1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

একাত্তোরের অকুতভয় বীর, গনপরিষদ সদস্য এম, আজিজুর রহমান এর তৃতীয় মৃত্যে বার্ষিকী ১৮ই আগষ্টঃ স্মৃতিকথাঃ রুহের মাগফিরাত

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩
  • ৭৯৩ বার পঠিত

:মুজিবুর রহমান মুজিব:
বৈশ্বিক ব্যাধি কোভিড নাইনটিন অনেক জ্ঞানী গুনীজনের ঘাতক করনার শিকার হয়ে জীবনাবসান হয়েছে। একাত্তোরের অকুতভয় বীর, গনপরিষদ সদস্য, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান, সহজ সরল সাদা মনের মহৎ মানুষ অগ্রজ প্রতিম এম, আজিজুর রহমান মরন ব্যাধি করনায় আক্রান্ত হয়ে এমনি একদিনে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর স্বজনদেরকে কাঁদিয়ে শোক সাগরে ভাষিয়ে চীরতরে চলেযান না ফেরার দেশে। শোকের মাস আঠারো-ই আগষ্ট তাঁর তৃতীয় মৃত্যো বার্ষিকীতে তার উজ্জল স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাও সম্মান তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান মালিক তাঁর বেহেশত নসীব করুন এই মোনাজাত করছি। দক্ষিন সিলেটের রাজনীতি, সাহিত্য সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনের প্রিয় পরিচিত মুখ বলিষ্ট ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এম, আজিজুর রহমানের সঙ্গেঁ আমার পরিচয় সম্পর্ক ও সখ্যতা সেই ষাটের দশকের শুরু থেকেই। তিনি আমার বয়োঃজ্যেষ্ট। আমি তাঁর কনিষ্ট ভ্রাতা অধুনা বিলেত প্রবাসি জহির উদ্দিন আহমদ জহির এর সহপাটি ও ঘনিষ্ট বন্ধু। গোলবাটা মুখে সব সময় একচিলতে মুচকি মিষ্টি হাসি, সুঠাম শরীরের অধিকারি উজ্জল শ্যাম বর্নের পোষাক সচেতন এম, আজিজুর রহমান একজন আকর্ষনীয় ব্যক্তি ও ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। মাঝারি উচ্চতার মাথায় দর্শনীয় বাবরি চুলের অধিকারি এম, আজিজুর রহমান জেলা সদরে সর্ব মহলে আজিজ ভাই হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। সদালাপি সুবক্তা ও বিনয়ী হিসাবে তাঁর সুনাম ছিল।

বানিজ্যে ¯œাতক ডিগ্রী নিয়ে তিনি শিক্ষাজীবনের অবসান ঘটান। তাঁর সময়ে লেখাপড়া ও চাকরি খুবই সহজ লভ্য ছিল। তাঁর সহপাঠি ও ঘনিষ্ট বন্ধুদের অনেকেই কর্মজীবনে প্রফেসর ডক্টর, সচিব হয়ে পেশাগত পারঙ্গঁমতা প্রদর্শন করেছেন। তাঁর মরহুম পিতা আব্দুছ ছত্তার বৃটিশ ভারতে-ই বিখ্যাত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর জ্যেষ্ট ভ্রাতা সিরাজুল ইসলাম মানিক মিয়া ও ছিলেন তাই। একটি শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত সচ্ছল পরিবারের সন্তান হিসাবে কোন পারিবারিক ব্যবসা বানিজ্য কিংবা কোন চাকরিতে যোগ না দিয়ে সংস্কৃতি চর্চাও সমাজ সেবায় আত্বনিয়োগ করেন। পঞ্চাশ-ষাট দশকে এই অঞ্চলে সংস্কৃতি চর্চা ও নাট্য আন্দোলন বেগবান ছিল। সর্বপ্রিয় আমাদের আজিজ ভাই একজন উচু মাপের আবৃত্তিকার এবং জাত নাট্যভিনেতা ছিলেন। তাঁর বন্ধু আমাদের প্রিয় দাদা সুনির্মল কুমার দেব মীন ও একজন উচু মাপের অভিনেতা ও প্রতিভাবন লেখক ছিলেন। আমি লেখা পড়ার সঙ্গেঁ সঙ্গেঁ ছাত্র রাজনীতি, সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি চর্চা ও নাট্যাভিনয়ে