1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

মৌলভীবাজারে নতুন জঙ্গি আস্তানার সন্ধান গুলি, ডেটনেটর ও বিস্ফোরক উদ্ধার

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৩
  • ২৩৯ বার পঠিত
    মাহফুজ শাকিল,: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের  পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামের সেই আলোচিত বাইশালী টিলায় জঙ্গি আস্তানার পর নতুন  আস্তানার সন্ধানে কালাপাহাড়ে অভিযানে নামে  ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৬টায় আটক জঙ্গিদের মধ্য থেকে দুইজনকে সাথে নিয়ে সিটিটিসি’র প্রধান মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে টানা ৬ ঘন্টার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সোয়াট, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ,  কুলাউড়া থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের প্রায় শতাধিক সদস্য ছিলেন।
অভিযানে নতুন একটি আস্তানার সন্ধান মিলেছে বলে সিটিটিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সেখানে কয়েকটি তাবু টাঙানো ছিল, জঙ্গল ও গাছপালা কেটে
পরিস্কার করে আরো কয়েকটি ঘর তৈরির প্রস্তুতিও চলছিল বলে জানা গেছে।
অভিযানে আটক জঙ্গি সদস্য জামিলের স্বীকারোক্তিতে কালাপাহাড়ের ছাতাচূড়াঁ এলাকায় তাদের তৈরি নতুন আরেকটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলে । এসময় ওই আস্তানা থেকে ৫-৬ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য ও আস্তানার পাশে মাটির নিচের গর্ত থেকে ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি পাওয়া যায়।
এদিকে সোমবার আটক জঙ্গি সদস্যদের ব্যাগ তল্লাশি করে ৯৫টি ডেটোনেটর, তিনটি দা (বটি) ও নগদ দুইলাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার সকালে কর্মধা ইউনিয়নের আছকরাবাদ চা বাগান সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশার ৫ চালকের বুদ্ধিমত্তায় ১৭ জনকে অপিরিচিত ব্যক্তিকে জঙ্গি
সন্দেহে আটক করে কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে আসলে কুলাউড়া থানা পুলিশ তাদের আটক করে পরিষদের হলরুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে  সন্ধ্যা ছয়টায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) প্রধান মো: আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে আসেন। প্রায় আড়াইঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের পুলিশী পাহাড়ায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক ওই ১৭ জনের মধ্যে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সোহেল তানজিম, জঙ্গিদের কমান্ডার হিসেবে পরিচিত আব্দুল আহাদ মেন্দি ও নটরডেম কলেজের ছাত্র ফাহিম নামের একজন ছিলেন। মেন্দি নিজেকে ইমাম মাহমুদ বলে দাবি করেন।
জঙ্গি সদস্যদের আটকের নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন কর্মধা গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক লকুছ মিয়া (৩৫), পূর্ব ফটিগুলির রব উল্লাহ, (৫৭),  নলডরী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৪০), হুসনাবাদের সাইফুল ইসলাম (৩৭), রনি মল্লিক (২৬)। এসময় রবিরবাজার- কর্মধা সিএনজি লাইনের প্রায় ২০-২৫ টি সিএনজি চালক এ কাজে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় অনেকেই বলছেন, যদি সিএনজি চালকরা টাকার জন্য জঙ্গি সদস্যদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে অন্যত্র নিয়ে পৌছে দিতো তাহলে ওই জঙ্গি সদস্যদের আটক করা যেতনা। ইমাম মাহমুদের কাফেলার ১৭ সদস্যদের আটক করে বীরত্ব দেখানোতে স্থানীয়রা তাদের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
সিএনজি চালক রবউল্লাহ
বলেন,  সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় অপরিচিত ৪জন লোক তাদের সাথে থাকা পঙ্গু একজন ব্যক্তিকে কাঁধে বহন করে নিয়ে সিএনজি গাড়িতে উঠেন। আমার গাড়িতে অন্য তিনজন উঠে৷ তারা সবাই আমাদের জানায় তারা বনভোজনে এসেছে। তারা বলেছে তাদের পঙ্গু ব্যক্তি নাকি গাছ থেকে পড়ে কোমর ভেঙে গেছে৷ তাকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার নিয়ে যাবে বলছে৷ তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক ও পরনের কাদাযুক্ত কাপড় দেখে সন্দেহ হলে অন্য চালকদের সাথে কথা বলে তাদের সবাইকে কৌশলে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো: আসাদুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার নতুন আস্তানার সন্ধানে কালাপাহাড়ের ভেতরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। টানা ৪ ঘন্টা পায়ে হেঁটে কালাপাহাড়ে গিয়ে নতুন একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাই।
সেই আস্তানার ঘরের পাশে মাটির নিচ থেকে ১৪ রাউন্ড গুলি ও ৫-৬ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির দিনে এই কালাপাহাড়ের ভেতরে যেতে আমাদের টিমকে ছোট-বড় ১৫-২০টি টিলা- পাহাড়, ছড়া, খাল অতিক্রম করে অভিযান করতে হয়। সেখানে আটক জঙ্গি সদস্য জামিল তার স্বীকারোক্তিতে আমাদের জানায়, তারা পূর্ব টাট্টিউলী এলাকার বাইশালী টিলার সেই জঙ্গি আস্তানায় সবসময় যাওয়া আসা করতো। আর বাইশালী টিলার জঙ্গি আস্তানার সদস্যরা কালাপাহাড়ের ভিতরের আস্তানায় আসতো।
মঙ্গলবার রাতে সিটিটিসি প্রধান মো: আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের
বলেন, আটক জঙ্গি সদস্যদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে। তন্মধ্যে চিকিৎসক সোহেল তানজিম,  চায়নায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই জন ইঞ্জিনিয়ার ও নটরডম কলেজের ছাত্র ফাহিম রয়েছেন৷
পাহাড়ের গহীনে কিভাবে জঙ্গিরা আস্থানা করে আত্মগোপনে ছিল এবং তাদের ভবিষ্যৎ মূল পরিকল্পনা কি ছিল সেটি পুরো তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। ঢাকায় নিয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইমাম মাহমুদের কাফেলা নামে একদম নতুন একটি জঙ্গি সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করেছিল কিন্তু গত ৭ আগস্ট ঢাকা থেকে ১০ জন, ১২ আগস্ট কুলাউড়া থেকে ১০ জন ও ১৪ আগস্ট স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আরো ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশ লাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিটিটিসি প্রধান মো: আসাদুজ্জামান। এসময় তিনি কর্মধার স্থানীয় সিএনজি চালকদের বুদ্ধিমত্তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো: মনজুর রহমান, সিটিটিসি ডেপুটি কমিশনার নাজমুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শফিকুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি মোহসিন, কুলাউড়া থানার ওসি মো: আব্দুস ছালেক সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সংবাদ সম্মেলন শেষে আটক জঙ্গি সদস্যদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গত শনিবার (১২ আগস্ট) কর্মধা ইউনিয়নের বাইশালী টিলায় চার ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের  চিকিৎসক সোহেল তানজীমের স্ত্রী মায়েশাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, সোয়াট, জেলা পুলিশ ও কুলাউড়া থানার পুলিশ৷ এর আগে গত শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ওই বাড়ি ঘিরে রাখে জেলা ও স্থানীয় পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জঙ্গি সদস্যরা  নব্য জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র সদস্য। তাদের আস্তানা থেকে প্রায় তিন কেজি বিস্ফোরক, ৫০টির মতো ডেটোনেটর, তিন লাখ ৬১ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণসামগ্রী, কমব্যাট বুট এবং কয়েক বস্তা জিহাদি বই জব্দ করা হয়।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..