12:47 am, Monday, 8 June 2026

তেল-সারের মূল্যবৃদ্ধি: কুলাউড়ায় চাষাবাদে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

কুলাউড়া প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভরা আউশ-আমন মৌসুমে হঠাৎ জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। খেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ দেওয়া, মাড়াই করা, ফসল ঘরে তোলা, শ্রমিকের মজুরি দেওয়া সব ক্ষেত্রেই বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হচ্ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ও চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৪ টাকা হতে বৃদ্ধি করে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬ টাকা হতে বৃদ্ধি করে ২২ টাকা পুননির্ধারণ করেছে সরকার।

উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘায় খরচ বেড়েছে ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচ খরচ প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে।

তারা জানান, আগে এক একর জমি চাষ ও সেচে খরচ পড়ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকার মতো। বর্তমানে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন খরচ বেড়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা।

কৃষকরা আরও জানান, হঠাৎ করে সার ও তেলের দাম বাড়ায় মানুষ এখন চাষাবাদ ছেড়ে দেবার অবস্থায়। কারণ ফলন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে অন্যদিকে কৃষক তার ফসলের ন্যয্য দাম পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে কৃষকরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন না। তবে হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা ৭০% এবং নন হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা ৫০% ভর্তুকি দিয়ে কৃষি যন্ত্রংশ নিতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, কুলাউড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য উপজেলার ২ হাজার ৫শ কৃষকদের মাঝে জনপ্রতি ৫ কেজি বীজ ও ২০ কেজি সার বিতরণ করা হয়েছে।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ডেঙ্গু পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তেল-সারের মূল্যবৃদ্ধি: কুলাউড়ায় চাষাবাদে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

Update Time : 10:24:06 am, Friday, 19 August 2022

কুলাউড়া প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভরা আউশ-আমন মৌসুমে হঠাৎ জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। খেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ দেওয়া, মাড়াই করা, ফসল ঘরে তোলা, শ্রমিকের মজুরি দেওয়া সব ক্ষেত্রেই বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হচ্ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ও চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৪ টাকা হতে বৃদ্ধি করে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬ টাকা হতে বৃদ্ধি করে ২২ টাকা পুননির্ধারণ করেছে সরকার।

উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘায় খরচ বেড়েছে ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচ খরচ প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে।

তারা জানান, আগে এক একর জমি চাষ ও সেচে খরচ পড়ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকার মতো। বর্তমানে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন খরচ বেড়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা।

কৃষকরা আরও জানান, হঠাৎ করে সার ও তেলের দাম বাড়ায় মানুষ এখন চাষাবাদ ছেড়ে দেবার অবস্থায়। কারণ ফলন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে অন্যদিকে কৃষক তার ফসলের ন্যয্য দাম পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে কৃষকরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন না। তবে হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা ৭০% এবং নন হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা ৫০% ভর্তুকি দিয়ে কৃষি যন্ত্রংশ নিতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, কুলাউড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য উপজেলার ২ হাজার ৫শ কৃষকদের মাঝে জনপ্রতি ৫ কেজি বীজ ও ২০ কেজি সার বিতরণ করা হয়েছে।