উৎসাহী ও অনুরাগি ছিলাম। আজিজ ভাই সক্রিয় ভাবে কোন রাজনীতির সঙ্গেঁ সম্পৃক্ত না থাকলেও বাম ভাবা দর্শের অনুসারী ছিলেন। তাঁর সহোদর জহির এবং বন্ধু মীন ছাত্র ইউনিয়ের নেতা ছিলেন। আমি ছাত্রলীগের সংগটক প্রথমত কলেজ শাখা অতঃপর মহকুমা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। তবুও আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ভিন্নতা আমাদের রাজনৈতিক কর্ম কান্ডে বাধা বিঘেœর সৃষ্টি করেনি দেশীয় রাজনীতে বন্ধাত্ব সংকট থাকলেও আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রিতী ছিল। সাংস্কৃতিক কর্ম কান্ড মঞ্চাভিনয় এর কারনে আবৃত্তিকারও অভিনয় শিল্পী আজিজুর রহমানের সঙ্গেঁ আমার সর্ম্পক সুদৃঢ় হয়। তিনি আমাকে অনুজের মত ¯েœহ মমতা করতেন। আমিও আমার পিতা মাতার প্রথম সন্তান হিসাবে কোন বড় ভাই না থাকায় বড় ভাই বলে সম্ভোধন করতাম অগ্রজের মত ভক্তি শ্রদ্ধা করতাম। মাথা উচু করে বেটাগিরি বাবু গিরি প্রদশর্নের জন্য উচ্চ কন্ঠে কথা বলিনি। আমার শুভ বিবাহের পর আত্বীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমার সদ্য প্রয়াত সহ ধর্মিনী মনোয়ারা রহমান তাঁর ছোট বোন এর মত আমি তাঁর ভাগ্নিপতি। দেখা হলেই বলতেন “মিনা কেমন আছে” লুক আপ্টার করিছ তুহত আবার সংসার সম্মন্ধে উদাসীন। বেখেয়ালি। অথছ তিনি নিজেই চীরকুমার। বিয়ে শাদি করেন নি সংসারের মায়াজালে জড়ান নি। তবুও বোনর প্রতি তার মমত্ব বোধ। বড় ভাই হিসাবে দায়িত্ব বোধ। আমার শ্বশুর মরহুম ছনাওর আলী এবং আজিজ ভাইর আব্বা মরহুম আব্দুছ ছত্তার আকলু মিয়া বৃটিশ ভারতের খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ছিলেন। একই পেশা ও একই এলাকাবাসি হিসাবে তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তাদের কোম্পানীগত ব্যবসায়ীক সুনাম সিলেট করিমগঞ্জ আসাম অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল- পরিচিতি ছিল। বৃটিশ ভারতের ফাষ্টক্লাশ কনট্রাক্টার আব্দুছ ছত্তারের প্রথমপুত্র সিরাজুল ইসলাম মানিক মিয়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন করিমগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গেঁ। ফলতঃ আমার বিয়ের পর আজিজ ভাইর পরিবারের সঙ্গেঁ একটি পারবারিক সম্পর্ক হয়ে যায় আমার। আজিজ ভাইর অকাল প্রয়াত কনিষ্ট ভ্রাতা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘটক নাজমুল ইসলাম নজমুল আমাকে দুলাভাই বলে ডাকত। আমার মরহুমা সহধর্মিনীর কোন সহোদর না থাকায় আমি মরহুম নজমুল এর দুলাভাই ডাক হৃদয় দিয়েই উপভোগ করতাম। সাবেক পৌর কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আলী শাহেদ এর দুলাভাই ডাকও উপভোগ করি। সত্তোর সালের সাধারন নির্বাচনে জেলা সদর প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ উপযুক্ত কোন প্রার্থী ছিলেন না। বৃহত্তর সিলেটের প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজির উদ্যোগে বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আহŸানে এম, আজিজুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগদান করে প্রাদেশিক পরিষদে মনোনয়ন পান নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে রাজনীতিও ভোটের মাঠে চমক সৃষ্টি করেন। একজন নির্লোভ নির্ভীক মুজিব সৈনিক হিসাবে সেই যে শুরু হয়ে ছিল তাঁর রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা তাঁর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, বীর দর্পে এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। একাত্তোরের পচিশে মার্চের কাল রাত্রিতে হানাদার হায়না বাহিনী তাকে তাঁর গোজারাই-র পৈত্রিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে তাদের টর্চার সেল পর্য্যটন রেষ্ট হউসে নিয়ে যায় অকথ্য নির্যাতন করে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে স্টেইটমেন্ট প্রদানে চাপ সৃষ্টি করলেও তিনি রাজি হন নি। ২৩ শে মার্চ একাত্তোরে পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসে আমি ছাত্রলীগ এর প্রতিরোধ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে জিন্নাহ সাহেব এর ছবিও পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীনতার স্থাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছবি এবং লাল সবুজের স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে ছিলাম। পাক হানাদার বাহিনী আমাকে গ্রেপ্তার এর জন্য আমার মুসলিম কোয়ার্টারস্থ পৈত্রিক বাসগৃহে হানাদিয়ে ছিল আমাকে না পেয়ে অনেককেই ঝুলুম নির্যাতন করেছে। আজিজ ভাইর সঙ্গেঁ আমার সম্পর্ক থাকার কারনে পাক আর্মি “গুন্ডা মুজিব কাঁহা হ্যায় উচকা পাতা বাতাও” বলেতাকে নির্যাতন করেছে। এখান থেকে পরে সিলেটে জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। মুক্তি যুদ্দের প্রথম ভাগে মেজর দত্ত (মেজর জেনারেল সি,আর,দত্ত, প্রয়াত) মেজর মীর শওকত আলীর (পরে লেঃ জেনালের মন্ত্রী। প্রয়াত) নেতৃত্বে সিলেট জেলা কারাগার থেকে মুক্ত করা হয়। এই দুই সেনাকর্মকর্তা সেক্টার চার ও পাঁচ এর সেক্টার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব পূর্ন ভূমিকা ও কৃতিত্ব পূর্ন অবদানের জন্য সরকার তাঁদেরকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করেন। আজিজ ভাই জেল থেকে বেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করতঃ সি,ইন,সি স্পেশিয়াল ব্যাচ এর বীর যুদ্ধা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ৮ই ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত হলে সদরের জনপ্রতিনিধি হিসাবে তিনি আনুষ্টানিক ভাবে এস,ডি,ও অফিসে স্বাধীন বাংলা দেশের পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তী কালে সরকার কর্তৃক স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে জননেতা এম, আজিজুর রহমান তাঁর প্রিয় দল আওয়ামী লীগের জেলা সেক্রেটারী জেলা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব আন্তরিকতা, সততা ও কৃতিত্বের সাথে পালন করেন। একজন জন প্রতিনিধি হিসাবে তিনি এম,পি. মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান নির্ব্বাচিত হয়ে জনপ্রিয়তার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দৃবৃত্তায়ন দূর্নীতির কোন অভিযোগ ছিল না। সামরীক স্বৈর শাসক লেঃ জেনারেল