3:34 pm, Monday, 24 August 2026

শরিফুলের বদলে যাওয়ায় মুগ্ধ বাশার, সেরা বল গ্রিনকে আউট করা ডেলিভারি

ডেস্ক রিপোর্ট : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাইয়ে টেস্টে শরিফুল ইসলাম দেখিয়েছেন নিজের বোলিংয়ের আরেকটি রূপ। এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।

তার এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। বিশেষ করে ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করা ডেলিভারিটিকেই পুরো টেস্টের সেরা বল মনে হয়েছে তার।

শরিফুলের টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি সাম্প্রতিক আগ্রহের পরিবর্তনটিও চোখে পড়েছে বাশারের। তার মতে, কয়েক বছর আগেও শরিফুলের মনোযোগ ছিল মূলত সাদা বলের ক্রিকেটে।

তবে গত এক বছরে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাড়না দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে, ‘আমি ৩ বছর ব্যাক যদি বলি ২০২১-২২ এর দিকে যখন শরিফুল ভালো করছিল অনেক, তখনও কিন্তু শরিফুল রেড বল ক্রিকেট নিয়ে অতটা উৎসাহ দেখাত না। তখন অনেকটা হোয়াইট বল ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহটা বেশি ছিল।
বাট রিসেন্ট পাস্ট লাস্ট এক বছর দেখছি যে শরিফুল রেড বল ক্রিকেটটাও অনেক আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখানে সে ভালো করতে চায়।’
লাল বলের ক্রিকেটে ভালো করার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে রেড বল ক্রিকেটের বিকল্প নেই। হোয়াইট বল ক্রিকেট ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট বাট আপনি যদি বড়দের ওয়ার্ল্ড ক্লাসের কাতারে যেতে চান লাল বলে আপনার পারফর্ম করতে হবে। গুড টু সি যে শরিফুল সেই জিনিসটা করতে চাচ্ছে।’

শরিফুলের বোলিংয়ের প্রশংসাও করেছেন বাশার। তার চোখে তরুণ এই পেসার ‘ওয়ান্ডারফুল বোলার’—যার আছে গতি, এনার্জি ও বল সুইং করানোর দক্ষতা। ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের ব্যাটারদের মিলিয়ে ৩০টি উইকেট পড়লেও শরিফুলের একটি ডেলিভারিই আলাদা করে মনে ধরেছে তাঁর।

ঠিক পায়ের পাতার অগ্রভাগে করা দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে গ্রিনকে এলবিডব্লিউ করেন শরিফুল। খালি চোখেই আউট মনে হলেও, আম্পায়ার অবশ্য শুরুতে আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৪৩ বছরের একটি অপেক্ষার অবসান ঘটান শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের সবশেষ ৭ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ছিল ১৮৮৩ সালে।

শরিফুলের দুর্দান্ত এই ডেলিভারি নিয়ে বাশার বলেন, ‘এই টেস্ট ম্যাচটাতে ম্যাকাইয়ে টেস্ট ম্যাচটাতে অস্ট্রেলিয়ার ১০টা আমাদের ২০টা ৩০টা উইকেট পড়েছে। কিছু অসাধারণ ডেলিভারি ছিল। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় শরিফুল যেটা ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করেছে সেটা এই টেস্ট ম্যাচের বেস্ট বল ছিল।’

শরিফুলের সঙ্গে ম্যাচের আগে কথা হয়েছিল বাশারের। সেখানে নিজের একটি ইচ্ছার কথাই জানিয়েছিলেন এই পেসার, ‘ও আমাকে এর আগে বলেছিল যে স্যার আমি টেস্ট ক্রিকেটে ৫ উইকেট পাইনি কখনো। সো ও ৫ উইকেট পেতে চাচ্ছিল। বলেছিল আমি ৫ উইকেট পেতে চাই। মানে পাবে তা বলেনি। বাট ওর একটা ডিজায়ার ছিল ইচ্ছা ছিল যে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ উইকেট পেতে চায় এই মাইলফলকটাও পেতে চায়।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য কোনো একজনকে আলাদা করে কৃতিত্ব দিতে রাজি নন প্রধান নির্বাচক। এটাকে দেখছেন দলীয় সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছেন বাশার, ‘আমি আসলে সিঙ্গেল আউট করতে চাই না। আমার মনে হয় আপনি ডারউইন টেস্ট ম্যাচটা দেখেন যে টেস্ট ম্যাচটাতে আমরা জিতেছিলাম, আই থিঙ্ক ইটস এ টোটাল টিম এফোর্ট। কিছু পারফরম্যান্স তো থাকেই হাইলাইট হয়। তামিমের ১০০, হাসানের ৬ উইকেট।’

বাশার আরও যোগ করে বলেন, ‘যেভাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট করেছে, যেভাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ উইকেট পেয়েছে। এখানে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না। নাথান লায়নের মতো ওয়ার্ল্ড ক্লাস অফ স্পিনার ভালো বোলিং উইকেট পাননি। সেখানে মিরাজ ৫ উইকেট নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। আমার মনে হয় এটা টোটাল টিম এফোর্ট। একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে যা লাগে কিছু পারফরম্যান্স হাইলাইটেড হয় বাট একটা টিম এফোর্ট লাগে। আমার মনে হয় যখন ইভেন শান্তর যে ৮০ টাও ভুলে গেলে চলবে না। প্লাস মুশফিকের যে ইনিংসটা ছিল সেটা, মোমিনুলের ইনিংসটা। তো আমার মনে হয় এটা টোটাল টিম এফোর্ট। সবাই ভালো খেলেছে এখানে।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

