6:06 pm, Thursday, 13 August 2026

রাজধানীতে গণপরিবহন সংকট, বন্ধ দূরপাল্লার বাস

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর ফার্মগেট মোড় শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে একেবারে বাসশূন্য দেখা যায়।
রাজধানীতে বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বেশিরভাগ রুটের বাস বন্ধ রয়েছে। পথচারীরা বলছেন, ঢাকায় অঘোষিত বাস ধর্মঘট চলছে।

শনিবার সকালে ঢাকার গুলিস্তান, শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, মহাখালী, নিকুঞ্জ, শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

অফিসমুখী বা বিভিন্ন কাজে বের হওয়া মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশে সমস্যায় পড়েছেন নারীরা।

এছাড়া কিছু সিএনজি চলাচল করলেও তাতে হাঁকা হচ্ছে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া। বাস না পেয়ে কাউকে কাউকে পিকআপ ভ্যানে করেও গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শাহবাগ থেকে বাস না পেয়ে মোটরসাইকেলে আসতে হলো। খরচটা অনেক বেশি গেল, কিছু করার নেই।’

রাজধানীর উত্তরা থেকে পল্টনগামী প্রেস দোকানের কর্মী মো. সোহেল বলেন, বাস আসছে না, অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করছি। যেতেও হবে, কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

মোহাম্মদপুর থেকে ফার্মগেটের অফিসগামী বাদল সরকার বলেন, ‘বাসের জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। সরকার উদ্যোগের ঢাকা নগর পরিবহনও চলছে না। বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলেই ভরসা রাখতে হবে।’

 

মোহাম্মদপুর টু স্টাফ কোয়ার্টারগামী স্বাধীন পরিবহনের একজন গাড়িচালককে কেন বাস বন্ধ রেখেছেন জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে রাজধানী ঢাকার আগে দেশের সবগুলো বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। সব সমাবেশের আগেই একদিন দুদিন বাস ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। শুধু কুমিল্লার সমাবেশে বাস বন্ধের ঘটনা পাওয়া যায়নি।

বেড়েছে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া

বাস না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। নিকুঞ্জের বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস পাননি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহমুদ রহমান। পরে বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘তুলনামূলক বেশি ভাড়ায় সিএনজি নিতে হচ্ছে। অফিসে তো যেতেই হবে।’

মো. মাহাবুব শনিবার সকালে বলেন, ভোর ৬টায় বের হয়ে পৌনে ৮টা নাগাদ ১৪৫০ টাকার ভাড়া মেরেছি। অন্যদিনে এই ভাড়া পেতে বিকেল হয়ে যেত।’ রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের বাসিন্দা এই মোটরসাইকেল চালক বলছিলেন, ‘গাড়িঘোড়া তেমন নেই, একারণে ১০ থেকে ১৫ মিনিটে বেশ দূরত্বের জায়গাগুলোতে ভাড়া মারতে পারছি।’

এদিকে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস। ঢাকা থেকে কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না, আবার ঢাকায় প্রবেশও করছে না। সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় দূরপাল্লার বাসগুলো বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন- যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, শ্যামলী, ফার্মগেট, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, শ্যামলী, মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে বাসের দেখা মেলেনি। বাসের জন্য বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তবে রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তান রুটে (মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে) কিছু বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। কিন্তু তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেকক্ষণ পর পর দুই একটি বাস আসলে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন। আবার এসব বাসে নির্ধারিত ভাড়ার থেকে নেওয়া হচ্ছে বেশি।

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন সোহরাব হোসেন। তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, সেই ৮টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি কোনো বাস নাই। যাও মাঝে মাঝে দু একটি আসছে ভিড়ের জন্য উঠতে পারছি না।

যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রুটে কিছু লেগুনা চলাচল করতেও দেখা গেছে। অন্যান্য গণপরিবহন কমে যাওয়ায় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সমাবেশের স্থান নিয়ে শুরু হয় উত্তেজনা। বিএনপি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় পুলিশ। তবে নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে অনড় বিএনপি।

এদিকে বহু নাটকীয়তার পর রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছে গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। শনিবার বেলা ১১টা থেকে সমাবেশ শুরু হবে।

তবে অনুমতি পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা। রাতেই প্রায় ভরে গেছে গোলাপবাগ মাঠ।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ইবাইক: জ্বালানিমন্ত্রী

রাজধানীতে গণপরিবহন সংকট, বন্ধ দূরপাল্লার বাস

Update Time : 07:08:21 am, Saturday, 10 December 2022

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর ফার্মগেট মোড় শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে একেবারে বাসশূন্য দেখা যায়।
রাজধানীতে বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বেশিরভাগ রুটের বাস বন্ধ রয়েছে। পথচারীরা বলছেন, ঢাকায় অঘোষিত বাস ধর্মঘট চলছে।

শনিবার সকালে ঢাকার গুলিস্তান, শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, মহাখালী, নিকুঞ্জ, শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

অফিসমুখী বা বিভিন্ন কাজে বের হওয়া মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশে সমস্যায় পড়েছেন নারীরা।

এছাড়া কিছু সিএনজি চলাচল করলেও তাতে হাঁকা হচ্ছে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া। বাস না পেয়ে কাউকে কাউকে পিকআপ ভ্যানে করেও গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শাহবাগ থেকে বাস না পেয়ে মোটরসাইকেলে আসতে হলো। খরচটা অনেক বেশি গেল, কিছু করার নেই।’

রাজধানীর উত্তরা থেকে পল্টনগামী প্রেস দোকানের কর্মী মো. সোহেল বলেন, বাস আসছে না, অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করছি। যেতেও হবে, কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

মোহাম্মদপুর থেকে ফার্মগেটের অফিসগামী বাদল সরকার বলেন, ‘বাসের জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। সরকার উদ্যোগের ঢাকা নগর পরিবহনও চলছে না। বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলেই ভরসা রাখতে হবে।’

 

মোহাম্মদপুর টু স্টাফ কোয়ার্টারগামী স্বাধীন পরিবহনের একজন গাড়িচালককে কেন বাস বন্ধ রেখেছেন জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে রাজধানী ঢাকার আগে দেশের সবগুলো বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। সব সমাবেশের আগেই একদিন দুদিন বাস ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। শুধু কুমিল্লার সমাবেশে বাস বন্ধের ঘটনা পাওয়া যায়নি।

বেড়েছে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া

বাস না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। নিকুঞ্জের বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস পাননি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহমুদ রহমান। পরে বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘তুলনামূলক বেশি ভাড়ায় সিএনজি নিতে হচ্ছে। অফিসে তো যেতেই হবে।’

মো. মাহাবুব শনিবার সকালে বলেন, ভোর ৬টায় বের হয়ে পৌনে ৮টা নাগাদ ১৪৫০ টাকার ভাড়া মেরেছি। অন্যদিনে এই ভাড়া পেতে বিকেল হয়ে যেত।’ রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের বাসিন্দা এই মোটরসাইকেল চালক বলছিলেন, ‘গাড়িঘোড়া তেমন নেই, একারণে ১০ থেকে ১৫ মিনিটে বেশ দূরত্বের জায়গাগুলোতে ভাড়া মারতে পারছি।’

এদিকে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস। ঢাকা থেকে কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না, আবার ঢাকায় প্রবেশও করছে না। সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় দূরপাল্লার বাসগুলো বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন- যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, শ্যামলী, ফার্মগেট, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, শ্যামলী, মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে বাসের দেখা মেলেনি। বাসের জন্য বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তবে রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তান রুটে (মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে) কিছু বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। কিন্তু তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেকক্ষণ পর পর দুই একটি বাস আসলে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন। আবার এসব বাসে নির্ধারিত ভাড়ার থেকে নেওয়া হচ্ছে বেশি।

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন সোহরাব হোসেন। তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, সেই ৮টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি কোনো বাস নাই। যাও মাঝে মাঝে দু একটি আসছে ভিড়ের জন্য উঠতে পারছি না।

যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রুটে কিছু লেগুনা চলাচল করতেও দেখা গেছে। অন্যান্য গণপরিবহন কমে যাওয়ায় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সমাবেশের স্থান নিয়ে শুরু হয় উত্তেজনা। বিএনপি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় পুলিশ। তবে নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে অনড় বিএনপি।

এদিকে বহু নাটকীয়তার পর রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছে গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। শনিবার বেলা ১১টা থেকে সমাবেশ শুরু হবে।

তবে অনুমতি পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা। রাতেই প্রায় ভরে গেছে গোলাপবাগ মাঠ।