এইচ এম এর্শাদ সরকারামলে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনেতার ভূমিকা ছিল খুবই সমুজ্জল। তখন এখনকার মত এত গাড়ি মাইক্রো-টেম্পো ছিল না। আমি তখন জেলা জাসদ এর সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী এম, আজিজুর রহমান সহ পনেরো দলীয় ঐক্য জোট এর পক্ষ থেকে লাইনের বাসে সমগ্র জেলা সফর করেছি, তাঁর মধ্যে কোন আফসোস কিংবা সংকোচ ছিল না। ছোটদের প্রতি তাঁর যেমন ছিল সেন্হ মমতা বড়দের প্রতি তার ছিল অপরিসিম সম্মান ও শ্রদ্ধা বোধ। তাঁর সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাসিন্দা। এর্শাদ সরকারামলে তিনি একটি পি,ডি,আর, এ্যাক্ট এর মামালায় আসামী হলে আমাকে মামলা চালাতে জামিন নিতে অনুরোধ করলে আমি সানন্দে সম্মতি জ্ঞাপন করি। মামলায় উপস্থিত হতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা হাকিম আদালতে যেতে হবে। আজিজ ভাইর সেকি পেরে সানি আমাকে বারবার বলতেন ইলিয়াস ভাইর যেনো কোন অসুবিধা না হয়, তার যেনো অসম্মান না হয়। বি,এন,পির স্থায়ী কমিটির চীরস্থায়ী সদস্য মরহুম অর্থ ও পরিকমল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এর প্রতি ও তাঁর অগাধ শ্রদ্ধাও সম্মান বোধ ছিল দু জন যদি ও একই নির্ব্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। একান্নব্বইর জাতীয় সংসদ নির্ব্বাচনে জেলা সদর মৌলভীবাজার তিন নিব্বাচনী এলাকায় দুজন মুখোমুখি। উৎসাহ উদ্দীপনা উত্তেজনা পূর্ন নির্ব্বাচনে বিজয়ের শেষে হাসি হাসেন সদা হাসি খুশী মানুষ আওয়াী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম, আজিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ভাষাসৈনিক এম, সাইফুর রহমান কে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিলা টেকনোক্রেট হিসাবে অর্থ মন্ত্রীর দায়িত্ব ভার প্রদান করেন। আজিজ ভাই নির্ব্বাচনে জিতলেও এম, সাইফুর রহমান এর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা বোধ ছিল তাকে বড় ভাই সাহেব মিনিষ্টার সাহেব বলে সম্মান করতেন। একদিন আজিজ ভাই সার্কিট হাউসে অর্থ মন্ত্রী মহোদয় এর সঙ্গেঁ সৌজন্য সাক্ষাতকারে এলেন। আমি সহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত। আজিজ ভাইর সঙ্গেঁ একজন যুবকের হাতে একটি বড় টিফিন কোরিয়ার আমাদের সকলের নযর সেেিদক নিশ্চয় আজিজ ভাই কোন খাবার নিয়ে এসেছেন। আজিজ ভাইকে মিনিষ্টার সাহেব-“ আও আও আমার এমপি সাবব ও বও বলে স্বাগত জানালেন। মিনিষ্টার সাহেব আপন লোকজনের সঙ্গেঁ অফিসের ভাষা ব্যবহার করতেন না। ঘরোয়া ভাষা সিলেটিতেই কথা বলতেন। আজিজ ভাই বল্লেন তিনি তাঁর বড় ভাইর জন্য তাঁর এবং আমাদের সকলের প্রিয় খাবার গরম গরম চইপিটা এবং বোয়াল মাছ দিয়ে পানিলাউর তরকারি নিয়ে এসেছেন। বাল্য কৈশোর এর এমন মজাদার খাবার পেয়ে ভোজন রসিক এম, সাইফুর রহমান ও খুশী হলেন। আজিজ ভাইকে বার বার ধন্যবাদ দিলেন। আমাদেরকে বল্লেন -“আমার এম,পি, সাবর কোনরূপ কাজ যানু না আটকায় নুরুন্নবী সাবিয়া গুজারাইর রাস্তাটি নোট কর”। আমরা সকলে চীর কুমার আজিজ ভাইর শিষ্টাচার ও সৌজন্য বোধে বিমুগ্ধ হলাম। বিমোহিত