1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
মৌলভীবাজারের ৫টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ থাকায় এখন ভুতুরে বাড়ি: যাত্রী দুর্ভোগ চরমে: চুরি ও নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের মুল্যবান সম্পদ,নতুন বছরে দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন, দূর হোক সংকট: প্রধানমন্ত্রী. আজ রোববার উদযাপন হবে বই উৎসব. দুর্গম এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় নতুন বই পাঠানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী, নতুন বছরে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী, নতুন আশা নিয়ে মধ্যরাতে বরণ করা হবে ২০২৩ সাল, সিডনিতে আতশবাজির মধ্য দিয়ে ‘নিউ ইয়ার’ বরণ, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে পুলিশের কড়াকড়ি,আবারও প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক হলেন শ্যামল ,নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

মাইন বিস্ফোরণে আমি দুই হাত হারাই যুদ্ধদিনের অম্লান স্মৃতির কথা জানালেন  মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী খুশি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১২৫ বার পঠিত

এম মুসাব্বির আলী: মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বার বার মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি সাহসী অপারেশন পরিচালনা করে কয়েকটি ব্রীজ ধ্বংস করি। ১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট বড়পুঞ্জির ক্যাম্পের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ক্যাপ্টেন আব্দুর রবের নির্দেশে ও সুবাদার কুতুবের নেতৃত্বে বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে একটি কঠিন অভিযান পরিচালনা  করি। নান্দুয়া ব্রীজের পাশে পাকিস্তানি শত্রুদের রাস্তায় চলাফেরা না করার জন্য রাস্তায় মাটির নিচে স্থল মাইন পুঁতে রাখি। এসময় একটি মাইন হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলে আমার দুই হাত হারাই এবং দুটি চোখ দগ্ধ হয়’। ভোর তখন সময় ৪টা। তখন প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। যুদ্ধদিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ৩ ডিসেম্বর এই প্রতিবেদককে কথাগুলো বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী (খুশি)। তিনি ৪ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন আব্দুর রব এর অধীনে ওই দলের বিস্ফোরক গ্রুপের একজন দলনেতা ছিলেন। ব্রীজ ও স্থাপনা ধ্বংসের অভিযানে অনেক সাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি।মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী খুশির বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার সাবেক কুলাউড়া ও বর্তমান জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। ১৯৫৩ সালের ২৪এপ্রিল তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল ওহাব চৌধুরী এবং মাতার নাম সৈয়দা আক্তরী নেছা। পরিবারের ২ ভাই ও ৩ বোনের মধ্য খুশি হলেন সবার বড়। যুদ্ধাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল জুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার কথা ছিলো। কিন্তু যুদ্ধে যাবার কারণে আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি। যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা খুশির বয়স ছিলো ১৭।মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী বলেন, শাহবাজপুর ইউনিয়নের নান্দুয়া ব্রীজের পাশে অপারেশন করার সময় আমার সাথে ছিলেন শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর নূর ও আব্দুল মান্নান। মাইন বিস্ফোরিত হয়ে আমি গুরুতর আহত হলে তারা দুজনই আমাকে একটি টুকরীতে (ভিতরে খড় ছিলো) বসিয়ে ভারত সীমান্তের বড়পুঞ্জি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। বর্তমানে আব্দুর নূর জীবিত আছেন এবং আব্দুল মান্নান মারা গেছেন। ওই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে আমাকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ১৫দিন চিকিৎসার পর মাছিমপুর ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে ১৫ দিন পর ভারতের গোহাটি আর্মি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জেনারেল আতাউল গণী ওসমানী আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন। তখন আমি উনাকে বলেছিলাম। স্যার আপনার সাথে কে কে এসেছেন। তখন উত্তরে জেনারেল ওসমানী বলেন, মেজর জিয়াউর রহমান। এরপর গোহাটি থেকে একমাস পর মহারাষ্ট্রের কিরকি হাসপাতালে এবং ১৫দিন পর পুণা সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে
হাত এবং চোখের অপারেশন করা হয়। ডান চোখে অপারেশনের পরে একটু আলো আসে, বাম চোখ
পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। একা চলাফেরা করা যায় না। পুণা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সময়ে আমাকে দেখতে এসেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী,প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জাগ জীবন রাম, মহারাষ্ট্রের গভর্ণর আলী আনোয়ার জং। ভারতের চিত্রনায়ক,গায়ক, বক্সার, বিশিষ্টজনসহ অনেকে। ৪টা থেকে দর্শনার্থীরা ফলফ্রুট নিয়ে আসতেন। একজন মহিলা আমাকে ৩টি রেডিও দিয়েছিলেন। পুণা ক্লাবের সদস্যরা খাবার দিয়ে যেত নিয়মিত।
তারা মনে করতো যে তাদের দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি আমরা। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় দেখা হয় সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহের এর সাথে। কর্ণেল তাহের ছিলেন ১১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার। উনার এক পায়ে হাঁটুর নিচ ছিল না। পুণা থেকে আবার চোখের চিকিৎসার জন্য দিল্লীতে আমাকে নেয়া হয়। দিল্লী সামরিক হাসপাতালে দেখা হয় বিএসএফের বিগ্রেডিয়ার সিভি পান্ডের সাথে। যুদ্ধ শুরুর প্রথমে সিলেট অঞ্চলে
সিভি পান্ডে ট্রেনিং ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন। তৎকালীন সময়ে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ সীমান্তে এলএমজি ফায়ারে উনার হাটুতে গুলি লাগে। আমরা তখন সবাই ছাত্র ছিলাম। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে চিকিৎসা শেষে দেশে চলে আসি। এরপর ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে চিকিৎসার জন্য আবারো পোল্যান্ড পাঠানো হয়। সেখানে ৬মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম। পরবর্তীতে চোখের চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার পর ডান চোখে একটু আলো ফিরে আসে। কিন্তু বাম চোখ আজও নষ্ট। একা চলাফেরা করতে কষ্ট হয়।

আব্দুস শহীদ মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে বলেন, প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় আমার পরিবারের সবাইকে বাড়িতে রেখে প্রশিক্ষণের জন্য ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে মৌলভীবাজার যাই। সেখানে সকল মুক্তিবাহিনীদের সাথে একত্রিত হই। সেখান থেকে শ্রীমঙ্গল চা বাগানে বিএসএফদের অধীনে প্রায় ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন
প্রশিক্ষণে। তখন আমার সাথে ছিলেন জুড়ীর বশির আহমদ, কামরুজ্জামান, সাবিদ আলী, মর্তুজা
