12:58 pm, Sunday, 11 October 2026

অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ করে দেব : সিইসি

 

ডেস্ক রিপোর্ট:প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করব। অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ করে দেব।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জুন) নির্বাচন ভবনে সিইসির সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের আট প্রার্থীকে নিয়ে আচরণবিধি প্রতিপালনবিষয়ক সভায় তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন।

সিইসি বলেন, ‘আমরা আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টির জন্য আপনাদের ডেকেছি।…আমরা কোনোভাবেই চাই না আচরণবিধি ভঙ্গ হোক। আমরা আশা করি সেটা হবে না। অনেক সময় অজ্ঞতাবশত আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়। তারা অতি উৎসাহী হয়ে কিছু কিছু কর্ম করে ফেলেন।’

আচরণবিধির বিষয়ে ইসির কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমাদের কথা স্পষ্ট। তা হলো, আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করবো। অতীতেও আমরা এ চেষ্টা করেছি। ক্ষেত্র বিশেষে আমরা প্রার্থিতাও বাতিল করেছি। ওই রকম কোনও ঘটনা আশা করি ঘটবে না। আপনারাও সচেতন। আপনারা সংসদ সদস্য হয়ে আইন প্রণয়ন করবেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। এটা একান্ততভাবে কাম্য।’

কোনোভাবেই সহিংস মনোভাব না দেখিয়ে সহিষ্ণু হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সিইসি বলেন, ‘কাউকে আক্রমণ করবেন না। আক্রমণাত্মক কথা বলবেন না। মিছিল করতে গিয়ে ঢিল ছুড়বেন না। দোষারোপ করে বক্তব্য দেওয়াটা পরিহার করে চলাটা ভালো। মিথ্যা প্রচারণা আপনার বিরুদ্ধে হলে সেটা কাউন্টার করবেন ভদ্রভাবে। অহিংসভাবে। সহিংসতার আশ্রয় নেবেন না।’

এ উপনির্বাচন ইভিএমে না হলেও ব্যালটের ভোট সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন সিসিটিভি দিয়ে নিবিড়ভাবে মনিটর করবো। অনেকে পেশিশক্তি লাগিয়ে ব্যালটে সিল দেন। সেটা কিন্তু করবেন না। এমনও হতে পারে আমরা চিহ্নিত করতে পারলাম না। সেক্ষেত্রে আমরা টোটাল ভোট বন্ধ করে দিতে পারবো। যদি বুঝি এটা ব্যাপকভাবে হচ্ছে, এজন্য সার্বিক ভোট বিপন্ন হবে, বাধাগ্রস্ত হবে এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না, এটা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হলে সম্পূর্ণ ভোট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।’

ভোটে সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার বিষয়ে প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘পোলিং এজেন্ট না থাকলে ভোটের ক্ষেত্রে আপনারা অনেকটাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বেন। কেউ অন্যায় আচরণ করছে কিনা, কারচুপি হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্য পোলিং এজেন্ট লাগবে। নির্বাচন কমিশন এখানে বসে বসে সব কিছু দেখতে পারবে না। পোলিং এজেন্টও সেটা দেখবেন ‘

ভোটারদের নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিতে কমিশনের অবস্থান তুলে ধরেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় অসহিষ্ণু হয়ে উঠি। প্রচারণা চালাতে হবে অহিংস পদ্ধতিতে, শালীনভাবে। আমরা ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। কে কারে ভোট দিলো এটা আমাদের মাথা ব্যথা নেই। ভোটাররা আসবেন। ভোট দেবেন। বাইরে এসে কোনও অভিযোগ করবেন না। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

সিইসি জানান, কোনও ভোটারকে বাধা দেওয়া যাবে না। তাহলে ভোট প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে কমিশন।

সভায় জাতীয় পার্টির সিকদার আনিসুর রহমান, জাকের পার্টির কাজী মো. রাশিদুল হাসান, মুক্তিজোটের মো. আকতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের রেজাউল করিম স্বপন, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম) ও তরিকুল ইসলাম ভুঞা অংশ নেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে যেখানে,সেখানে করাতকলে সাবার হচ্ছে বন: বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের শংখা: সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব

অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ করে দেব : সিইসি

Update Time : 01:27:30 pm, Tuesday, 27 June 2023

 

ডেস্ক রিপোর্ট:প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করব। অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ করে দেব।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জুন) নির্বাচন ভবনে সিইসির সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের আট প্রার্থীকে নিয়ে আচরণবিধি প্রতিপালনবিষয়ক সভায় তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন।

সিইসি বলেন, ‘আমরা আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টির জন্য আপনাদের ডেকেছি।…আমরা কোনোভাবেই চাই না আচরণবিধি ভঙ্গ হোক। আমরা আশা করি সেটা হবে না। অনেক সময় অজ্ঞতাবশত আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়। তারা অতি উৎসাহী হয়ে কিছু কিছু কর্ম করে ফেলেন।’

আচরণবিধির বিষয়ে ইসির কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমাদের কথা স্পষ্ট। তা হলো, আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করবো। অতীতেও আমরা এ চেষ্টা করেছি। ক্ষেত্র বিশেষে আমরা প্রার্থিতাও বাতিল করেছি। ওই রকম কোনও ঘটনা আশা করি ঘটবে না। আপনারাও সচেতন। আপনারা সংসদ সদস্য হয়ে আইন প্রণয়ন করবেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। এটা একান্ততভাবে কাম্য।’

কোনোভাবেই সহিংস মনোভাব না দেখিয়ে সহিষ্ণু হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সিইসি বলেন, ‘কাউকে আক্রমণ করবেন না। আক্রমণাত্মক কথা বলবেন না। মিছিল করতে গিয়ে ঢিল ছুড়বেন না। দোষারোপ করে বক্তব্য দেওয়াটা পরিহার করে চলাটা ভালো। মিথ্যা প্রচারণা আপনার বিরুদ্ধে হলে সেটা কাউন্টার করবেন ভদ্রভাবে। অহিংসভাবে। সহিংসতার আশ্রয় নেবেন না।’

এ উপনির্বাচন ইভিএমে না হলেও ব্যালটের ভোট সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন সিসিটিভি দিয়ে নিবিড়ভাবে মনিটর করবো। অনেকে পেশিশক্তি লাগিয়ে ব্যালটে সিল দেন। সেটা কিন্তু করবেন না। এমনও হতে পারে আমরা চিহ্নিত করতে পারলাম না। সেক্ষেত্রে আমরা টোটাল ভোট বন্ধ করে দিতে পারবো। যদি বুঝি এটা ব্যাপকভাবে হচ্ছে, এজন্য সার্বিক ভোট বিপন্ন হবে, বাধাগ্রস্ত হবে এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না, এটা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হলে সম্পূর্ণ ভোট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।’

ভোটে সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার বিষয়ে প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘পোলিং এজেন্ট না থাকলে ভোটের ক্ষেত্রে আপনারা অনেকটাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বেন। কেউ অন্যায় আচরণ করছে কিনা, কারচুপি হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্য পোলিং এজেন্ট লাগবে। নির্বাচন কমিশন এখানে বসে বসে সব কিছু দেখতে পারবে না। পোলিং এজেন্টও সেটা দেখবেন ‘

ভোটারদের নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিতে কমিশনের অবস্থান তুলে ধরেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় অসহিষ্ণু হয়ে উঠি। প্রচারণা চালাতে হবে অহিংস পদ্ধতিতে, শালীনভাবে। আমরা ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। কে কারে ভোট দিলো এটা আমাদের মাথা ব্যথা নেই। ভোটাররা আসবেন। ভোট দেবেন। বাইরে এসে কোনও অভিযোগ করবেন না। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

সিইসি জানান, কোনও ভোটারকে বাধা দেওয়া যাবে না। তাহলে ভোট প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে কমিশন।

সভায় জাতীয় পার্টির সিকদার আনিসুর রহমান, জাকের পার্টির কাজী মো. রাশিদুল হাসান, মুক্তিজোটের মো. আকতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের রেজাউল করিম স্বপন, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম) ও তরিকুল ইসলাম ভুঞা অংশ নেন।