12:40 pm, Saturday, 12 September 2026

গাড়িচালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী মেঘলা

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর বনানীতে মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া গাড়িসহ চালককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়ে প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরা মেঘলা মুক্তা গাড়িসহ চালককে আটক করার খবর পেলেও পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দুর্ঘটনার পর থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, পুরো ঘটনায় তিনি ‘ভীষণ হতাশ’ ও ‘ক্ষুব্ধ’।

গত ২৮ জুলাই রাতে বনানী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মেঘলা মুক্তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এতে মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে পথচারী ও স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওই রাতেই মেঘলার বন্ধু ও সহশিল্পী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করেন।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক মাস নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন মেঘলা।

চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার মুখে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। সম্প্রতি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি। চিকিৎসকরা তাকে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মেঘলার সহকর্মীরা বনানী থানায় গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর মেঘলার বাবা বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেন।

এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ মেঘলা মুক্তার পরিবারকে গাড়িসহ চালককে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করে। জানা গেছে, গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তানভীর আহমেদের নির্দেশে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়।

তবে গাড়ি ও চালক শনাক্তের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেঘলা মুক্তা। তার অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর থেকেই বনানী থানা-পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। গাড়িটি শনাক্ত করতে তার পরিবারের সদস্যদের বারবার থানায় যেতে হয়েছে।
এমনকি চালককে আটক করার পরও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও গড়িমসি ছিল বলে অভিযোগ করেছেন এ অভিনেত্রী।

মেঘলা মুক্তার দাবি, পুলিশ শুধু আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পরিবারকে গাড়িসহ চালককে আটক করার বিষয়টি জানিয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং দৃশ্যমান বিচারের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মেঘলা মুক্তা বলেন, এ জীবনে কখনো আইনি ঝামেলা বা থানা-পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়নি। গত তিন মাসে আমার সঙ্গে দুটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানা-পুলিশের সঙ্গে আমার যে অভিজ্ঞতা, তা খুবই খারাপ। ভীষণ হতাশার! আমি ভাবতেও পারিনি, পুলিশ এতটা অসহযোগিতাপরায়ণ হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা না হয় পথঘাট কিছুটা হলেও চিনি, পরিচিতি মানুষজন আছে, তারপরও যে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু এ দেশের সাধারণ মানুষ, তাদের জন্য আমার সত্যিই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। মনে হয়েছে, তারা মোটেও কোনো ধরনের আইনি প্রতিকার পুলিশের কাছে পায় না। আমি সত্যিই পুরো বিষয়টায় বিরক্ত, ক্ষুব্ধ।

এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গাড়িসহ আটক করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আইনগতভাবে কোনো ত্রুটি হবে না। আটক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হবে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

গাড়িচালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী মেঘলা

Update Time : 06:59:53 am, Saturday, 5 September 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর বনানীতে মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া গাড়িসহ চালককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়ে প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরা মেঘলা মুক্তা গাড়িসহ চালককে আটক করার খবর পেলেও পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দুর্ঘটনার পর থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, পুরো ঘটনায় তিনি ‘ভীষণ হতাশ’ ও ‘ক্ষুব্ধ’।

গত ২৮ জুলাই রাতে বনানী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মেঘলা মুক্তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এতে মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে পথচারী ও স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওই রাতেই মেঘলার বন্ধু ও সহশিল্পী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করেন।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক মাস নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন মেঘলা।

চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার মুখে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। সম্প্রতি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি। চিকিৎসকরা তাকে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মেঘলার সহকর্মীরা বনানী থানায় গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর মেঘলার বাবা বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেন।

এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ মেঘলা মুক্তার পরিবারকে গাড়িসহ চালককে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করে। জানা গেছে, গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তানভীর আহমেদের নির্দেশে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়।

তবে গাড়ি ও চালক শনাক্তের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেঘলা মুক্তা। তার অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর থেকেই বনানী থানা-পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। গাড়িটি শনাক্ত করতে তার পরিবারের সদস্যদের বারবার থানায় যেতে হয়েছে।
এমনকি চালককে আটক করার পরও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও গড়িমসি ছিল বলে অভিযোগ করেছেন এ অভিনেত্রী।

মেঘলা মুক্তার দাবি, পুলিশ শুধু আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পরিবারকে গাড়িসহ চালককে আটক করার বিষয়টি জানিয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং দৃশ্যমান বিচারের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মেঘলা মুক্তা বলেন, এ জীবনে কখনো আইনি ঝামেলা বা থানা-পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়নি। গত তিন মাসে আমার সঙ্গে দুটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানা-পুলিশের সঙ্গে আমার যে অভিজ্ঞতা, তা খুবই খারাপ। ভীষণ হতাশার! আমি ভাবতেও পারিনি, পুলিশ এতটা অসহযোগিতাপরায়ণ হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা না হয় পথঘাট কিছুটা হলেও চিনি, পরিচিতি মানুষজন আছে, তারপরও যে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু এ দেশের সাধারণ মানুষ, তাদের জন্য আমার সত্যিই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। মনে হয়েছে, তারা মোটেও কোনো ধরনের আইনি প্রতিকার পুলিশের কাছে পায় না। আমি সত্যিই পুরো বিষয়টায় বিরক্ত, ক্ষুব্ধ।

এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গাড়িসহ আটক করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আইনগতভাবে কোনো ত্রুটি হবে না। আটক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হবে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।