1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ১০:১৯ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

সাইফুর রহমানের অভাব পূরণ করবেন জ্যেষ্ঠ পুত্র এম নাসের রহমান

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩১৮ বার পঠিত

 

আব্দুল বাছিত বাচ্চু : আমরা ছিলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রদলের কর্মী । তবে একজন সিলেটী হিসেবে আমাদের রাজনৈতিক প্রেরণার উৎস ছিলেন বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের সফল অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান।
আমি ছিলাম ৮৬ ব্যাচের নিয়মিত শিক্ষার্থী। সোনার হরিণ ধরার আশায় পাঠ চুকিয়ে কুয়েতে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম। কিন্তু উপসাগরীয় যুদ্ধের ডামাডোল শুরু হলে কুয়েত যাওয়ার আশা দূরাশায় পরিনত হয়। স্টাডি ব্রেক হওয়ার পরও আবার পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেই। ১৯৯৩ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে উচ্চতর প্রথম বিভাগে এস এস সি পাস করি। একাদশে ভর্তি হই মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে। তখন বিএনপি সরকারে। আর প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান দেশের অর্থমন্ত্রী। ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে আমরা প্রায়ই উনার বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। আর কলেজের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও তিনি আসতেন। আমরা বন্ধুরা মিলে কলেজ থেকে বের করি অনিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা ‘শিশির’। আমি ছিলাম কাগজটির সম্পাদক ও প্রকাশক। নতুন এই সাহিত্য পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জানাব এম সাইফুর রহমান । নতুন কাগজ হাতে পেয়ে এ বিষয়ে কিছু না বলে আমাকে বলেন, সবকিছুর আগে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।
বিশ্ববরেণ্য এই অর্থনীতিবিদ ছিলেন খুবই স্পষ্টভাষী একজন মহান নেতা।
১৯৯৪ সালে সংসদের বিরোধীদলগুলো তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করছে। এসময় সম্ভবত ডিসেম্বর মাসে এক সকালে মৌলভীবাজারের পুরাতন জজকোর্টে আধুনিকায়নের উদ্বোধন করতে আসেন জনাব এম সাইফুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যের একপর্যায়ে হঠাৎ বলেন ” এখানে আইনজীবী সমিতির কেউ আছেননি?
উনারা আমাকে আইনজীবীদের বসার জন্য একটি ভবন দিতে বলেছিলেন। দেশে যে আন্দোলন চলছে জানি না সরকারে কয়দিন আছি। পরে বলবেন সাইফুর রহমান সাহেব বলেও একটি ভবন দেননি!”

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে নিজের মৌলভীবাজার -৩ আসন ছাড়াও তিনি সিলেট -৪ (জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট) আসনে বিজয়ী হন। আর সিলেট -১ (সদর- কোম্পানিগঞ্জ) আসনে একটি কেন্দ্রে ফলাফল স্থগিত না করলেব তিনি সেটিতেও বিজয়ী হতেন।
২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচন চলাকালে আমি সিলেটের একটি পত্রিকায় কাজ করি। ছিলাম নিউজ ডেস্ক ইনচার্জ। বিভিন্ন স্থানে উনার অনেক নির্বাচনী জনসভা কভার করেছি। হাটখোলা, জালালাবাদ, বাদাঘাটসহ কোম্পানীগঞ্জ থানার অনেক স্থানে আমরা নৌকায় যাই। উনি এসব দেখে আক্ষেপ করতেন। বলতেন এখানের মানুষ এভাবে চলাফেরা করে কীভাবে?
খোঁজ নিয়ে জেনেছি এসব এলাকায় ২০০১ সালের পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হয়েছে অনেক ব্রিজ আর রাস্তা। এমন আরো অনেক স্মৃতি আছে। বলা যায় গোটা সিলেটের চিত্র পাল্টে দিয়েছেন একজন সাইফুর রহমান। ফলে সিলেটের হাটে ঘাটে মানুষ এখন উনার শুন্যতা অনুভব করছে!

বৃহত্তর সিলেটে প্রয়াত মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অভাব পূরণ করবেন তারই জেষ্ঠ পুত্র মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এম নাসের রহমান। এ বিষয়ে অনেকেই হয়তো আমার সাথে একমত হবেন না! কিন্তু ২৬ বছরের পেশাদার সাংবাদিকতা আর ৩৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় আমার এমনটাই মনে হচ্ছে।
খুব কাছাকাছি আসতে না পারলেও একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে জনাব নাসের রহমান সাহেবের সাথে অসংখ্যবার আমার কথা হয়েছে। নিউজ কভার করছি। যেটুকু দেখছি প্রয়াত নেতা এম সাইফুর রহমানের অনেক গুনাবলী আছে তারই জ্যেষ্ঠপুত্র সাবেক এমপি জনাব এম নাসের রহমানের মাঝে। পিতার অনেক গুনাবলী পেয়েছেন সিলেটের এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।
কুলাউড়ার সাবেক এমপি এম এম শাহীনের মালিকানাধীন মানব ঠিকানায় বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম! এসময় তিনি স্বতন্ত্র এমপি। ২০০২ সালে জনাব এম নাসের রহমান সাহেব জেলা বিএনপির সভাপতি হলে আমরা কুলাউড়ার কমিটি আনতে যাই ঢাকায় উনার প্রাইভেট অফিসে । কুলাউড়া উপজেলায় বিএনপিকে শক্তিশালী করতে জনাব.এম নাসের রহমান ( শাহীন ভাই ব্যতীত ) কুলাউড়া উপজেলার সকলকে বিএনপিতে এড করে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি করে দেন! জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরও দলকে শক্তিশালী করতে তিনি বড় পদগুলো দেন আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনকে।
২০০২ সালে একদিন তিনি কুলাউড়া আসেন ! দুপুরে সাবেক এমপি এম এম শাহীনের বাসায় দুপুরে লাঞ্চ করে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আমি প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে উনার সাথে দেখা করি। তৎকালীন এমপি জনাব এম নাসের রহমান প্রথমেই জানতে চান প্রেসক্লাবের কোনো স্থায়ী অফিস আছে কি না?
আমি না বলতেই উনি অবাক হন। পাশাপাশি অফিস করার জন্য শহরে খালি সরকারি জমি দেখার জন্য বলেন!
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে একদিন রাজনৈতিক সহকর্মীদের কয়েকজনকে নিয়ে উনার বাড়িতে গেলে ঘুম থেকে উঠে এসে আমাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন। নিন্দুকেরা যাই বলুক আমি মনে করি মিষ্টি কথা দিয়ে নয়, নিজের উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা , নীতিনৈতিকতা আর বিশাল হৃদয় দিয়ে একদিন সিলেটে মহান নেতা এম সাইফুর রহমানের শুন্যতা পূরণ করবেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এম নাসের রহমান। আর একাজে তাকে উৎসাহ যোগাচ্ছেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি উনার সহধর্মিণী রেজিনা রহমান ।

লেখক :আব্দুল বাছিত বাচ্চু, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক.কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি।
১৩ আগস্ট ২৩

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..