4:02 am, Saturday, 17 October 2026

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও হার, যে ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া বাংলাদেশের

ডেস্ক রিপোর্ট :: জয়ের খুব কাছে গিয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বের করে আনতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১১৪ রান করেও লড়াই জমিয়ে তুলেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

তবে শেষ দিকে একটি ক্যাচ মিস, ব্যাটিংয়ের মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি কমে যাওয়া এবং স্লো ওভার রেটের পেনাল্টিতে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
ম্যাচ শেষে হারের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সোবহানা মোস্তারি আক্ষেপ করেছেন ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ মিস নিয়ে।

তার মতে, ওই ক্যাচটি নিতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।
ম্যাচ শেষে সোবহানা বলেন, ‘১৮তম ওভার পর্যন্ত ম্যাচটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

হয়তো ১৮তম ওভারে ডিপ মিডউইকেটে আমরা একটি ক্যাচ মিস করেছি। ওই ক্যাচটি যদি আমরা নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো ম্যাচটি জিততে পারতাম।
’
হারের পেছনে কেবল ক্যাচ মিসই একমাত্র কারণ নয়। ব্যাটিংয়েও প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪০-এর বেশি রানের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই থামতে হয়েছে। বিশেষ করে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে বাউন্ডারি না পাওয়ায় রানের গতি কমে যায়।

সোবহানা বলেন, ‘টার্গেট হিসেবে এটি যথেষ্ট ছিল না, কারণ আমরা ১৪০ প্লাস রানের পরিকল্পনা করেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, মিডল ফেজে আমাদের রানের গতি ধীর হয়ে যায়। আমি এবং স্বর্ণা টিকে থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ ৩–৪ ওভার আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি।’

পাওয়ারপ্লেতে অবশ্য ভালোই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই ছন্দ হারায় ব্যাটিং। ডট বলের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি টানা কয়েক ওভার বাউন্ডারি না আসায় চাপ তৈরি হয় ব্যাটারদের ওপর, ‘পাওয়ারপ্লেতে আমরা ভালো শুরু করেছিলাম। কিন্তু পাওয়ারপ্লের পর আমরা কিছু ডট বল খেলি এবং শুধু সিঙ্গেল নিয়েছি; দুই-তিন ওভার কোনো বাউন্ডারি মারতে পারিনি। আমাদের ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে কাজ করতে হবে।’

শুধু ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও নিজেদের ঘাটতি দেখছেন সোবহানা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় সেটি নিয়ে হতাশা থাকলেও উন্নতির জায়গাগুলো নিয়েই সামনে এগোতে চান তিনি, ‘আমরা দিন দিন উন্নতি করছি। ফিল্ডিং এবং ব্যাটিংয়ে আমরা আরও বেশি অনুশীলন করেছি। তবে ব্যাটিংয়ে যেমন আমরা ১৪০ করতে পারিনি, তেমনি ফিল্ডিংয়েও ক্যাচ মিস হয়েছে। আমাদের ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং—উভয় বিভাগেই আরও উন্নতি করতে হবে।’

ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে পেনাল্টিও পেয়েছে বাংলাদেশ, ‘আউটফিল্ডে ভেজা ভাবের কারণে হয়তো ফিল্ডিং করতে ও বোলারদের জন্য বল করতে একটু সময় লেগেছিল। এই কারণেই কিছুটা দেরি হয়েছিল এবং পেনাল্টির সম্মুখীন হতে হয়েছে।’

তবে হারের মধ্যেও পেসার মারুফা আক্তারের পারফরম্যান্সে নিয়ে দারুন উচ্ছ্বাসিত সোবহানা, ‘মারুফা দিন দিন অনেক ভালো বল করছে। গত দুই বছর ধরে সে চমৎকার বোলিং করে আসছে। আজও সে অনেক ভালো বোলিং করেছে। সে প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করছে।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পরও বাংলাদেশের সামনে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিতলেই দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি নিযে সোবহানা বলেন, ‘ইউএই-ও একটি ভালো দল। আমাদের এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ শেষ ম্যাচটি জেতার দিকে। এই ম্যাচটি জিততে পারলে আমরা সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ পাব।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও হার, যে ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া বাংলাদেশের

Update Time : 07:44:43 am, Monday, 7 September 2026

ডেস্ক রিপোর্ট :: জয়ের খুব কাছে গিয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বের করে আনতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১১৪ রান করেও লড়াই জমিয়ে তুলেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

তবে শেষ দিকে একটি ক্যাচ মিস, ব্যাটিংয়ের মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি কমে যাওয়া এবং স্লো ওভার রেটের পেনাল্টিতে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
ম্যাচ শেষে হারের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সোবহানা মোস্তারি আক্ষেপ করেছেন ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ মিস নিয়ে।

তার মতে, ওই ক্যাচটি নিতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।
ম্যাচ শেষে সোবহানা বলেন, ‘১৮তম ওভার পর্যন্ত ম্যাচটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

হয়তো ১৮তম ওভারে ডিপ মিডউইকেটে আমরা একটি ক্যাচ মিস করেছি। ওই ক্যাচটি যদি আমরা নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো ম্যাচটি জিততে পারতাম।
’
হারের পেছনে কেবল ক্যাচ মিসই একমাত্র কারণ নয়। ব্যাটিংয়েও প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪০-এর বেশি রানের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই থামতে হয়েছে। বিশেষ করে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে বাউন্ডারি না পাওয়ায় রানের গতি কমে যায়।

সোবহানা বলেন, ‘টার্গেট হিসেবে এটি যথেষ্ট ছিল না, কারণ আমরা ১৪০ প্লাস রানের পরিকল্পনা করেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, মিডল ফেজে আমাদের রানের গতি ধীর হয়ে যায়। আমি এবং স্বর্ণা টিকে থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ ৩–৪ ওভার আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি।’

পাওয়ারপ্লেতে অবশ্য ভালোই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই ছন্দ হারায় ব্যাটিং। ডট বলের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি টানা কয়েক ওভার বাউন্ডারি না আসায় চাপ তৈরি হয় ব্যাটারদের ওপর, ‘পাওয়ারপ্লেতে আমরা ভালো শুরু করেছিলাম। কিন্তু পাওয়ারপ্লের পর আমরা কিছু ডট বল খেলি এবং শুধু সিঙ্গেল নিয়েছি; দুই-তিন ওভার কোনো বাউন্ডারি মারতে পারিনি। আমাদের ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে কাজ করতে হবে।’

শুধু ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও নিজেদের ঘাটতি দেখছেন সোবহানা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় সেটি নিয়ে হতাশা থাকলেও উন্নতির জায়গাগুলো নিয়েই সামনে এগোতে চান তিনি, ‘আমরা দিন দিন উন্নতি করছি। ফিল্ডিং এবং ব্যাটিংয়ে আমরা আরও বেশি অনুশীলন করেছি। তবে ব্যাটিংয়ে যেমন আমরা ১৪০ করতে পারিনি, তেমনি ফিল্ডিংয়েও ক্যাচ মিস হয়েছে। আমাদের ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং—উভয় বিভাগেই আরও উন্নতি করতে হবে।’

ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে পেনাল্টিও পেয়েছে বাংলাদেশ, ‘আউটফিল্ডে ভেজা ভাবের কারণে হয়তো ফিল্ডিং করতে ও বোলারদের জন্য বল করতে একটু সময় লেগেছিল। এই কারণেই কিছুটা দেরি হয়েছিল এবং পেনাল্টির সম্মুখীন হতে হয়েছে।’

তবে হারের মধ্যেও পেসার মারুফা আক্তারের পারফরম্যান্সে নিয়ে দারুন উচ্ছ্বাসিত সোবহানা, ‘মারুফা দিন দিন অনেক ভালো বল করছে। গত দুই বছর ধরে সে চমৎকার বোলিং করে আসছে। আজও সে অনেক ভালো বোলিং করেছে। সে প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করছে।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পরও বাংলাদেশের সামনে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিতলেই দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি নিযে সোবহানা বলেন, ‘ইউএই-ও একটি ভালো দল। আমাদের এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ শেষ ম্যাচটি জেতার দিকে। এই ম্যাচটি জিততে পারলে আমরা সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ পাব।’