আলী, বাবুল বাঙ্গালী। সবাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। এরপর ভারতের আশ্রমবাড়িতে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে নিয়ে যায় বিএসএফ। সেখানে ১ সপ্তাহ প্রশিক্ষণের পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের শিলচর ইন্দ্রোনগরে। সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে পুরো মে মাস প্রশিক্ষণ দেয়া হয় প্রায় ১৫০জন মুক্তিযোদ্ধাকে। সে সময় জালালপুরের ১নং ক্যাম্পের সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন নবীগঞ্জের মাহববুবুর
রব চৌধুরী সাদি। প্রশিক্ষণের সময় জেনারেল ওসমানী ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের স্থল মাইন লাগানো, এ্যান্টিট্যাংক মাইন, রাইফেল চালানো,গ্রেনেড, হ্যান্ড গ্রেনেড, এল.এম.জি স্ট্যানং গ্যাং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আমাদের বিশেষ আরেকটি দায়িত্ব ছিলো হিট এন্ড রান। ট্রেনিং সেন্টারের ভারতীয় কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল বাগসী। প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন মেজর চুয়ান। ৪নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলের মেজর সি আর দত্ত। বড়পুঞ্জি সাব সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন আব্দুর রব। যুদ্ধকালীন সময়ে ৪নং সেক্টরের করিমগঞ্জ থেকে কমলগঞ্জের উল্টো দিকে ভারতের কমলপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। যার মধ্যে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
সেই সাব-সেক্টরের মধ্যে বড়পুঞ্জি ছিল একটি সাব-সেক্টর। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন আব্দুর রব। ৪-৫ নং সেক্টরের স্বমন্বয়ে গঠিত হয় উত্তর পূর্বাঞ্চল জোন। যার মূল রাজনৈতিক দায়িত্বে (চেয়ারম্যান) ছিলেন হবিগঞ্জের দেওয়ান ফরিদ গাজী এমএনএ। সে সময় ৩-৪ নং সেক্টরে
বিভিন্ন যুবশিবির ছিল। যুবশিবিরে তৎকালীন সময়ে মৌলভীবাজারের বর্তমান জেলা পর্ষিদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, হবিগঞ্জের কমান্ডার মানিক চৌধুরী এমপি, জুড়ীর তৈমুছ আলী, রাজনগরের তোয়াবুর রহিম এমপিএ, শ্রীমঙ্গলের আলতাবুর রহমান চৌধুরী, কুলাউড়ার ব্যারিস্টার আব্দুল মোন্তাকিম চৌধুরী যুবশিবিরের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় হবিগঞ্জের মানিক চৌধুরী
এমপি আমাকে দুইবার চিঠি দিয়ে ভারতীয় কুকিতল সীমান্তে বিএসএফ ক্যাপ্টেনের কাছে পাঠান। সেখান থেকে ক্যাপ্টেনের সাথে পাঁচগ্রাম বিএসএফ হেডকোয়ার্টারে চিঠি পৌছে দেই। সেখান থেকে বিএসএফ ডাউকীতে যায়। জুড়ীতে তখন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তৈমুছ আলী এমপি। এপ্রিলের ১ম সপ্তাহে মোজাহিদ,আনসার, ইপিআরদের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নিয়ে মৌলভীবাজার মেজর সি আর দত্ত ও মানিক চৌধুরী কাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে যোদ্ধা সংগ্রহ করে দিতাম দল শক্তিশালী করার জন্য। মেজর সি
আর দত্ত তখন তাদের বিভিন্ন জায়গায় অপারেশনের জন্য পাঠাতেন। যুদ্ধের সময় আমাদের মূল দায়িত্ব ছিলো পাকিস্তানি সৈন্যরা রাস্তার মধ্যে চলাচল না করার জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে রাস্তায় মাইন পুঁতে রাখার কাজ। তখন ১২ পাউন্ড ওজনের একটি এ্যান্টিট্যাংক স্থল মাইন প্রধান রাস্তায় পুঁতে রাখা হয়।

