1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
* বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী   *  বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

মাঠ দখলের লড়াইয়ে এবার সিলেট মিশনে বিএনপির সমাবেশ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩২ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক: সরকারের শেষ সময়ে এসে মাঠ দখলের লড়াইয়ে নেমেছে বিএনপি। বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে চাচ্ছে দলটি। এ পর্যন্ত সম্পন্ন ছয়টি বিভাগে বিএনপির গণসমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। এবার তাদের লক্ষ্য সিলেট। আগামী ১৯ নভেম্বর সিলেট বিভাগে গণসমাবেশ করবে বিএনপি।

সিলেটে গণসমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, লিফলেট বিতরণ, জনসংযোগের মাধ্যমে সমাবেশের প্রচারণা চালাচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। দলটির কেন্দ্রিয় নেতারাও সিলেটে অবস্থান করে সমাবেশের প্রস্তুতি কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।

এক সপ্তাহ আগে থেকেই সমাবেশস্থল সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা মাঠের আশপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানারম, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে। পুরো নগরজুড়েই ঝুলছে বিএনপির সমাবেশের ব্যানার-ফেস্টুন। সময় সময় তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। সবমিরিয়ে এই গণসমাবেশকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। দলের মধ্যে উৎসেবর আমেজ বিরাজ করছে। ১৯ তারিখের সমাবেশে ৪ লক্ষাধিক লোকের জমায়েত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।

বাধার অভিযোগ: সিলেটে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে শুরুতেই দেখা দেয় বিপত্তি। সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ছিলো ২০ নভেম্বর। কিন্তু আলিয়া মাদ্রাসায় এইচএসসি ও সমমামেন পরীক্ষা শুরু হয় ৬ নভেম্বর থেকে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গত ৪ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশের ২০০ গজ এলাকায় সবধরণের জমায়েত নিষিদ্ধ করে সিলেট মহানগর পুলিশ।

ফলে বাধ্য হয়ে ৬ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের সমাবেশ একদিন এগিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বিএনপি। ১৯ নভেম্বর এইচএসসি পরীক্ষা নেই। তাই ওইদিনই সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

ওইরাতেই ঘটে আরেক বিপত্তি। নগরের বড়বাজার এলাকার দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামাল। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতে একটি বিক্ষোভ মিঝিল থেকে নগরের রিকাবীজার এলাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করা হয়।

এতে বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা পাল্টা মিছিল করে ছবি ভাংচুরকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বিএনপির সমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। এরপর এ ঘটনায় ৮ নভেম্বর বিএনপির অজ্ঞতানামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জাহিদ সারোয়ার সবুজ। দুই দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সিলেটে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এরমধ্যে কিছু কিছু এলাকায় প্রচারে বাধা প্রধান এবং নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী।

তিনি বলেন, সমাবেশের প্রচার কার্যক্রম জোরেসোরেই চলছে। বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতংকিত হয়ে সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে বাধা দিছে। আজকেও (রোববার) মৌলভীবাজারে লিফলেট বিতরণকালে পুলিশ বাধা দেয় এবং ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে কানাইঘাটে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শনিবার গোলাপগঞ্জে পুলিশ বিএনপির লিফলেট বিতরণকালে বাধা প্রদান করে।পংকী আরও বলেন, সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ নিয়েও আমরা শংকিত। মামলায় আসামিদের নাম উল্লেখ থাকলে আমরা জামিন নিতে পারতাম। কিন্তু কোন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এতে সমাবেশের আগে নেতকর্মীদের পুলিশ হয়রানি করতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।

সমাবেশ সফলে ছয়টি কমিটি:সিলেটে বিভাগীয় গণসমাবেশ সফলে বিএনপির পক্ষ থেকে ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ‘আবাসন ব্যবস্থাপনা’ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ‘ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা কমিটি’র আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ‘প্রচার ও মিডিয়া কমিটি’র আহ্বায়ক সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ‘অভ্যর্থনা কমিটি’র আহ্বায়ক মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, ‘আপ্যায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং ‘দপ্তর কমিটি’র আহ্বায়ক করা হয়েছে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির শাহীনকে। এসব কমিটিতে সিলেট বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বিএনপির জেলা, মহানগর, পৌরসভা, উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদেরও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

এছাড়া সিলেটে সমাবেশ সফলে সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, ড. এনামুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন সার্বক্ষণিক তদারকিতে আছেন।

ছয়টি কমিটি গঠনের তথ্য জানিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শনিবার থেকে প্রতিটি কমিটিই নিজেদের কাজ শুরু করেছে। কমিটির বাইরেও দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী স্বতস্ফুর্তভাবে সমাবেশ সফলে কাজ করছেন।

৪ লাখ সমাগমের আশা:
চাল, ডাল, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে এই গণসমাবেশ করছে বিএনপি। সিলেটের আগে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদুপরে সমাবেশ করেছে বিএনপি। সমবগুলো সমাবেশেই ছিলো প্রচুর জমায়েত। সিলেটেও তার ধারাবাহিকতা রাখতে চান দলটির এখানকার নেতারা। সিলেটের ৪ জেলা মিলিয়ে সমাবেশে ৪ লাখ লোকের সমাগম হবে বলে আশা বিএনপি নেতাদের।
সমাবেশ সফলে প্রতিদিনই সিলেট নগরের পাশপাশি বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকায়ও প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। এছাড়া আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারাও নিজেদের উদ্যোগে সমবেশে বড় শো-ডাউন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শনিবার বিকেলে নগরের কানিশাইল এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসময় তিনি বলেন, ১৯ নভেম্বর আলিয়া মাদরাসা মাঠের গণসমাবেশ ইতিহাস সৃষ্টি করবে। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে শুধু জাতীয়তাবাদী শক্তি নয়, গণতন্ত্রকামী সিলেটবাসীর মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সূচনা হয়েছে। সিলেটবাসী সকল বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে গণসমাবেশ সফলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটের সমাবেশে অন্তত ৪ লাখ মানুষের সমাগম হবে। যেভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে জমায়েত আারও বেশিও হতে পারে। তিনি বলেন, কেবল সমাবেশ মাঠ নয়, ১৯ নভেম্বর পুরো সিলেট হবে মিছিলের নগর। মাঠের আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামবে।সমাবেশ ঠেকাতে পরিবহন ধর্মঘট ডাকলেও কোন কাজ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প উপায়ে আমাদের নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসবেন। সে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দুর্ভোগ এড়াতে দুতিনদিন আগেই অনেকে সিলেটে চলে আসবেন। তাদের জন্য থাকা-খাওয়ারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাধা দেবে না পুলিশ: রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে কোন বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সিলেটপ মহানগর পুলিশ।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, বিএনপি যদি কোন বিশ্খৃলা সৃষ্টি না করে, মানুষের জানমালের ক্ষতি এবং জনগনের চলাচলে বিঘœ না ঘটিয়ে তাদের কর্মসূচী পালন করে তবে পুলিশ তাতে কোন বাধা দেবে না। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত রা হবে।
সমাবেশের আগে বিএনপির ২৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করা হয়েছে এটা তো সত্য। তাই এ ঘটনায় মামলা হওয়াটাও স্বাভাবিক। তবে মামলায় নীরিহ কাউকে যাতে হয়রানি করা না হয় এ ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..