12:46 am, Tuesday, 15 September 2026

ধ্বংসস্তূপ সরাতেই মিলছে ফিলিস্তিনিদের লাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজ ১৭ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৭ নিখোঁজ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ‘শহীদদের মরদেহ উদ্ধার’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এসব লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।

তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের মরদেহ খুঁজে বের করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

তবে উদ্ধারকারী দলগুলোর কাছে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় অভিযান ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে উত্তর গাজার গাজা সিটি এবং মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের নিচে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির জেইতুন ও ইয়ারমুক এলাকায় হাজ্জি ও আল-নাদিম পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৬ নিখোঁজ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-ওয়ার পরিবারের একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

গাজায় গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনও ধীরগতিতে চলছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল, ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কেউ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন, আবার কারও ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি।

দ্বিতীয় ধাপের উদ্ধার প্রকল্পে মোট ৮০০ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি ও স্থাপনায় অনুসন্ধান চালানো হবে। সিভিল ডিফেন্সের আগের হিসাব অনুযায়ী, এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ১ হাজার ৭২টি লাশ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকল্পটির প্রথম ধাপ শুরু হয়। ওই পর্যায়ে ৫৪টি বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ৫৫৯ নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যে প্রায় ৩৩৩ জনের লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ধ্বংসস্তূপ সরাতেই মিলছে ফিলিস্তিনিদের লাশ

Update Time : 07:32:50 am, Monday, 14 September 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজ ১৭ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৭ নিখোঁজ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ‘শহীদদের মরদেহ উদ্ধার’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এসব লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।

তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের মরদেহ খুঁজে বের করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

তবে উদ্ধারকারী দলগুলোর কাছে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় অভিযান ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে উত্তর গাজার গাজা সিটি এবং মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের নিচে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির জেইতুন ও ইয়ারমুক এলাকায় হাজ্জি ও আল-নাদিম পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৬ নিখোঁজ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-ওয়ার পরিবারের একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

গাজায় গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনও ধীরগতিতে চলছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল, ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কেউ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন, আবার কারও ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি।

দ্বিতীয় ধাপের উদ্ধার প্রকল্পে মোট ৮০০ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি ও স্থাপনায় অনুসন্ধান চালানো হবে। সিভিল ডিফেন্সের আগের হিসাব অনুযায়ী, এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ১ হাজার ৭২টি লাশ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকল্পটির প্রথম ধাপ শুরু হয়। ওই পর্যায়ে ৫৪টি বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ৫৫৯ নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যে প্রায় ৩৩৩ জনের লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি