1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  • E-paper
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
করোনা আপডেট : করোনায় আরও ২২৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১১,২৯১  

ঈদে মাধবকুন্ড ইকোপার্কে ছুটছেন পর্যটক, হতাশ হয়ে ফিরছেন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ মে, ২০২১
  • ১১৩ বার পঠিত

বড়লেখা প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের অন্যতম পিকনিক স্পট ও ইকোপার্ক বড়লেখার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধজ্ঞা রয়েছে। ফলে ঈদের ছুটিতে মাধবকুন্ড ঘুরতে আসা পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ঈদের দিনসহ গত ৩ দিনে অন্তত ১০ হাজার পর্যটক জলপ্রপাতের প্রধান ফটক থেকে ফিরে গেছেন। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা না হওয়ায় তারা হতাশ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে জলপ্রপাতের প্রধান ফটক খুলে দেওয়ার দাবি তাদের।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত হচ্ছে বড়লেখার মাধবকুন্ড । প্রতিবছর ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নামে মাধবকুন্ডে। এতে জলপ্রপাতকে ঘিরে ওঠা ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও জমে ওঠে। কিন্তু চলতি বছরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১ এপ্রিল থেকে সেখানে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এবারের ঈদের ছুটিতে সেখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জলপ্রপাতের কাছে যেতে পারছেন না। ঈদের দিন শুক্রবার থেকে রোববার (১৬ মে) বিকেলে পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার পর্যটক মাধবকুন্ডে ঘুরতে এসেছিলেন। কিন্তু জলপ্রপাতের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। ফটকের সামনে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ভীড়। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের অনেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মাধবকুন্ডে ঘুরতে এসেছেন। কিন্তু কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নিা। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ কেউ ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। দায়িত্বরত পুলিশ তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা হতাশা নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকরা ফিরে যাওয়ায় ব্যবসীয়দের বেচাকেনা কম হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ফটকের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেল কয়েকজন নারী-পুরুষ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঝর্নার কাছে যাচ্ছেন। তাদের নামপরিচয় জানতে চাইলে বলতে রাজি হননি।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘আমরা খাসিয়া পুঞ্জির ভেতরে দিয়েই ঝর্ণার কাছে এসেছি। কাউকে কোনো টাকা দিতে হয়নি।’ এখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জানেন কি-না জানতে চাইলে তারা কোনো কিছু না বলেই সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে যায়।

সিলেট থেকে মাধবকুন্ডে ঘুরতে এসেছিলেন কলেজ শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান ও সোহেল আহমদ। তারা ফটকের কাছে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন। পর্যটন পুলিশ তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তারা বলেন, ‘মাধবকুন্ডে আগে কখনও আসা হয়নি। এবার প্রথমবার এসেছি। করোনার কারণে এটি যে বন্ধ, তা জানা ছিল না। জানলে এত দূর থেকে আসতাম না। পুলিশ আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি তাই চলে যাচ্ছি।’

ফটোগ্রাফার রুজেল আহমদ বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক মানুষ মাধবকুন্ডে বেড়াতে আসছেন। কিন্তু তারা জলপ্রপাতে ভেতর ঢুকতে পারছেন না। এজন্য তারা চলে যাচ্ছেন। আমরা তাদের ছবি তুলে কিছু টাকা ইনকাম করি। কিন্তু তা খুব সামান্য। এটি খুলে দিলে ভালো হবে, আমাদের আয় বাড়বে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী কবির আহমদ ও আলী হোসেন বলেন, ‘এখন ভরা মৌসুম। অথচ আমাদের বেচাকেনা নেই। গত বছরেও করোনার কারণে এটি বন্ধ ছিল। আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। এবারও আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে গেট খুলে দেন। এতে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।’

মাধবকুন্ডে পর্যটন পুলিশের সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) প্রনীত চাকমা বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মাধবকুন্ডে পর্যটক প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। বিষয়টা অনেকেই জানে না। তাই তারা ঈদের ছুটিতে মাধবকুন্ডে ঘুরতে আসছেন। আমরা তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছি। প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক আসছেন। আমরা কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছি না। এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকের নিরাপত্তায় পুলিশ সবসময় কাজ করছে।’

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..