1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
ব্রেকিং নিউজ :

আগের দিন ৬ মৌজার সভায় সিদ্ধান্ত পরের দিন কার্যকর নোয়াগাঁও গ্রামে অগ্নিসংযোগে কেউ না গেলে ১২ হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়েছিল !

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
  • ৬০ বার পঠিত

শাহ সুলতান আহমদ :: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল ৬ মৌজা কর্তৃক অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ ঘটনার মূল নায়ক আলোচিত ও সমালোচিত ইমদাদুর রহমান মুকুল। তিনি গরিবের চাল আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গজনাইপুর ইউপির চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত হন। এছাড়া চাল চুরির দায়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এবার অসহায় মানুষের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে ফের আলোচনায় তিনি। সূত্র বলছে- ঘটনার আগেরদিন সাতাইহাল ৬ মৌজার মিটিংয়ে নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজনকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি আগে থেকেই অবগত ছিল প্রশাসন। নোয়াগাঁও গ্রামের তান্ডবে সাতাইহাল ৬ মৌজার লোকজনের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে নেয়া হয় কঠোর সিদ্ধান্ত। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ৬ মৌজার কেউ না গেলে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় আগেরদিনের মিটিংয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছয় মৌজার একাধিক লোকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গত ২৯ মে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ফুলতলী বাজারে সাতাইহাল ৬ মৌজার এক জরুরী মিটিংয়ের আহবান করা হয়। মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন গজনাইপুর ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল। মিটিংয়ে মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে, গত ২৬ মে রাতে পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের রোক্ষা বিলের পার্শ্ববর্তী অবস্থিত তাঁর ব্যক্তি মালিকানাধীন ফিশারির পাহাড়াদার আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী জারু বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ও পরবর্তীতে থানায় মামলা দায়েরর বিষয়টি অবহিত করেন। মিটিং চলাকালীন সময় আলোচনা সাপেক্ষে এক পর্যায়ে ৬ মৌজার মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত জানান ইমদাদুর রহমান মুকুল। সিদ্ধান্তে নির্দেশ দেয়া হয়, রবিবার ৩০ মে সকালে ৬ মৌজার সকল লোকজন একত্রিত হয়ে নোয়াগাঁও’র হাওড়ে গিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের উচ্ছেদ করা হবে। একই সাথে ৬ মৌজার কেউ এই উচ্ছেদে না গেলে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করারও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া মিটিংয়ের কোনো সিদ্ধান্ত ৬ মৌজার বাহিরের কাউকে জানালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতার মালা দিয়ে ছয় মৌজা প্রদক্ষিণের সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে রবিবার সকালে ৬ মৌজার ২-৩ হাজার লোকজন একত্রিত হয়ে নোয়াগাঁও হাওড়ে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে সেখানে চলে যায়। অন্যদিকে ২৯ মে রাতেই সাতাইহাল ছয় মৌজা কর্তৃক সহিংসতার সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উধ্বর্তন কর্তকর্তাদের অবগত করেন পানিউমদা ইউনিয়নের নেতৃত্ব স্থানীয় লোকজন। এর ফলে ঘটনার ১ দিন আগে থেকেই সহিংসতার বিষয়ে অবগত ছিল প্রশাসন। গত রবিবার ৩০ মে সকালে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন ও নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ডালিম আহমেদ বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ সাতাইহাল গ্রামে গিয়ে নেতৃ স্থানীয়দের সহিংসতায় না জড়াতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সাতাইহাল ৬ মৌজার লোকজন ততক্ষণে নোয়াগাঁও’র হাওড়ে পৌঁছে ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু করে। কৌশলগত কারণে ঘটনাস্থলে যাতে পুলিশ না যেতে পারে সেজন্য প্রশাসনকে কথার মারপ্যাচে আটকে রাখে ৬ মৌজার কিছুসংখ্যক গ্রাম্য মোড়লরা। প্রায় ৩০ মিনিট পর খবর পেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা র‌্যাব-পুলিশ নিয়ে নোয়াগাঁও’র হাওড়ে পৌছাঁলে ততক্ষণে সাতাইহাল ৬ মৌজার লোকজনের দেয়া আগুনে নোয়াগাঁও গ্রামের অসহায় মানুষের ১৩টি ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। শুরু হয় অসহায় মানুষের আহাজারী। সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে নিরপরাধ অসহায় মানুষ। ক্ষতিগ্রস্থদের আহাজারিতে এক মানবেতর দৃশ্যে অবতারণ হয়। অগ্নিকা-ে পুড়ে যায় পবিত্র কোরআন শরীফসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় ধান,ঘরের আসবাবপত্রসহ অনেক জিনিস। পরে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন,উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের টিন,নগদ অর্থ,চাল ও খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়। এ ঘটনায় গত ১জুন পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে জামাল হোসাইন বাদী হয়ে নুর উদ্দিন (বীরপ্রতিক), গজনাইপুর ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ ৪৭জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারেও গত (২৯ মে) শনিবার রাতের সাতাইহাল ছয়মৌজার মিটিংয়ে ইমদাদুর মুকুলের নির্দেশে নোয়াগাঁও গ্রামের হামলা করার হয় বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ওই হামলায় প্রায় আগুণে পুড়ে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা পুড়িয়ে নষ্ট করা হয় এবং ৩১ লাখ লাখ ৭২ হাজার ৬শত টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গজনাইপুর ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ ৯জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন বলেন, বিষয়টি পূর্বে অবগত হয়ে আমরা (৩০ মে) সকালে সাতাইহাল হায়রাঘাটে পৌঁছি, কিন্তু ভোর থেকেই সাতাইহাল ৬ মৌজার দুষ্কৃতিকারী লোকজন নোয়াগাঁও গ্রামের হাওড়ে যেতে শুরু করে। আমরা সেখানে পৌঁছে¡ স্থানীয় মুরুব্বিয়ানদেরকে আহবান করি তাদের লোকজনকে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং মাইকিংও করা হয় । তখন সেখানে উপস্থিত নেতৃস্থানীয় লোকজন প্রশাসনকে আশ্বস্থ করেন যে ৬ মৌজার মানুষ কোনো ধরণের সহিংসতায় যাবেনা এবং ফিরে আসবে। তাদের আশ্বাসের পরও এরকম ঘটনা ঘটলো এটা সত্যিই দুঃখজনক। যে বা যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত অবশ্যই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইউএনও বলেন, ৬ মৌজার মিটিংয়ে (৩০মে) সকালে নোয়াগাঁও গ্রামে যদি কেউ না যায় তাহলে তাকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিষয়টি আমি ঘটনার পরবর্তীতে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে অবগত হয়েছি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..