1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
ব্রেকিং নিউজ :
 করোনা আপডেট :   করোনায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৩২২

আকাশে দস্যুতার প্রথম হোতা ছিল ফ্রান্স, তার পর ইসরায়েল

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ১৯ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মাঝ আকাশে ভিন্ন একটি দেশের যাত্রী বিমানের সাথে দস্যুর মতো আচরণ প্রথম করেছিল ফ্রান্স ১৯৫৬ সালে।

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের কজন নেতাকে আটক করতে ফ্রান্স যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে জোর করে একটি যাত্রী বিমানকে অবতরণ করিয়েছিল।

১৯৫৬ সালে ২২ অক্টোবর আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকামী এফএলএনের পাঁচজন নেতা- যাদের মধ্যে স্বাধীন আলজেরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট নেতা আহমেদ বেন বেল্লাও ছিলেন- আঞ্চলিক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি একটি যাত্রী বিমানে চড়ে মরক্কোর রাজধানী রাবাত থেকে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে যাচ্ছিলেন ।

ফরাসি গোয়েন্দা বিভাগ খবরটি জেনে গিয়েছিল। যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে মাঝ আকাশে মরক্কোর বিমানটিকে জোর করে আলজেরিয়ার একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে নামানো হয়।

আলজেরিয়া তখন ফরাসি উপনিবেশ। আলজেরীয় রাজনীতিকদের ধরতে বিমান অপহরণের এ ঘটনায় প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিল মরক্কো এবং তিউনিসিয়া। ফ্রান্সের কোনো শাস্তি তাতে হয়নি।

লেবানিজ বিমান ইসরায়েলে অবতরণ
যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে জোর করে একটি যাত্রী বিমানকে অবতরণ করার দ্বিতীয় বড় ঘটনাটির হোতা ছিল ইসরায়েল। ১৯৭৩ সালের ১১ অগাস্ট লেবাননের বইরুত বিমান বন্দর থেকে ইরাকি এয়ারলাইন্সের ভাড়া একটি লেবানিজ বিমান ৮১ জন যাত্রী নিয়ে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলের দুটো যুদ্ধবিমান লেবাননের আকাশসীমায় বিমানটিকে জোর করে ইসরায়েলি শহর হাইফার কাছে একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করায়।

ইসরায়েল খোলাখুলি বলেছিল ফিলিস্তিনি গেরিলা নেতা জর্জ হাবাশকে ধরার জন্য তারা এটি করেছে।

তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে দায়ান বলেন, সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী পপুলার ফ্রন্ট ফর দি লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএফপি) নেতা জর্জ হাবাশকে ধরতে বইরুত থেকে বাগদাদগামী বিমানটিকে হাইফাতে নামানো হয়েছিল।

তবে জর্জ হাবাশকে ইসরায়েল পায়নি, কারণ ঐ বিমানে তার বাগদাদ যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি এবং তার ডেপুটি সালাহ সালাহ শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করেছিলেন যে খবর ইসরায়েলিরা তখনও পায়নি।

ইরাকি এয়ারওয়েজের মূল বিমানটি বৈরুতে পৌঁছুতে দেরি হওয়ায় লেবানিজ বিমানটি ভাড়া করা হয়- যে ঘটনায় মি হাবাশ হয়তো সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন।

বিমানের লেবানিজ ক্যাপ্টেন জর্জ মাত্তা ইসরায়েলিদের নির্দেশ মেনে বিমানটি হাইফার বিমান ঘাঁটিতে নামান। অবতরণের পর বন্দুকের মুখে বিমানের ৭৪ যাত্রী এবং সাতজন ক্রুকে নামিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুই ঘণ্টা পর বিমান ও সেটির যাত্রীদের আবারো ওড়ার অনুমতি দেয় ইসরায়েল।

পরে যাত্রীরা সাংবাদিকদের জানান, বিমানের ভেতর তল্লাশির সময় ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে কিছু নামের তালিকা এবং ছবি ছিল।

যাত্রীদের ভেতরে ছিলেন ইরাকি পরিকল্পনামন্ত্রী জাওয়াদ হাশেম। তিনি পরে বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে চাইছিল যাত্রীদের মধ্যে কোনো ফিলিস্তিনি রয়েছে কিনা। ‘তারা আমাকেও জিজ্ঞেস করেছিল আমি কোনো গেরিলা কিনা।’

ঐ বিমানে যাত্রীদের সিংহভাগই ছিলেন লেবানিজ এবং ইরাকি। ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিল বিশেষ করে লেবানন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তারা ‘বিমান দস্যুতার’ অভিযোগ আনে। ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপর দাবি জানায়। লেবাননের তখনকার তথ্যমন্ত্রী ফাহমি শাহিন তখন বলেছিলেন নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সাথে এর প্রতিকার নিয়ে তারা কথা বলছেন।

ঘটনার পরদিনই বৈরুতে সমস্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছিল যেখানে বলা হয়, ‘গত রাতে যেভাবে একটি যাত্রী-বিমান ইসরায়েল জোর করে অবতরণ করিয়েছে সেটি কোনা রাষ্ট্রের আচরণ নয়, বরং গুন্ডাগিরি।’

