার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অফিসে জমা দিয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে তারা প্রতিবেদনটি জমা দেন বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি সরোয়ার। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে আগুণ লাগার ঘটনায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ কর্মচারী ও কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করেছেন। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে মোট ১০টি পয়েন্ট উল্লেখ করেছে তাঁর মধ্যে ৭ এবং ৮ নাম্বার পয়েন্টে উল্লেখ করছেন যে, ইচ্ছেকৃত ভাবে আগুন লাগার ঘটনার প্রমাণ সেভাবে পাওয়া যায় নি, তবে বনে কোন ময়লা বা আগাছায় কোনভাবেই আগুণ দেওয়া যাবেনা বলে পূর্বেই নির্দেশ দিয়েছিল বিভাগীয় বনকর্মকর্তা। তাই আগুণ লাগার ঘটনায় নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।

এই ঘটনায় দায় দেওয়া হয়েছে বনবিভাগের ৩জনের উপর। তাদের একজন বাঘমারা ক্যাম্পের বনপ্রহরী মোতাহার হোসেন। বনায়নের জন্য শ্রমিকরা যখন লতাপাতা পরিষ্কার করার কাজ করছিল তখন তা তদারকির দায়িত্ব ছিল মোতাহার হোসেনের। কিন্তু আগুন লাগার পর তিনি তা নেভাতে নিজে কোন উদোগ গ্রহণ করেননি এবং নিজ থেকে উর্ধদতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেননি। কিভাবে আগুন লাগল তা তিনি দায়িত্ব থেকেও বলতে পারছেন না। একই রকম দায় রয়েছে লাউয়াছড়ার বিট অফিসার মিজানুর রহমানের। আগুন লাগার ঘটনায় তিনিও কোন পদক্ষেপ নেননি। সেদিন যে শ্রমিকরা কাজ করছিল ও আগুন লাগার ঘটনাসহ সার্বিক ঘটনায় তাঁর তদারকির অভাব পরিক্ষিত হয়েছে তদন্ত কমিটির তদন্তে। অন্যদিকে বনবিভাগের আরেক সহযোগি সদস্য (কমিনিউটি পেন্ট্রোল দল) মহসিন কাজের তদারকি করার দায়িত্ব তাঁর থাকলেও আগুন লাগার সময় বা পরে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যান। আগুন নেভানোর কোন উদ্যোগ যেমন নেননি তেমনি বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকেও অভিহিত করেননি।

এই তিনজনের দায়িত্বে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন না করা। আগুন লাগার পর তা নেভানোর চেষ্টা না করে ঘটনাস্থল থেকে দূরে চলে যাওয়া, উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত না করাসহ বিভিন্ন কারণে তদন্ত কমিটি এই ঘটনার জন্য তাদেরকেই দায় দিয়েছে। ঘটনাস্থলে তারা তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু আগুন লাগার ঘটনাটি বিভাগীয় বনকর্মকর্তা অন্য সূত্র থেকে জানতে পেরে সাথে সাথে লাউয়াছড়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামকে দ্রুত আগুন নেভানোর নির্দেশ দেন। বিভাগীয় বনকর্মকর্তার মাধ্যেমে খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা স্টাফ নিয়ে আগুণের সম্মুখভাবে ফায়ার লাইন কাটাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। সেই সাথে যোগ দেয় কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস। বনবিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,আগুন লাগার সময় সাড়ে ১২টা থেকে ১টা এবং আগুন নিভে যায় ২.২০ থেকে আড়াইটার ভেতর।
একই সাথে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন,আগুনের সুত্রপাত বনায়নের জায়গা থেকেই। এতে পুড়েছে দেড় একর জায়গা। তবে তেমন বড় কোন গাছ পুড়েনি। যে জায়গায় বনায়ন করা হবে সে জায়গা পুড়ায় তা বনায়নের মাধ্যমে এবং অন্য জায়গায় বৃষ্টি হলেই নতুন গাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্ মনেবে। তদন্ত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বনবিভাগের স্টাফদের উপর তদারকি বাড়াতে হবে। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া গাছ ও লতাপাতার প্রতি যতœশীল হতে হবে। বনের উন্নয়নমূলক কাজের সময় গ্যাস লাইট বা দিয়াশলাই সাথে রাখা যাবে না।
অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম সাথে রাখতে হবে। সেই সাথে আশেপাশের ফায়ার স্টেশনের নাম্বার রাখতে হবে। এ দিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমলে নিয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী।তিনি জানান, প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বনবিভাগের নিয়ম অনুসারে এই ৩জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। সেই সাথে ভবিষ্যতে যেনো এমন অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনা না ঘটে। তাই তদন্ত কমিটি যে সুপারিশ করছে তা আমলে নিয়ে আরও বেশ কিছু বিষয় নিজ থেকে যুক্ত করতে হবে। সব কথার শেষ কথা সবার আগে বন। বনকে রক্ষা করতে হবে। এখানে কারো অবহেলা সহ্য করা হবেনা এটা নিশ্চিত।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..