হলাম। মনেমনে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু থাকার কামনা করলাম। সাম্প্রতিক কালে মেঘে মেঘে আমরা অনেক বেলা হয়ে গেছে। বহুবিধ বার্ধক্য জনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত চলাফেরা সিমীত। চিকিৎসক সাহেবানদের নির্দেশনাও পরামর্শাধীন আছি। তবুও কলম ছাড়তে পারিনি লেখা লেখিতে এখন ও আছি। আমার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক গ্রহ্ণ আমার দেখা একাত্তোর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথার তথ্য প্রসঙ্গেঁ তাঁর গুজারাইর বাসা বাড়ীতে প্রায় বিকালে লম্বা সেসনদেই। এসব নিরস কাজের নিত্যসহচর মৌমাছি কন্ঠের প্রতিষ্টাতা সম্পাদক ¯েœহ ভাজন শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তাছাড়া তার টিভির স্পট জার্নালিজম সংক্রান্ত্র ব্যপারে মাঝে মাঝে দাদা-নাতি ছুটে যাই স্পটে সরেজমিনে। শেখ সিরাজ সহ বহু বিষন্ন দুপুর বিবর্ন বিকাল আজিজ ভাইর গুজুরাইর বাড়িতে কাটিয়েছি তাঁর প্রানবন্ত আলোচনায় প্রানোচ্ছল হয়েছে আলো ছাড়িয়েছে সেই সব স্বর্নালী সন্ধ্যায়। কাছাকাছি মুখোমুখি বসে সহজ সরল সাদা মনের মানুষ এম, আজিজুর রহমান এর মুখে একচিলতে নীরব নিঃশব্দ হাসির ঝিলিক দেখেছি মনেহত এখানে একটি নীবর কান্না লুকিয়ে আছে। দুচোখেও আছে বেদনার ছাপ। তাঁর খন্ডিত মানবজীবনে প্রত্যাশার চাইতে প্রাপ্তি-ই বেশি ছিল। অর্থবিত্ত হাসি আনন্দ তার পায়ের কাছে লুটুপুটি খেয়েছে। তাঁর মনের কষ্ট মর্মবেদনার কথাত আমার জানার কথা নয়, আমি মনোবিজ্ঞানী নই। একজন নিবেদিত প্রান রাজনীতিবিদ হিসাবে সাধারন মানুষের দুঃখ কষ্টে তাঁর হৃদয়ে রক্ত ক্ষরন হওয়ার কথা। তাও হতে পারে। বৈশ্বিক ব্যাধি কোভিট নাইনটিন বিশ্ব মানবতাকে কাপিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাগানকে তছনছ লন্ডভন্ড করে ফেলেছে এখনও কোন ঔষধ আবিস্কার হয় নি। মাস্ক-সশিয়েল ডিসটেন্স সলিটারি কনফাইন মেন্ট ইত্যাদি সতর্কতা মূলক অবস্থানে থাকা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি সমাজ কর্মিদের দায়িত্ব হয়ে গেছে। করনা ঢাকা সিলেট হয়ে আমাদের শহরে ও এসেগেছে। শিশু ও বৃদ্ধরাই করনার শিকার। আজিজ ভাই প্রায়ই ফোন করে বলতেন খবরদার ঘর থেকে বেরুবি না, তোরত শরীর এমনিতেই খারাপ। আমি পাল্টা তাঁকে সাবধানতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করতাম। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে জরুরী ফাইল স্বাক্ষরের জন্য তাঁর বাড়ীতে যেতে পারে কিন্তু আমার আদালত ও মোকদ্দমাত আমার বাসায় আসবে না তাই আমাকে কোর্টে যেতেই হবে। তাছাড়া এওয়ায়ের নেছ সংক্রান্ত প্রচার মিছিল রোড মার্চ এ মাঝে মাঝে যেতে হয়। আমাদের বি,এন,এস,বি চক্ষু হাসপাতালে ও মাঝেমধ্যে খুজখবর নিতে হয়, ইতিমধ্যে একদিন খবর পেলাম তিনি করনা আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নীত। চারিদিকে ভীতি। আতংক। একেঅন্যে দোয়া এবং সতর্কতা অবলম্বন ছাড়া উপায় নাই। মৌলভীবাজার জেলা জামে মসজিদে একদিন আগ জুম্মা কমিটির সম্পাদক হিসাবে ইমাম সাহেবের কাছে থেকে মাইক নিয়ে আজিজ ভাইর জন্য দোয়া চাইলাম। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সুস্থ হয়ে আমার কাছে ফোন করলেন। দোয়ার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে সাবধানতা অবলম্বনও সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিলেন। আমার সঙ্গেঁ তাঁর জরুরী কথা আছে, মৌলভীবাজার এসেই কথা বলবেন বলে জানালেন। এর মধ্যে তাঁর অবস্থা আরো খারাপ হল। ঘাতক ব্যাধি করনার কাছে হার মানলেন একাত্তোরের অকুতভয় বীর এম আজিজুর রহমান। মৌলভীবাজার তিনি এলেন না তাকে আনাহল। তিনি কথা বল্লেন না, আমরাই কথা বল্লাম। তাঁর বিয়ে হয় নি বিধায় বৌভাত ও খাওয়া হয় নি। তাঁর বাড়ির উঠানে বিশাল শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে তাঁর চল্লিশার শিরনি খেলাম। আমারও করনা হয়েছিল সকলের দোয়ায় আল্লাহর দয়ায় বেঁচে গেলাম। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সমগ্র আয়োজনটি ছিল আন্তরিক। বড় আকারের। তিনি চীর কুমার হলেও উত্তরাধিকার হীন নহেন তাঁর ভাই ভ্রাত পুত্র, ভাগ্না-ভাগ্নি, নাতি-নাতিœগন বিপুল সংখ্যাক আত্বীয় স্বজন আছেন। সর্বোপরি তাঁর প্রিয় দল আওয়ামী লীগ, তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মি মিত্রগনই ছিলেন, তাঁর পরিবার সদস্যের মত। তার গুনগ্রাহী গন গঠন করেছেন মানব কল্যান মুলক সেবা সংঘটক আজিজুর রহমান ফাউন্ডেশন। শুরু দায়িত্বে আছেন সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অনুজপ্রতিম জামাল উদ্দিন এবং পান্নাদত্ত। এবারের মৃত্যোবার্ষিকীতে ও দিনভর ব্যাপক কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা সদরের মাননীয় সাংসদ নেছার আহমদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী, জেলা পরিষদ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিছবাহুর জননেতা এম, আজিজুর রহমান এর খুবই আস্তাও ¯েœহ ভাজন ছিলেন। তাঁরাও তাকে অগ্রজের মত নিষ্টাবান নেতার মত ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন- করেন। তাঁর সহকর্মি গৌরবোজ্জল উত্তরাধিকারিগন তাঁর ইন্তিকালের পরও তাকে সম্মান স্মরন ও রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন আগামীতে ও করবেন- সহজেই এ আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী প্রতিভা, তাঁর ও আমাদের সকলের প্রিয় কবি বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বলেছিলেন “মরিত চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই”। কবি গুরুর বেঁচে থাকার এই আকাংখা শারীরিক ছিলনা-ছিল কাব্যিক-কার্য্যকি। মানুষ মরনশীল হলেও মানুষ বেঁেচ থাকে তাঁর কাজের মঝে। বিশ্ব কবি আছেন জাতির মননে-মানষে-চিন্তায়-চেতনায়। কথার মানুষ কাজের মানুষ কর্মবীর এম, আজিজুর রহমান বেঁচে থাকবেন তাঁর কাজের মাঝে। ইসলামী আইনের বিধান মোতাবেক এক জন মানুষের মৃত্যোই শেষ নয় বরং মৃত্যোর পর শুরু হয় অনন্ত মহাজীবনের সূচনা। মৃত্যোর পরবর্তী আলমে বরযক কবরি জীবন তাঁর শান্তিময় হউক- মরহুমের তৃতীয় মৃত্যোবার্ষিকীতে এই মোনাজাত।

[মরহুমের ¯েœহ ধন্য মুক্তিযোদ্ধা। সিনিওর এডভোকেট হাই কোর্ট। সাবেক সভাপতি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব।]

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..