1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
মৌলভীবাজারের ৫টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ থাকায় এখন ভুতুরে বাড়ি: যাত্রী দুর্ভোগ চরমে: চুরি ও নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের মুল্যবান সম্পদ,নতুন বছরে দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন, দূর হোক সংকট: প্রধানমন্ত্রী. আজ রোববার উদযাপন হবে বই উৎসব. দুর্গম এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় নতুন বই পাঠানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী, নতুন বছরে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী, নতুন আশা নিয়ে মধ্যরাতে বরণ করা হবে ২০২৩ সাল, সিডনিতে আতশবাজির মধ্য দিয়ে ‘নিউ ইয়ার’ বরণ, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে পুলিশের কড়াকড়ি,আবারও প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক হলেন শ্যামল ,নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

জলবায়ুর প্রভাবে ঝুঁকিতে শিশুরা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৪২ বার পঠিত

জলবায়ুর প্রভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের দুই কোটি শিশু। এর মধ্যে অনেকে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ও ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও নদী বিধৌত ব-দ্বীপ বাংলাদেশ আরও প্রাকৃতিক সংকটের মুখোমুখি হয়। উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে থাকায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী দুর্যোগ ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি জলবায়ু বিপদ হিসেবে দৃশ্যমান। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতির কারণে বাংলাদেশের দুই কোটি শিশু সহ বিশ্বের ১০০ কোটি শিশু খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকার সংস্থা কিডস রাইটস বুধবার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ নিয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অল্প বয়সিদের জীবনযাত্রার মান গত দশকে উন্নতি করেনি। জাতিসংঘের সরবরাহ করা পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ২০২২ সালের কিডস রাইটস সূচকে বলা হয়েছে, প্রায় ৮২ কোটি শিশু বর্তমানে তাপপ্রবাহের সংস্পর্শে এসেছে। নেদারল্যান্ড ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা বলছে, পানির ঘাটতি বিশ্বব্যাপী ৯২ কোটি শিশুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬০ কোটি শিশু অর্থাৎ প্রতি চারজনে একজন শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারগুলো যখন ঘরবাড়ি হারাচ্ছে, তখন সেই পরিবারের শিশু অর্থ উপার্জনের জন্য কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বেশি ঝুঁকিতে তৈরি করছে। অসহায় পরিবারগুলো তাদের শিশুদের পর্যাপ্ত খেতে দিতে পারছে না। সেই সব পরিবারে শিশুদের জন্য পাচার এমনকি যৌন পেশায় বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মেয়ে শিশুদের বাল্য বিয়ে বেড়েছে। সাগরের পানি বাড়তে থাকায় উপকূলের মানুষ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমাচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সরবরাহ করা পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে কিডসরাইটস এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে বিশ্বের পানির ঘাটতি বিশ্ব ব্যাপী ৯২ কোটি শিশুকে প্রভাবিত করেছে। এ ছাড়া ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগগুলো প্রায় ৬০ কোটি শিশুকে বা প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শিশুকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য বিষয়টি উদ্বেগজনক। দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ু এখন শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। গত দশকে শিশুদের জীবনের মানদন্ডে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি এবং তার ওপর করোনাভাইরাস মহামারিতে শিশুদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, শরীরে ক্ষতিকারক সিসা বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের সাড়ে তিন কোটির বেশি শিশু। তথ্য মতে, এর মধ্যে ২৪ মাস থেকে ৪৮ মাস বয়সি শিশুদের শতভাগের শরীরেই সিসার উপস্থিতি পেয়েছে গবেষক দল। আর উদ্বেগজনক এ চিত্র উঠে এসেছে আইসিডিডিআর পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায়। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন গবেষকরা। আমরা বলতে চাই, যখন শরীরে ক্ষতিকারক সিসা বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের সাড়ে তিন কোটির বেশি শিশু তখন এই তথ্য এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। গরম ও অন্যান্য জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বড়দের তুলনায় শিশুদের অনেক কম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় তাদের ডায়রিয়া ও অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পুষ্টিহীনতায় ভোগারও ঝুঁকি থাকে এসব শিশুর। দুর্যোগে স্কুল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে শিশুদের রক্ষায় ব্যর্থ বিশ্ব। কার্বন নির্গমন, প্রকৃতির ক্ষতিসাধন, উচ্চ মাত্রার ক্যালরি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য থেকে যে ক্ষতি হচ্ছে তা থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না কোনো দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..