ইসরায়েলকে বয়কট করার জন্য আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের কাছে আবেদন করে লেবানন।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সরকার ইরাকি এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা লেবানিজ বিমানটিকে জোর করে অবতরণের কঠোর নিন্দা করেছিল তখন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছিলেন বিমানটিকে জোর করে নামিয়ে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের ফ্লাইট ‘অপহরণ’
লেবানিজ বিমান জবরদস্তি করে অবতরণ করানোর ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সে সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের নিন্দা করলেও ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টকে বহনকারী একটি বিমান অন্য দেশে অবতরণে বাধ্য করা এবং তার ভেতর তল্লাশির অভিযোগ ওঠে।

২০১৩ সালের দোশরা জুলাই বলিভিয়ার সরকার জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ করে যে তাদের প্রেসিডেন্ট এভো মোরালেসকে ‘অপহরণ’ করতে তাকে বহনকারী বিমানটিকে জোর করে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবতরণ করা হয়েছে। প্রচণ্ড হৈচৈ হয়েছিল প্রায় আট বছর আগের বিরল ঐ ঘটনা নিয়ে।

বারাক ওবামা তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রশাসনকেই এর জন্য দায়ী করে বলিভিয়া এবং তার প্রতিবেশীরা। বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশে ফিরছিলেন মস্কোতে জ্বালানি গ্যাস রপ্তানিকারকদের এক সম্মেলন শেষ করে দেশে ফিরছিলেন।

আগের দিন পহেলা জুলাই (২০১৩ সাল) তিনি রুশ টিভি চ্যানেল আরটিতে একটি সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন শিয়ায় আশ্রয় নেয়া আমেরিকান সাংবাদিক এডওয়ার্ড স্নেডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে তার দেশ প্রস্তুত।

পরের দিন যখন প্রেসিডেন্ট মোরালেসের ডাসল্ট ফ্যালকন ৯০০ বিমান রাশিয়ার নুকোভা বিমানবন্দর থেকে উড়ে পোল্যান্ড এবং চেক রিপাবলিকের ওপর দিয়ে উড়ে যখন অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় জরুরী অবতরণ করে তখন তা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়।

বলিভিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয় যে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং ইটালি তাদের আকাশসীমায় তাদের প্রেসিডেন্টের বিমানটিকে ঢুকতে দিতে অস্বীকার করায় বিপদে পড়ে গিয়েছিলেন পাইলট। বিমানটির গতিপথ বার বার বদলাতে গিয়ে জ্বালানি তেলের স্বল্পতা তৈরি হয়। পরে বিমানটিকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার বিমানবন্দরে নামে।

বলিভিয়া পরে অভিযোগ করে, পরিকল্পনা করেই বিমানটিকে ভিয়েনায় নামতে বাধ্য করা হয়েছিল।

অস্ট্রিয়ার তৎকালীন ডেপুটি চ্যান্সেলর মাইকেল স্পিনডেলেগার তখন বলেছিলেন বলিভিয়ার বিমানটির ভেতরে ঢুকে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছিল। খুবই স্পষ্ট ছিল যে অস্ট্রিয়ার পুলিশ সেদিন মি স্নোনেডেনের খোঁজ করেছিল।

ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে বলিভিয়ার বিমানটিকে তাদের আকাশসীমায় ঢুকতে না দেয়ার কারণ হিসাবে ‘কারিগরি’ সমস্যার যুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু বলিভিয়া সবসময় বলেছে ওগুলো ছিল ষড়যন্ত্রের অংশ।

পরে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে গার্সিয়া মারগারো স্বীকার করেছিলেন তাদেরকে বলা হয়েছিল বলিভিয়ার বিমানে এডওয়ার্ড স্নেডেন রয়েছেন, কিন্তু তাদের এ তথ্য দিয়েছিল তা তিনি প্রকাশ করেননি।

বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট মোরালেসের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন সে সময়কার অস্ট্রিয়ান প্রেসিডেন্ট হেইঞ্জ ফিশার। বিমানটির ভেতরে বসে তারা একসাথে নাস্তা করেছিলেন।

এডওয়ার্ড স্নেডেন বিমানে নেই তা নিশ্চিত করার পর বিমানটিকে যাত্রা শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।

বলিভিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার আরো ছটি দেশ- আর্জেন্টিনা, কিউবা, একুয়েডর, নিকারাগুয়া, উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলা- জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘একজন রাষ্ট্রপ্রধান এবং তার বিমান নিয়ে এমন আচরণ আইন বিরুদ্ধ।’

ঘটনার পরপরই ফ্রান্স দুঃখ প্রকাশ করে। কয়েক সপ্তাহ পর বলিভিয়ায় স্পেনের রাষ্ট্রদূত দুঃখ প্রকাশ করেন। ইতালি এবং পর্তুগাল ঘটনার ব্যাপারে তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছিল বলিভিয়ার সরকারের কাছে।

যুক্তরাষ্ট্র কলকাঠি নেড়েছে?
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ বা অনুরোধেই যে প্রেসিডেন্ট মোরালেসের বিমানটিতে অবতরণে কার্যত বাধ্য করা হয়েছিল তা নিয়ে তেমন সন্দেহ কারোরই তখন ছিল না।

নাটকীয় এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৩রা জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তৎকালীন মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, স্নোডেনের খবর জানার জন্য তারা বিশ্বের অনেক দেশের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।

ঘটনার দিনই বলিভিয়া অস্ট্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রেসিডেন্টকে ‘অপহরণের’ অভিযোগ এনেছিল।

জাতিসংঘে বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত সাচা লরেন্টি সোলিজ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘একজন প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় সফর থেকে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই হোয়াইট হাউসের নির্দেশেই এটা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..