৪১ কোটি টাকায় বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ফুটবল

শরিফুলের বদলে যাওয়ায় মুগ্ধ বাশার, সেরা বল গ্রিনকে আউট করা ডেলিভারি

Update Time : 08:53:54 am, Monday, 24 August 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাইয়ে টেস্টে শরিফুল ইসলাম দেখিয়েছেন নিজের বোলিংয়ের আরেকটি রূপ। এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।

তার এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। বিশেষ করে ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করা ডেলিভারিটিকেই পুরো টেস্টের সেরা বল মনে হয়েছে তার।

শরিফুলের টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি সাম্প্রতিক আগ্রহের পরিবর্তনটিও চোখে পড়েছে বাশারের। তার মতে, কয়েক বছর আগেও শরিফুলের মনোযোগ ছিল মূলত সাদা বলের ক্রিকেটে।

তবে গত এক বছরে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাড়না দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে, ‘আমি ৩ বছর ব্যাক যদি বলি ২০২১-২২ এর দিকে যখন শরিফুল ভালো করছিল অনেক, তখনও কিন্তু শরিফুল রেড বল ক্রিকেট নিয়ে অতটা উৎসাহ দেখাত না। তখন অনেকটা হোয়াইট বল ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহটা বেশি ছিল।
বাট রিসেন্ট পাস্ট লাস্ট এক বছর দেখছি যে শরিফুল রেড বল ক্রিকেটটাও অনেক আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখানে সে ভালো করতে চায়।’
লাল বলের ক্রিকেটে ভালো করার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে রেড বল ক্রিকেটের বিকল্প নেই। হোয়াইট বল ক্রিকেট ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট বাট আপনি যদি বড়দের ওয়ার্ল্ড ক্লাসের কাতারে যেতে চান লাল বলে আপনার পারফর্ম করতে হবে। গুড টু সি যে শরিফুল সেই জিনিসটা করতে চাচ্ছে।’

শরিফুলের বোলিংয়ের প্রশংসাও করেছেন বাশার। তার চোখে তরুণ এই পেসার ‘ওয়ান্ডারফুল বোলার’—যার আছে গতি, এনার্জি ও বল সুইং করানোর দক্ষতা। ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের ব্যাটারদের মিলিয়ে ৩০টি উইকেট পড়লেও শরিফুলের একটি ডেলিভারিই আলাদা করে মনে ধরেছে তাঁর।

ঠিক পায়ের পাতার অগ্রভাগে করা দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে গ্রিনকে এলবিডব্লিউ করেন শরিফুল। খালি চোখেই আউট মনে হলেও, আম্পায়ার অবশ্য শুরুতে আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৪৩ বছরের একটি অপেক্ষার অবসান ঘটান শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের সবশেষ ৭ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ছিল ১৮৮৩ সালে।

শরিফুলের দুর্দান্ত এই ডেলিভারি নিয়ে বাশার বলেন, ‘এই টেস্ট ম্যাচটাতে ম্যাকাইয়ে টেস্ট ম্যাচটাতে অস্ট্রেলিয়ার ১০টা আমাদের ২০টা ৩০টা উইকেট পড়েছে। কিছু অসাধারণ ডেলিভারি ছিল। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় শরিফুল যেটা ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করেছে সেটা এই টেস্ট ম্যাচের বেস্ট বল ছিল।’

শরিফুলের সঙ্গে ম্যাচের আগে কথা হয়েছিল বাশারের। সেখানে নিজের একটি ইচ্ছার কথাই জানিয়েছিলেন এই পেসার, ‘ও আমাকে এর আগে বলেছিল যে স্যার আমি টেস্ট ক্রিকেটে ৫ উইকেট পাইনি কখনো। সো ও ৫ উইকেট পেতে চাচ্ছিল। বলেছিল আমি ৫ উইকেট পেতে চাই। মানে পাবে তা বলেনি। বাট ওর একটা ডিজায়ার ছিল ইচ্ছা ছিল যে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ উইকেট পেতে চায় এই মাইলফলকটাও পেতে চায়।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য কোনো একজনকে আলাদা করে কৃতিত্ব দিতে রাজি নন প্রধান নির্বাচক। এটাকে দেখছেন দলীয় সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছেন বাশার, ‘আমি আসলে সিঙ্গেল আউট করতে চাই না। আমার মনে হয় আপনি ডারউইন টেস্ট ম্যাচটা দেখেন যে টেস্ট ম্যাচটাতে আমরা জিতেছিলাম, আই থিঙ্ক ইটস এ টোটাল টিম এফোর্ট। কিছু পারফরম্যান্স তো থাকেই হাইলাইট হয়। তামিমের ১০০, হাসানের ৬ উইকেট।’

বাশার আরও যোগ করে বলেন, ‘যেভাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট করেছে, যেভাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ উইকেট পেয়েছে। এখানে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না। নাথান লায়নের মতো ওয়ার্ল্ড ক্লাস অফ স্পিনার ভালো বোলিং উইকেট পাননি। সেখানে মিরাজ ৫ উইকেট নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। আমার মনে হয় এটা টোটাল টিম এফোর্ট। একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে যা লাগে কিছু পারফরম্যান্স হাইলাইটেড হয় বাট একটা টিম এফোর্ট লাগে। আমার মনে হয় যখন ইভেন শান্তর যে ৮০ টাও ভুলে গেলে চলবে না। প্লাস মুশফিকের যে ইনিংসটা ছিল সেটা, মোমিনুলের ইনিংসটা। তো আমার মনে হয় এটা টোটাল টিম এফোর্ট। সবাই ভালো খেলেছে এখানে।’