10:51 pm, Wednesday, 11 March 2026

কুলাউড়া রবিরবাজারের কাঁচাবাজারের পুকুর এখন ময়লায় ভাগাড়

সৈয়দ আশফাক তানভীর, কুলাউড়া: কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে কাঁচাবাজার-সংলগ্ন পুকুরটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পুকুরটিতে। দীর্ঘদিন থেকে কাঁচাবাজারের ময়লার কারণে পুকুরটি ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে থাকলেও পুকুরের দিকে নজরদারি নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিন রবিরবাজার কাঁচাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজারের অধিক দোকানপাট রয়েছে। বাজারের মাঝখানে ২৬ শতাংশ জায়গাজুড়ে পুকুরটির অবস্থান। আগে নানা কাজে স্থানীয়রা পুকুরের পানি ব্যবহার করতেন। তদারকি না থাকায় বর্তমানে ময়লা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে পুকুরটি। দুর্গন্ধ ও দূষণ ছড়াচ্ছে চারদিকে। পুকুরের ঘাটও দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এছাড়া রবিরবাজারের মহালদার সরকারের ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে রাস্তা দখল করে দোকানপাট, বাজারদরের সাইনবোর্ড না বসিয়ে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারের ভিতরে কোন ডাস্টবিনের সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা পুকুরে ফেলছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হিরা মিয়া, ইউসুফ আলী জানান, আগে বাজারের ব্যবসায়ীরা পুকুরে অজু, গোসল ছাড়াও সবজি পরিষ্কার করতেন। বর্তমানে এই পুকুরে কোনো পানিই নেই, আছে শুধু ময়লা আর আবর্জনা। বাজারের ভেতরে কোনো ডাস্টবিন না থাকায় লোকজন ময়লা-আবর্জনা ফেলে পুকুরটিকে ডাস্টবিনে পরিণত করেছেন।

রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাসুক আহমদ বলেন, এটি সরকারি বাজারের পুকুর। বাজারে কোনো অগ্নিকান্ড ঘটলে যে পুকুরটি থেকে পানি পাওয়া যেত সেটি এখন ময়লা- আবর্জনায় ভরে গেছে। পুকুরটি পরিষ্কার করে পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। অচিরেই পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিব আহমদ বলেন, রবিরবাজার ভূমি অফিসের পার্শ্ববর্তী পুকুরটিতে অনেক দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এটি পরিষ্কার করার জন্য স্থানীয় ভূমি অফিসে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।
পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, বিশাল এই রবিরবাজারে কোন অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে কোথা থেকে পানি সরবরাহ করা হবে? মহালদার পুকুরটি পরিষ্কার না করিয়ে এটিকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলেছেন। ইজারাদারদের জামানতের ৫ শতাংশ টাকা দিয়ে বাজারের ডাস্টবিন নির্মাণ ও পুকুর পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রবিরবাজারের মহালদার কিবরিয়া হোসেন খোকন আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাজারের জায়গা সংকুলানের কারণে ব্যবসায়ীরা অনেক সময় রাস্তায় বসে ব্যবসা করেন। কাঁচাবাজারের ময়লা পুকুরে না ফেলতে আমরা বারবার নিষেধ করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুর রহমান মামুন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় কৃষি জমির মাটি কাটায় ২ লাখ টাকা জ’রি’মা’না

কুলাউড়া রবিরবাজারের কাঁচাবাজারের পুকুর এখন ময়লায় ভাগাড়

Update Time : 06:06:14 pm, Monday, 11 March 2024

সৈয়দ আশফাক তানভীর, কুলাউড়া: কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে কাঁচাবাজার-সংলগ্ন পুকুরটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পুকুরটিতে। দীর্ঘদিন থেকে কাঁচাবাজারের ময়লার কারণে পুকুরটি ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে থাকলেও পুকুরের দিকে নজরদারি নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিন রবিরবাজার কাঁচাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজারের অধিক দোকানপাট রয়েছে। বাজারের মাঝখানে ২৬ শতাংশ জায়গাজুড়ে পুকুরটির অবস্থান। আগে নানা কাজে স্থানীয়রা পুকুরের পানি ব্যবহার করতেন। তদারকি না থাকায় বর্তমানে ময়লা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে পুকুরটি। দুর্গন্ধ ও দূষণ ছড়াচ্ছে চারদিকে। পুকুরের ঘাটও দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এছাড়া রবিরবাজারের মহালদার সরকারের ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে রাস্তা দখল করে দোকানপাট, বাজারদরের সাইনবোর্ড না বসিয়ে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারের ভিতরে কোন ডাস্টবিনের সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা পুকুরে ফেলছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হিরা মিয়া, ইউসুফ আলী জানান, আগে বাজারের ব্যবসায়ীরা পুকুরে অজু, গোসল ছাড়াও সবজি পরিষ্কার করতেন। বর্তমানে এই পুকুরে কোনো পানিই নেই, আছে শুধু ময়লা আর আবর্জনা। বাজারের ভেতরে কোনো ডাস্টবিন না থাকায় লোকজন ময়লা-আবর্জনা ফেলে পুকুরটিকে ডাস্টবিনে পরিণত করেছেন।

রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাসুক আহমদ বলেন, এটি সরকারি বাজারের পুকুর। বাজারে কোনো অগ্নিকান্ড ঘটলে যে পুকুরটি থেকে পানি পাওয়া যেত সেটি এখন ময়লা- আবর্জনায় ভরে গেছে। পুকুরটি পরিষ্কার করে পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। অচিরেই পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিব আহমদ বলেন, রবিরবাজার ভূমি অফিসের পার্শ্ববর্তী পুকুরটিতে অনেক দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এটি পরিষ্কার করার জন্য স্থানীয় ভূমি অফিসে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।
পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, বিশাল এই রবিরবাজারে কোন অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে কোথা থেকে পানি সরবরাহ করা হবে? মহালদার পুকুরটি পরিষ্কার না করিয়ে এটিকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলেছেন। ইজারাদারদের জামানতের ৫ শতাংশ টাকা দিয়ে বাজারের ডাস্টবিন নির্মাণ ও পুকুর পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রবিরবাজারের মহালদার কিবরিয়া হোসেন খোকন আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাজারের জায়গা সংকুলানের কারণে ব্যবসায়ীরা অনেক সময় রাস্তায় বসে ব্যবসা করেন। কাঁচাবাজারের ময়লা পুকুরে না ফেলতে আমরা বারবার নিষেধ করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুর রহমান মামুন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।