জকিগঞ্জের শরীফপুর বাজারের নদীর উপর ও বিয়ানীবাজারের জলটুপ নামক স্থানে ব্রীজ ভেঙ্গে দেয়ার স্মৃতিচারণা করে বলেন, ভারতীয় বাহিনীর নির্দেশে প্রশিক্ষণে থাকা অবস্থায় জুন মাসের শেষে তাঁরা কয়েকজনকে জকিগঞ্জের ভাঙ্গার পাশে শরীফপুর বাজারের নদীর উপরে ব্রীজ ভাঙ্গার জন্য পাঠানো হয়। তখন রাত ছিলো ১২টা। প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। ব্রীজের উপরে ওঠার পর তারা এ্যাম্বুশে পড়ে যান। প্রচন্ড গোলাগুলি
হয় পাকিস্তানিদের সাথে। ব্রীজ থেকে রাস্তাটি ছিল ৪ফুট নিচু। এরপর নিচে ছিল বাঁশঝাঁড়। পাকিস্তানি সৈন্যেরা ব্রীজের উপরে শুয়ে ছিলো। বাঁশ ঝাড় থাকায় আমরা সবাই নিরাপদে চলে আসি। আমাদের জন্য নৌকা রাখা হয়েছিল। ব্রীজটি ছিল রহিমপুর খাল নামে। প্রায় ২০০ ফুট লম্বা ব্রীজ। ব্রীজটি ছিলো পাকিস্তানের ভূমিতে। গোলাগুলি শব্দ শুনে মাঝি নৌকা নিয়ে ভয়ে পালিয়ে যায়। আমরা নদী দিয়ে সাঁতার কেটে ভারতীয়
ভাঙ্গার ক্যাম্পে চলে আসি। পরের সপ্তাহে আবার ব্রীজটি দিনের বেলায় ভাঙ্গা হয় পাকিস্তানিদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য। তখন ছিল জুন মাস। নদীর উপরে একটা বাঁধ ছিলো। বাঁধটি ডিনামাইট দ্বারা উড়িয়ে দেয়া হয়। আগস্ট মাসের শুরুর দিকে বিয়ানীবাজারের জলটুপ নামক স্থানে ব্রীজ ভাঙ্গতে সক্ষম হই। ব্রীজের পিলারের
সাথে টিএনটি স্লেপ লাগিয়ে ডেটনেটার কোড লাগিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হত। প্রতি এক মিনিটে ১ ফুট আগুন জ্বলে। ১-৩ মিনিটি সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে দৌড়ে আসতে হবে।
আসতে যত সময় লাগে তত সময়ের জন্য কোড দেয়া হত। আমাদের কমান্ডার ছিলেন সুবাদার কুতুব। তাঁর নেতৃত্বে বিয়ানীবাজারের ব্রীজটি ভাঙ্গা হয়। জুন মাসে রহিমপুর ব্রীজে গোলাগুলির সময় পাকিস্তানি দৌড়ে আসলে আমাদের ধরতে পারতো। কিন্তু আমরা পাল্টা গোলাগুলি করায় তারা বুঝতে পারে যে আমরাও প্রস্তুত রয়েছি যুদ্ধ করতে। থ্রি নট থ্রি রাইফেল আর হাতে ছিলো গ্রেনেড। একদিকে গ্রেনেড হামলা করি। অস্ত্র হাতে
ছিলেন ৪ জন। মোট ছিলেন ১০ জন। তখন জুড়ী উপজেলা থেকে শুধু আমি ছিলাম। বাকিরা ৯ জন বিভিন্ন উপজেলার। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী খুশি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশে কিছুই ছিলনা। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আজ এই সোনার দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশ পেয়েছে স্বাধীনতা, কিন্তু আমি আমার নায্য স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের
বিষয় যে, ঢাকা মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের থাকার জন্য। কিন্তু আমি শতভাগ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা থাকার পরও আমার নামে এখনো বাড়ি বরাদ্দ করা হয়নি। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা দেয়া হত টেলিফোন বিলের জন্য। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ
ট্রাস্ট থেকে বাড়ি বরাদ্দ এবং টেলিফোন বিল সুবিধার ব্যাপারে ট্রাস্ট থেকে যে তালিকা দেয়া হয় সেই তালিকায় আমার নাম দেয়া হয়নি। আমার আবেদন থাকার পরও আমাকে এই সুবিধা দেয়া হয়নি। ২০১৫ সালে বাড়ি বরাদ্দ হয়। সারাদেশের এ ক্যাটাগরির ৯ জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার বাড়ি বরাদ্দ দেয়। ৯ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪ জন ইতিমধ্যে বাড়ি পেয়েছে। কিন্তু আমি এখনো পাইনি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোন কাজ হয়নি, তিনি শুধু আশ্বাস দিয়েছেন। ২০০৪ সাল থেকে আবেদন করে আসছি কিন্তু কোন কাজই হচ্ছেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আকুল আবেদন আমাকে আমার দাবি মেনে এই সুযোগ-সুবিধা দেবার জন্য

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..