8:58 am, Friday, 17 April 2026

শ্রীমঙ্গলে এক বছরে ৬৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার : বনাঞ্চলের গাছপালা ও ঝোপঝাড় নির্বিচারে উজাড়ের অভিযোগ

সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গত এক বছরে বিভিন্ন লোকালয় থেকে জীবিত ও মৃত মোট ৬৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ২৩টি অজগর, ৯টি লজ্জাবতী বানর, ৬টি গন্ধগোকুল, ৪টি বনবিড়াল, ৪টি শঙ্খচিল, ৩টি বেতা জরা সাপ, ২টি দারাশ সাপ ও ২টি সবুজ কালি মনসা সাপ। এছাড়া ভোঁদড়, শিয়াল, বেজি, নীলকণ্ঠ পাখি, লক্ষ্মীপেঁচা, পদ্মগোখরা সাপ, সুন্দি কচ্ছপসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।
গত বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব প্রাণী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আহত বন্যপ্রাণীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরে সেগুলো বনে অবমুক্ত করা হয়। এরমধ্যে লাউয়াছড়া. হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সড়কে গাড়ী চাপায় মাারা যাওয়া কয়েকটি প্রাণী রয়েছে।

স্বপন দেব সজল বলেন, বনাঞ্চলের গাছপালা ও ঝোপঝাড় নির্বিচারে উজাড় হওয়ায় বন্যপ্রাণীরা খাদ্য সংকটে পড়ছে। ফলে তারা লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে চলে আসছে। মানুষের অবাধ প্রবেশ, জঙ্গল কেটে চাষাবাদ, বসতবাড়ি ও অপরিকল্পিত রিসোর্ট নির্মাণ বনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমলগঞ্জ এলাকায় বন্যপ্রাণী উদ্ধারে মানুষের আগ্রহ তুলনামূলক কম। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি বনের আশপাশে বসবাসরত কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন বন্যপ্রাণী ধরে খেয়ে ফেলছে বলেও তিনি জানান।

বর্তমানে ফাউন্ডেশনের কাছে কোনো বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত নেই বলে জানান তিনি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

শ্রীমঙ্গলে এক বছরে ৬৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার : বনাঞ্চলের গাছপালা ও ঝোপঝাড় নির্বিচারে উজাড়ের অভিযোগ

Update Time : 11:22:33 am, Tuesday, 6 January 2026

সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গত এক বছরে বিভিন্ন লোকালয় থেকে জীবিত ও মৃত মোট ৬৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ২৩টি অজগর, ৯টি লজ্জাবতী বানর, ৬টি গন্ধগোকুল, ৪টি বনবিড়াল, ৪টি শঙ্খচিল, ৩টি বেতা জরা সাপ, ২টি দারাশ সাপ ও ২টি সবুজ কালি মনসা সাপ। এছাড়া ভোঁদড়, শিয়াল, বেজি, নীলকণ্ঠ পাখি, লক্ষ্মীপেঁচা, পদ্মগোখরা সাপ, সুন্দি কচ্ছপসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।
গত বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব প্রাণী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আহত বন্যপ্রাণীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরে সেগুলো বনে অবমুক্ত করা হয়। এরমধ্যে লাউয়াছড়া. হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সড়কে গাড়ী চাপায় মাারা যাওয়া কয়েকটি প্রাণী রয়েছে।

স্বপন দেব সজল বলেন, বনাঞ্চলের গাছপালা ও ঝোপঝাড় নির্বিচারে উজাড় হওয়ায় বন্যপ্রাণীরা খাদ্য সংকটে পড়ছে। ফলে তারা লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে চলে আসছে। মানুষের অবাধ প্রবেশ, জঙ্গল কেটে চাষাবাদ, বসতবাড়ি ও অপরিকল্পিত রিসোর্ট নির্মাণ বনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমলগঞ্জ এলাকায় বন্যপ্রাণী উদ্ধারে মানুষের আগ্রহ তুলনামূলক কম। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি বনের আশপাশে বসবাসরত কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন বন্যপ্রাণী ধরে খেয়ে ফেলছে বলেও তিনি জানান।

বর্তমানে ফাউন্ডেশনের কাছে কোনো বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত নেই বলে জানান তিনি।