বিশেষ প্রতিবেদক : গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুলাউড়ায় এক গৃহবধ‚ নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় ১২ ঘন্টার মধ্যেই নির্যাতিত গৃহবধ‚র শশুর শক্ষিক মিয়া (৬৩) ও স্বামী আব্দুস সালাম (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সন্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সন্মলনে জানান, গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কুলাউড়াা থানার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সুলতাপুুর গ্রামে গৃহবধ‚র শ্বশুর মো: সফিক মিয়া (৬৩) তার পুত্রবধূকে অশ্লীল গালি-গালাজ করে মারধর করতে করতে টেনে হিচড়ে একটি বাড়ির থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার(১৭ এপ্রিল) পরবর্তীতে ভিকটিমের বড়ভাই বাবুল মিয়া এই ঘটনায় কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি জানান, গত প্রায় ৪ বছর আগে তার বোন রুজিনা বেগমকে সুলতানপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে আব্দুস সালামের নিকটন বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই মেয়েটির স্বামী আব্দুস সালাম যৌতুকের জন্য ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতেই থাকে। ভিকটিমের পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারনে যৌতুকের দাবী প‚রন করতে পারেনি। এনিয়ে ঝগড়া বিবাদ লেগেই ছিল। ১৬ এপ্রিল রবিবার ইফতারে শরবতের প্যাকেট কাটাকে কেন্দ্র করে স্বামী ও দেবরের সাথে ঝগড়া বিবাদ হয়। এসময় রুজিনাকে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন মারধোর করে। পরের দিন সোমবার সকালে সে তার শ্বশুড় বাড়ি থেকে রবিরবাজারের কাছে একটি বাসায় জ্যোৎ¯œা বেগমের বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখানে তার শ্বশুড় ও স্বামী উপস্থিত হয়ে টেনে হিছড়ে তার শ্বশুড় বাড়িতে নিয়ে যায়, এসময় গালিগালাজও করে। খবর পেয়ে মেয়ের ভাই ও এলাকার লোকজন মেয়েটির শ্বশুড় বাড়ি আসলে আসলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে মেয়েটির ভাই কুলাউড়া থানা পুলিশের আশ্রয় নিলে কুলাউড়া থার উপ পুলিশ পরিদর্শক(এসআই) হারুনুর রশিদ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। আজ সোমবার অভিযান পরিচালনা করে রুজিনার স্বামী আব্দুস সালামকে তার বাড়ি থেকে ও শ্বাশুড় সফিক মিয়াকে মৌলভীবাজার সদরের একাটুনা গ্রামের তার মেয়ের জামাই শামসুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। স্বামী আব্দুস সালামকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ ও শ্বাশুড়কে আইনী প্রক্রিয়া শেষে কোর্টে সোপর্দ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























