1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  • E-paper
  • English Version
  • সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
করোনা আপডেট : ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ জনরে মৃত্যু, শনাক্ত ২ হাজার ৩২৫

মৌলভীবাজার আমতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষকের কুপ্রস্তাব: স্যোশাল মিডিয়ায় ঝড়: ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ৪৩২৭ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের ঐহিত্যবাহী আমতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শ্লালীনতাহানি, মানসিক নির্যাতন ও কুপ্রস্তাব নিয়ে বিচারের দাবীতে ফুসে উঠেছে স্কুলের ছাত্র/ছাত্রী,স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী। স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে তোলপাড়। নিন্দা ও ঘৃনা জানাচ্ছে সর্ব স্তরের মানুষ। ভোক্তভূগী ছাত্রী বলছে সুষ্ঠ বিচার না পেলে শিক্ষা প্রতিষ্টানের দ্বি-তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবে। ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে বলে ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগে জানা গেছে- আমতৈল ইউনিয়নের আটহাল গ্রামের বাসিন্দা আমতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষক হিমাংশু শেখর বাচ্ছু দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ভাবে বিয়ের প্রস্তাবসহ শ্লীলতাহানীসহ করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এক সময় ছাত্রীটি প্রলোভনে অনাস্থা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতেও কোন কাজ না হওয়ায় শিক্ষার্থীকে বাসা ক্রয় করে দেওয়া, দশ লাখ টাকা নগদ, এক লাখ টাকা দামের মোবাইল ফোন ইত্যাদি প্রলোভন দেখিয়ে অসামাজিক কাজ করার চেষ্টা করেন। তার এ কুপ্রস্তাবে ভিকটিম অপারগতা জানালে শুরু হয় স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের সম্মুখে বিভিন্ন খারাপ মন্তব্য। এক পর্যায়ে হিমাংশু শেখর এর ভয়ে শিক্ষার্থী তার পরিবারকে অবগত করলে নিরাপত্তার জন্য পরিবার লোক স্কুলে যাওয়া আসা করে । বিগত রমজান মাসে ঐ শিক্ষার্থীকে স্কুলে একা আসতে বললেন প্রধান শিক্ষক। সে স্কুলে আসলে এবং পুনরায় একই ভাবে তার সাথে দৈহিক মিলনের প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থী তার মা ও পরিবারকে কু-প্রস্তাবের বিষয়টি অবগত করলে তারা স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষক হিমাংশু শেখর বাচ্ছুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক হিমাংশু শেখর বাচ্ছু উত্তেজিত হয়ে ভিকটিম ও তার মাকে খারাপ ভাষায় গাল মন্দ করে তাড়িয়ে দেন। শিক্ষার্থী ও তার পরিবার নিরুপায় হয়ে চিৎকার করে সাহায্য চাইলে কেহ তার সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। ভিকটিম স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় বিচার না পেলে বিদ্যালয়ের দু’তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবে বলে ঘোষনা দেন। পরবর্তীতে স্কুল থেকে বেরিয়ে আসে আমতৈল বাজার পয়েন্টের দোকানের ব্যাবসায়ী আবু সুয়াইব আহমদ,বিশাল আহমদ স্বপনসহ স্থানীয় লোকজনদের কাছে প্রধান শিক্ষকের এসব ঘটনায় ন্যায় বিচার চেয়ে কান্না কাটি করতে থাকেন। দোকানদারসহ স্থানীয় লোকজন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী যুব সমাজ, শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহল মনে করছেন স্যোশাল মিডিয়ায় খবরে চতুর চালাক নারী লোভী হিমাংশু শেখর বাচ্ছু এহেন অসামাজিক কার্যকলাপে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছেন। অনেক সংগঠন মানবন্ধন, প্রতিবাদ সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর ডাক দিচ্ছেন। অপরদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালীদের নিয়ে তড়িঘরি বৈঠক করে বিষয়টি ধামাচাপার দেয়ার চেষ্টা করছেন। গত ২৫ মার্চ মঙ্গলবার মৌলভীবাজার শহরের জনৈক এক রাজনৈতিবিদ এর বাসায় সু-কৌশলে ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভীতি ও চাপ নিয়ে রাতের আধারে গোপনে একটি সমঝোতা বৈঠকে বসে। এহেন জগন্য ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে সমালোচনার তীব্র ঝড় উঠেছে। প্রধান শিক্ষক স্কুলে ক্লাস রুমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে বিভিন্ন অশুভ আচরন করার অভিযোগ রয়েছে। দিন দিন অনৈতিক আচরণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শিক্ষক হিমাংশু শেখর বাচ্ছুকে নিয়ে যারা বিভিন্ন মন্তব্য করলেন- * সৈয়দ শামিম ইসলাম নামীয় একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, মৌলভীবাজারের ৯নং আমতৈল ইউনিয়নের আমতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাচ্চু স্যার ছাত্রী ধর্ষণ অভিযোগে অভিযুক্ত বর্তমানে উনি পলাতক,যদি কেউ উনাকে কোন এলাকায় দেখেন ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিবেন। শিক্ষক নামের কলঙ্ক উনাকে উচিত শিক্ষা দেয়া উচিত। তার এই আইডিতে বিভিন্ন কমেন্ট করে নিন্দাসহ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। *জুবায়ের আহমদ জুবেল নামীয় একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, শিক্ষক কতৃক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি। বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কে প্রধান শিক্ষক অনেক দিন যাবত কো-প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। এক পর্যায় বিদ্যালয়ের একটি রুমে মেয়েটির গায়ে এবং স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন,মেয়েটি কোনো রকম ওনার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে বাড়িতে গিয়ে মেয়েটি তার অভিবাবকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসলে এর বিচার চাইলে (প্রধান শিক্ষক) বাচ্চু খুব রাগারাগি করে মেয়েটি এবং অভিভাবকের সাথে খারাপ ভাষায় গাল মন্দ করে। এক পর্যায় মেয়েটি অসহায় হয়ে চেঁচা-মেছি শুরু করে স্কুল থেকে বেরিয়ে এসে আমতৈল পয়েন্টে/বাজারে এসে প্রত্যেক মানুষের কাছে বিচার চেয়ে আর কান্না করতেছে। তখন এক প্রত্যক্ষদর্শী মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করিলে উত্তরে মেয়েটি হাউমাউ করে কান্না করে বলতে শুরু করে প্রধান শিক্ষক আমাকে প্রেমের কো-প্রস্তাব দেয় এবং আমার গায়ে হাত দেয় এমনকি মানসিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসতেছে। মেয়েটি বলতেছে সুষ্ঠু ন্যায়-বিচার না পেলে মেয়েটিটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে। এখন পর্যন্ত মেয়েটির পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসতেছে। এছাড়া আমরা প্রশাসন এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির কাছে এর সুষ্ঠু বিচার এবং প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করছি। আজকে যদি এর সুষ্ঠু বিচার না হয় তাহলে আগামীকাল হয়তো কারো মা বোন এভাবে নির্যাতন হতে সময় লাগবে না। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ করুন এবং এদের মত কিছু কুলাংগারদের কারণে আজ অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের মান সম্মান নষ্ট হচ্ছে। * মো: সোয়াইব আহমদ নামীয় একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের হেড মাস্টার/প্রধান শিক্ষক বাচ্চু স্যার। সাতহাল গ্রামের সঞ্জয় এর বোন, বিদ্যালয়ের বর্তমান রানিং ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক অনেক দিন যাবত কো-প্রস্তাব দিচ্ছেন। এক পর্যায় মেয়েটির গায়ে স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন,পরে মেয়েটি তার অভিভাবকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসলে বাচ্চু খুব রাগারাগি করে মেয়েটিকে খারাপ ভাষায় গাল মন্দ করে,এক পর্যায় মেয়েটি অসহায় হয়ে ছেচা-মেচি শুরু করে স্কুল থেকে বেরিয়ে আসে আমতৈল পয়েন্টে /বাজারে এসে প্রত্যেক দোকানে বিচার চাইতেছে আর কান্না করতেছে তখন আমিও দোকানে ছিলাম মেয়েটিকে জিজ্ঞাস করিলে উত্তরে বলে হেডমাস্টার আমাকে কো-প্রস্তাব দেয় এমন কি আমার গায়ে হাত দেয়,আমি এর বিচার চাই,আপনাদের এলাকায়। পরে মেয়েটি নিরুপায় হয়ে চলে যায়। সেই সময় এলাকার বেশ লোক জন উপস্থিত ছিলেন, গত ২৬তারিখ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দুইজন সাংবাদিক প্রথমে মেয়েটির বাড়ি যান। পরবর্তীতে আমতৈল পয়েন্টে এসে উনারা অনেক তথ্য প্রমান সংগ্রহ করেন। মেয়েটি জানায় ন্যায় বিচার না পেলে সে প্রথম দিন হেড স্যারকে বলেছিল বিদ্যালয়ের দু’তলা ভবন থেকে লাফ দিবে। এখনও বলতেছে ন্যায় বিচার না পেলে মেয়েটি আত্মহত্যা করবে। সচেতন মহল কে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এর প্রতিবাদ করি,না হয় কাল আপনার আমার বোনের সাথে/ মেয়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। হেড মাস্টার এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। এই হেড মাস্টার এর অধিনে আমাদের ছোট ছোট বোনেরা মেয়েরা নিরাপদ নয়। মেনেজিং কমিটিসহ আমতৈল ইউনিয়নের বিজ্ঞ মুরব্বীদের সুদৃষ্টিসহ প্রশাসনের সাহায্য কামনা করতেছি। এ ব্যাপারে আমতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিমাংশু শেখর বাচ্ছুকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত একাধিক বার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..