1:53 am, Friday, 16 October 2026

ইয়াবা সেবনের পর জঙ্গলে শিশু ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ

ডেস্ক রিপোর্ট : গাজীপুরের শ্রীপুরে ইয়াবা সেবন করে ৮ বছরের এক শিশুকে গজারী বনের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে সামাাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে বন্ধুদের পাঠানোর অভিযোগে এক যুবককে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিয়েছে জনতা। এদিকে মাদ্রাসা পরোয়া ৮বছরের এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শিক্ষককেও গণধোলাইয় দেওয়া হয়েছে। পরে থানায় পৃথক দুটি মামলায় তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার ( ৯ মার্চ) দুপুরের দিকে অভিযুক্ত দুজনকেই আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
এরআগে,শনিবার সন্ধ্যার দিকে পৃথক দুটি স্থানে অভিযুক্তদের গণধোলাইয়ের পর রাতে পুলিশে দেয় জনতা। শনিবার বিকেলের দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীর দরগারচালা গ্রামের একটি বনের ভেতর ৮ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে আরমান নামের এক যুবক। ধর্ষণের শিকার শিশুটি উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আর অভিযুক্ত আরমান (২৭) ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের মো. শামসুল হকের ছেলে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের দরগারচালা গ্রামের মাঝেরটেক এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুরের পর থেকেই পাওয়া যাচ্ছিলনা ওই শিশুটিকে। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে ওই এলাকার বনের গভীর থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। এরপর বনের ভেতর তল্লাশির সময় ভুক্তভোগী শিশুসহ আরমানকে পাওয়া যায়। শিশুর কাছে বিস্তারিত জেনে আরমানের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। এ সময় ভিডিওটি কয়েকটি ইমো নাম্বারে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন সেখানে জড়ো হতে থাকেন। পরে আরমানকে গণধোলাইয় দিয়ে একটি গুদামে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন তারা। খবর পেয়ে তাকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ।
শিশুর বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী। অভিযুক্ত যুবক আমার শিশুকন্যাকে বাড়ি থেকে গজারী বনে নিয়ে আসে। আমার শিশুর ওপর অমানুষিক অত্যাচার করে সে। শিশুকন্যা কান্নাকাটি করলে আশপাশের মানুষ গিয়ে উদ্ধার করে।’এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরমান মিয়া বলেন, ‘শিশুকে ধর্ষণ ও ভিডিও আমি নিজেই ধারণ করছি। আমার কয়েকজন বন্ধুকে ইমোতে পাঠিয়েছি। আমাকে কয়েকজন মিলে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করিয়েছে। এজন্য আমার মাথা ঠিক ছিল না।’
এদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় এক মাদরসার শিশু শিক্ষার্থী (৮)কে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আ: মালেক নামে এক মক্তব শিক্ষককে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দেয় স্থানীয় জনতা। উপজেলার মাওনা উত্তর পাড়া খান বাড়ি এলাকা থেকে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষককে আটক করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক (৪০) নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার শিবপুর গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে। সে মাওনা উত্তরপাড়া একটি মাদরাসার শিক্ষক।
জানা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় পড়তে গেলে মাদ্রাসায় কোন শিক্ষার্থী না থাকায় তার স্পর্শকাতরস্থানে হাত দেয় ঐ শিক্ষক। পরে ওই শিক্ষার্থী এ বিষয়টি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ হেদায়েতুল্লাহ কে অবগত করেন। তিনি বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিক্ষার্থীকে বলেন। এরপর থেকে ওই শিক্ষার্থী আর ওই মাদ্রাসায় পড়তে যায়নি। শনিবার বিকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা তাকে মাদরাসায় যাওয়ার জন্য শাসন করলে তিনি শিক্ষকের শ্লীলতাহানির বিষয়টি জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক মালেক বলেন,” শয়তানের ধোকায় পড়ে আমি শিশুর গায়ে হাত দিয়েছি। আমার শাস্তি প্রয়োজন। আগে আর কখনো এমন অন্যায় করিনি।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামীম আখতার হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন,”প্রথম ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত আরমানকে আটক করা হয়। মোবাইল ফোনে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় মোবাইল ফোন। দ্বিতীয় ঘটনায় অভিযুক্ত মালেককে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার দুপুরের দিকে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়।”

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ার শিববাড়িতে প্রস্তুত এক হাজার হাতের প্রতিমা: আসবেন লক্ষাধিক দর্শনার্থী

ইয়াবা সেবনের পর জঙ্গলে শিশু ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ

Update Time : 09:55:44 am, Sunday, 9 March 2025

ডেস্ক রিপোর্ট : গাজীপুরের শ্রীপুরে ইয়াবা সেবন করে ৮ বছরের এক শিশুকে গজারী বনের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে সামাাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে বন্ধুদের পাঠানোর অভিযোগে এক যুবককে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিয়েছে জনতা। এদিকে মাদ্রাসা পরোয়া ৮বছরের এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শিক্ষককেও গণধোলাইয় দেওয়া হয়েছে। পরে থানায় পৃথক দুটি মামলায় তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার ( ৯ মার্চ) দুপুরের দিকে অভিযুক্ত দুজনকেই আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
এরআগে,শনিবার সন্ধ্যার দিকে পৃথক দুটি স্থানে অভিযুক্তদের গণধোলাইয়ের পর রাতে পুলিশে দেয় জনতা। শনিবার বিকেলের দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীর দরগারচালা গ্রামের একটি বনের ভেতর ৮ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে আরমান নামের এক যুবক। ধর্ষণের শিকার শিশুটি উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আর অভিযুক্ত আরমান (২৭) ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের মো. শামসুল হকের ছেলে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের দরগারচালা গ্রামের মাঝেরটেক এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুরের পর থেকেই পাওয়া যাচ্ছিলনা ওই শিশুটিকে। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে ওই এলাকার বনের গভীর থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। এরপর বনের ভেতর তল্লাশির সময় ভুক্তভোগী শিশুসহ আরমানকে পাওয়া যায়। শিশুর কাছে বিস্তারিত জেনে আরমানের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। এ সময় ভিডিওটি কয়েকটি ইমো নাম্বারে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন সেখানে জড়ো হতে থাকেন। পরে আরমানকে গণধোলাইয় দিয়ে একটি গুদামে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন তারা। খবর পেয়ে তাকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ।
শিশুর বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী। অভিযুক্ত যুবক আমার শিশুকন্যাকে বাড়ি থেকে গজারী বনে নিয়ে আসে। আমার শিশুর ওপর অমানুষিক অত্যাচার করে সে। শিশুকন্যা কান্নাকাটি করলে আশপাশের মানুষ গিয়ে উদ্ধার করে।’এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরমান মিয়া বলেন, ‘শিশুকে ধর্ষণ ও ভিডিও আমি নিজেই ধারণ করছি। আমার কয়েকজন বন্ধুকে ইমোতে পাঠিয়েছি। আমাকে কয়েকজন মিলে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করিয়েছে। এজন্য আমার মাথা ঠিক ছিল না।’
এদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় এক মাদরসার শিশু শিক্ষার্থী (৮)কে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আ: মালেক নামে এক মক্তব শিক্ষককে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দেয় স্থানীয় জনতা। উপজেলার মাওনা উত্তর পাড়া খান বাড়ি এলাকা থেকে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষককে আটক করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক (৪০) নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার শিবপুর গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে। সে মাওনা উত্তরপাড়া একটি মাদরাসার শিক্ষক।
জানা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় পড়তে গেলে মাদ্রাসায় কোন শিক্ষার্থী না থাকায় তার স্পর্শকাতরস্থানে হাত দেয় ঐ শিক্ষক। পরে ওই শিক্ষার্থী এ বিষয়টি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ হেদায়েতুল্লাহ কে অবগত করেন। তিনি বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিক্ষার্থীকে বলেন। এরপর থেকে ওই শিক্ষার্থী আর ওই মাদ্রাসায় পড়তে যায়নি। শনিবার বিকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা তাকে মাদরাসায় যাওয়ার জন্য শাসন করলে তিনি শিক্ষকের শ্লীলতাহানির বিষয়টি জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক মালেক বলেন,” শয়তানের ধোকায় পড়ে আমি শিশুর গায়ে হাত দিয়েছি। আমার শাস্তি প্রয়োজন। আগে আর কখনো এমন অন্যায় করিনি।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামীম আখতার হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন,”প্রথম ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত আরমানকে আটক করা হয়। মোবাইল ফোনে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় মোবাইল ফোন। দ্বিতীয় ঘটনায় অভিযুক্ত মালেককে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার দুপুরের দিকে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়।”