4:00 pm, Friday, 18 September 2026

রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে রাসোৎসব শুরু                                           

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জে রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে মণিপুরি সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব মহারাসলীলা শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে তুমুল হৈ চৈ, আনন্দ-উৎসাহে ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল আর শঙ্খ ধ্বনির মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ও তার সখি রাধারলীলাকে ঘিরে এ উৎসব শুরু হয়। ছোট ছেলে-মেয়েরা রাখাল নৃত্য পরিবেশ করছে।
ভক্তবৃন্দ নৃত্যরত শিল্পীদের বাতাসা ও টাকা উপহার দেন। উৎসব উপলক্ষে নানা ঐতিহ্যবাহী সাজে মেতেছে মণিপুরীপাড়া। রাতভর বৈষ্ণব সাহিত্যের রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার নৃত্যগীতাভিনয় রাসলীলার মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। মূল রাসলীলা রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন ভোর পর্যন্ত চলবে।
পাশাপাশি তিনটি মণ্ডপে তরুণীরা রাসলীলায় অংশ নিয়ে থাকে। রাসের সাধারণ ক্রম হচ্ছে- সূত্রধারী কর্তৃক রাগালাপ ও বন্দনা, বৃন্দার কৃষ্ণ আবাহন, কৃষ্ণ অভিসার, রাধা ও সখীদের অভিসার, রাধা ও কৃষ্ণের সাক্ষাৎ ও মান-অভিমান, ভঙ্গীপারেং, রাধার কৃষ্ণ-সমর্পণ, যুগলরূপ প্রার্থনা এবং আরতি ইত্যাদি।
যদিও সেটি একটি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, কিন্তু তার নৃত্যশৈলী বরাবর সব ধর্ম ও জাতের মানুষকে আকর্ষণ করেছে।এদিকে রাসোৎসব উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মণিপুরি সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়াও সকল ধর্মের মানুষ ভিড় করছে মণ্ডপ গুলোতে।
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে বেলা ১টা থেকে শুরু হয় গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাত ১২টায় জোড়া মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা।
এবার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপে ১৮২তম রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের আয়োজনে ৩৯তম রাসোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাসোৎসবে মণিপুরি সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি অন্যান্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার লোক মেতে উঠেছেন একদিনের আনন্দ উৎসবে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, বরেণ্য জ্ঞানী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদচারণায় রাতে মুখরিত হয়ে উঠবে মাধবপুর ও আদমপুরের মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।
রাসোৎসবকে ঘিরে মাধবপুর ও আদমপুরের মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে সাদা কাগজের নকশার নিপুণ কারুকাজে। করা হয়েছে আলোকসজ্জাও।
মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, ‍‍এবারে মাধবপুর জোড়া মণ্ডপে ১৮২তম মহারাসলীলা উপলক্ষে বিকাল সাড়ে ৬টায় শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন,এছাড়া সন্ধ্যায় আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে শক্তিশালী হচ্ছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে রাসোৎসব শুরু                                           

Update Time : 12:25:40 pm, Friday, 15 November 2024
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জে রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে মণিপুরি সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব মহারাসলীলা শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে তুমুল হৈ চৈ, আনন্দ-উৎসাহে ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল আর শঙ্খ ধ্বনির মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ও তার সখি রাধারলীলাকে ঘিরে এ উৎসব শুরু হয়। ছোট ছেলে-মেয়েরা রাখাল নৃত্য পরিবেশ করছে।
ভক্তবৃন্দ নৃত্যরত শিল্পীদের বাতাসা ও টাকা উপহার দেন। উৎসব উপলক্ষে নানা ঐতিহ্যবাহী সাজে মেতেছে মণিপুরীপাড়া। রাতভর বৈষ্ণব সাহিত্যের রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার নৃত্যগীতাভিনয় রাসলীলার মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। মূল রাসলীলা রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন ভোর পর্যন্ত চলবে।
পাশাপাশি তিনটি মণ্ডপে তরুণীরা রাসলীলায় অংশ নিয়ে থাকে। রাসের সাধারণ ক্রম হচ্ছে- সূত্রধারী কর্তৃক রাগালাপ ও বন্দনা, বৃন্দার কৃষ্ণ আবাহন, কৃষ্ণ অভিসার, রাধা ও সখীদের অভিসার, রাধা ও কৃষ্ণের সাক্ষাৎ ও মান-অভিমান, ভঙ্গীপারেং, রাধার কৃষ্ণ-সমর্পণ, যুগলরূপ প্রার্থনা এবং আরতি ইত্যাদি।
যদিও সেটি একটি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, কিন্তু তার নৃত্যশৈলী বরাবর সব ধর্ম ও জাতের মানুষকে আকর্ষণ করেছে।এদিকে রাসোৎসব উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মণিপুরি সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়াও সকল ধর্মের মানুষ ভিড় করছে মণ্ডপ গুলোতে।
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে বেলা ১টা থেকে শুরু হয় গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাত ১২টায় জোড়া মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা।
এবার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপে ১৮২তম রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের আয়োজনে ৩৯তম রাসোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাসোৎসবে মণিপুরি সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি অন্যান্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার লোক মেতে উঠেছেন একদিনের আনন্দ উৎসবে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, বরেণ্য জ্ঞানী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদচারণায় রাতে মুখরিত হয়ে উঠবে মাধবপুর ও আদমপুরের মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।
রাসোৎসবকে ঘিরে মাধবপুর ও আদমপুরের মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে সাদা কাগজের নকশার নিপুণ কারুকাজে। করা হয়েছে আলোকসজ্জাও।
মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, ‍‍এবারে মাধবপুর জোড়া মণ্ডপে ১৮২তম মহারাসলীলা উপলক্ষে বিকাল সাড়ে ৬টায় শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন,এছাড়া সন্ধ্যায় আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।