1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
মৌলভীবাজারের ৫টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ থাকায় এখন ভুতুরে বাড়ি: যাত্রী দুর্ভোগ চরমে: চুরি ও নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের মুল্যবান সম্পদ,নতুন বছরে দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন, দূর হোক সংকট: প্রধানমন্ত্রী. আজ রোববার উদযাপন হবে বই উৎসব. দুর্গম এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় নতুন বই পাঠানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী, নতুন বছরে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী, নতুন আশা নিয়ে মধ্যরাতে বরণ করা হবে ২০২৩ সাল, সিডনিতে আতশবাজির মধ্য দিয়ে ‘নিউ ইয়ার’ বরণ, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে পুলিশের কড়াকড়ি,আবারও প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক হলেন শ্যামল ,নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

সিলেট থেকে ওরা বিশ্বমঞ্চে!

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০২২
  • ৫৭ বার পঠিত

সিলেট প্রতিনিধি :: আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন থাকে প্রায় সবারই। কারো কারো ক্ষেত্রে সেই স্বপ্ন সত্যিই আকাশে ডানা মেলে, হাতের মুঠোয় ধরা দেয় সাফল্যের সোনালী রোদ্দুর।

গুগল, অ্যামাজন, অ্যাগোডা— একেকটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বখ্যাত। গোটা দুনিয়াজুড়ে তাদের কর্মকাণ্ড। একেকটি প্রতিষ্ঠানের নামই তাদের ‘ওজন’ বোঝাতে যথেষ্ট।

তথ্য-প্রযুক্তি খাতের এ বাঘা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি পেয়েছেন সিলেটের চার গ্র্যাজুয়েট। টেকজায়ান্ট গুগলে কাজ করবেন নাফিউল আদনান চৌধুরী ও আমানুর রহমান। অ্যামাজনে যাচ্ছেন মো. ইমরুল চৌধুরী। অ্যাগোডায় সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।

আশ্চর্যজনকভাবে এ চার গ্র্যাজুয়েটই সিলেটে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী! বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েটদের এই সাফল্যকে শুধু সিলেট অঞ্চলের ক্ষেত্রেই নয়, সারাদেশের প্রেক্ষিতেই অভাবনীয় ও অভূতপূর্ব হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

গুগলে আদনান>>
সাফল্যের গল্পটা আদনানকে দিয়ে শুরু। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মোতিয়ারগাঁওয়ের মো. সামছুল হক চৌধুরী ও মুসলিমা বেগমের বড় ছেলে নাফিউল আদনান চৌধুরী। তিনি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গত জানুয়ারির শেষদিনে বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক কোম্পানি গুগল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তাকে নিয়োগপত্র দেয়। গুগলের ইউরোপিয়ান হেডকোয়ার্টার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন কার্যালয়ে কাজ করবেন তিনি। এজন্য গত ২৮ আগস্ট ডাবলিনে গেছেন আদনান।

নাফিউল আদনান চৌধুরী সিলেটভিউকে জানান, তিনি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ইনোসিস সলিউশন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারি হিসেবে কাজ করছিলেন। এই প্রতিষ্ঠান আমেরিকা ও কানাডার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সফটওয়্যার তৈরিসহ আইটি সেবা দিয়ে থাকে। পরবর্তীতে গুগল থেকে তিনি চাকরির সাক্ষাৎকারের ডাক পান। সাক্ষাৎকার শেষে গত ৩১ জানুয়ারি পেয়েছেন নিয়োগপত্র।

নাফিউল আদনান চৌধুরী জানান, তিনি শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেন সিলেটের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিকে। ২০১৯ সালে কৃতিত্বের সাথে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) ইন সিএসই ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

অ্যামাজনে ইমরুল>>
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিখ্যাত বৈশ্বিক কোম্পানি অ্যামাজন। এই প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারি হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন মো. ইমরুল চৌধুরী।

ইমরুল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামের প্রয়াত মো. জায়েদুল ইসলাম চৌধুরী ও রাহেনা বেগম চৌধুরীর ছেলে। তিনি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সিএসই ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ইনোসিস সলিউশন্সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন ইমরুল। প্রতিষ্ঠানটিতে পদোন্নতি পেয়ে কিছুদিন আগে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হন তিনি।

ইমরুল চৌধুরী সিলেটভিউকে জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই অ্যামাজন থেকে চাকরির অফার লেটার পেয়েছেন তিনি। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অ্যামাজনের লন্ডন অফিস হবে তার কর্মস্থল। এ বছরের শেষদিকে তিনি সেখানে যোগ দেবেন।

গুগলে আমানুর>>
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আরেক গ্র্যাজুয়েট আমানুর রহমান সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গুগলের ডাবলিন অফিসে চাকরি পেয়েছেন।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গলাখাল গ্রামের প্রয়াত ইয়াওরুল হক ও কাজী রেখা আক্তারের ছেলে আমানুর রহমান। ২০০৯ সাল থেকে তারা সিলেট শহরে বসবাস করছেন।

আমানুর রহমান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২১ সালের জুনে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

আমানুর রহমান সিলেটভিউকে জানান, ২০২১ সালের নভেম্বরে গুগল থেকে রিক্রুটমেন্ট মেইল পান তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার মূল সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস গুগলের নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। অবশেষে গেল জুলাইয়ে তিনিপেয়েছেন গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের অফার লেটার।
তিনি জানান, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে থাকা গুগলের অফিসে কাজ করবেন। চলতি বছরের শেষদিকে সেখানে যোগ দেবেন।

অ্যাগোডায় মাজহারুল>>
পর্যটনখাত সংশ্লিষ্টতায় এবং হোটেল বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাইট অ্যাগোডা। এখানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি পেয়েছেন মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা (চালিকোনা) গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাশেদা ইসলাম দম্পতির ছেলে মাজহারুল ইসলাম। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তিনি। ২০২০ সালে সম্পন্ন করেছেন গ্র্যাজুয়েশন।

মাজহারুল ইসলাম সিলেটভিউকে জানান, সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত হোটেল বুকিং সাইট অ্যাগোডা ডটকমে ডাক পান তিনি। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি মাসের শুরুর দিকে তাকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরির অফার লেটার প্রদান করে অ্যাগোডা। চলতি বছরের শেষদিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অ্যাগোডার অফিসে যোগ দেবেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন>>
বৈশ্বিক তিন প্রতিষ্ঠানে চার গ্র্যাজুয়েটের চাকরি পাওয়াটা শিক্ষাক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির এগিয়ে থাকার যথার্থ প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের চার চারজন গ্র্যাজুয়েট কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিশ্চিত করে নিয়েছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার।

জানতে চাইলে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। আমাদের চার সন্তান গুগল, অ্যামাজন আর অ্যাগোডায় চাকরি পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য পরম আনন্দের। এতে শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বা সিলেটই নয়, বরঞ্চ বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে গর্বিত হলো। বিশ্বমঞ্চে আমাদের সন্তানরা জায়গা করে নিচ্ছে, দেশকে গর্বিত করছে, এটা সত্যিই অসাধারণ অর্জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি সবসময়ই শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও বিশ্বপর্যায়ে জায়গা করে নেওয়ার মতো উপযোগী করে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এখানে বিশ্বমানের পাঠদানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিদেশে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন।’

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..