1:24 pm, Monday, 9 March 2026

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়, প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে আট বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি। ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে।

৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো বিশেষ আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলাদা করে কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ট্রাম্পের অভিনন্দনপত্রে বাণিজ্য ও সামরিক বিষয়ে উল্লেখ ছিল, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, চুক্তির বিষয়টি আজ আলোচনার বিষয় হিসেবে আসেনি। আর সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি সই হয়েছে, তা কার্যকর করতে কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে।

যেকোনো চুক্তিতে দুই পক্ষ থাকে। কিছু ধারা একপক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্যপক্ষের অনুকূলে থাকে। আলোচনার মাধ্যমে উভয়ের জন্য ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই চুক্তিতেও এমন অনেক ধারা রয়েছে, যেগুলোর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব। তাই এটিকে এখনই সম্পূর্ণ নেতিবাচক বা সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছি না।
এটি একটি বাস্তবতা।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি। আমি বলেছিলাম, আমেরিকার উচ্চতর আদালতে জরুরি ক্ষমতার ভিত্তিতে আরোপিত ট্যারিফ বিষয়ে যে রায় হয়েছে, তা পরিস্থিতিকে বিকাশমান করে তুলেছে। আমরা সেই বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

চুক্তি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। সুতরাং এতে যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা উদ্বেগ থাকে, তা আমাদের কাছে উত্থাপন করা যেতে পারে। কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত বা জীবনের শেষ কথা নয়। প্রতিটি চুক্তিতে নিজস্ব সুরক্ষাব্যবস্থা ও সংশোধনের ধারা থাকে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তাই এ নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

ভিসা বন্ডের আওতায় বাংলাদেশ পড়েছে, এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমরা সবসময় চাই, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়েন।

নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই তারা নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান। ভবিষ্যতে কীভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ বাংলাদেশে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো দূর করা গেলে বিনিয়োগ সহজতর হবে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজার। কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা আমাদের জানানো হোক। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করব। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শ্রীমঙ্গলের রাজনীতিতে ফিরছেন যোশেফ দাশ গুপ্ত যশো: চেয়ারম্যান পদে লড়ার ঘোষণা

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

Update Time : 09:51:54 am, Wednesday, 4 March 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়, প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে আট বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি। ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে।

৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো বিশেষ আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলাদা করে কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ট্রাম্পের অভিনন্দনপত্রে বাণিজ্য ও সামরিক বিষয়ে উল্লেখ ছিল, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, চুক্তির বিষয়টি আজ আলোচনার বিষয় হিসেবে আসেনি। আর সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি সই হয়েছে, তা কার্যকর করতে কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে।

যেকোনো চুক্তিতে দুই পক্ষ থাকে। কিছু ধারা একপক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্যপক্ষের অনুকূলে থাকে। আলোচনার মাধ্যমে উভয়ের জন্য ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই চুক্তিতেও এমন অনেক ধারা রয়েছে, যেগুলোর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব। তাই এটিকে এখনই সম্পূর্ণ নেতিবাচক বা সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছি না।
এটি একটি বাস্তবতা।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি। আমি বলেছিলাম, আমেরিকার উচ্চতর আদালতে জরুরি ক্ষমতার ভিত্তিতে আরোপিত ট্যারিফ বিষয়ে যে রায় হয়েছে, তা পরিস্থিতিকে বিকাশমান করে তুলেছে। আমরা সেই বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

চুক্তি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। সুতরাং এতে যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা উদ্বেগ থাকে, তা আমাদের কাছে উত্থাপন করা যেতে পারে। কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত বা জীবনের শেষ কথা নয়। প্রতিটি চুক্তিতে নিজস্ব সুরক্ষাব্যবস্থা ও সংশোধনের ধারা থাকে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তাই এ নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

ভিসা বন্ডের আওতায় বাংলাদেশ পড়েছে, এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমরা সবসময় চাই, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়েন।

নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই তারা নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান। ভবিষ্যতে কীভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ বাংলাদেশে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো দূর করা গেলে বিনিয়োগ সহজতর হবে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজার। কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা আমাদের জানানো হোক। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করব। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।