5:25 am, Wednesday, 7 October 2026

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়:শিক্ষক,ভবনসহ নানা সংকটে কোমলতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত: ভবন ও শিক্ষক নিয়োগের দাবী


বিশেষ প্রতিবেদক: শিশুরা যেখান থেকে গড়ে উঠবে সেখানেই দু:খ আর সংকট নিয়েই শুরু শিক্ষা কার্যক্রম। মৌলভীবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ নানা সংকটে ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান । বিদ্যালয় গুলোতে বিগত কয়েক বছর ধরে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্বক ভ্রাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। সারা জেলার ১হাজার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৪৭৭জন। বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৫৭৩টি পদ। প্রায় ৫৫শতাংশ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। সহবারী শিক্ষক,ভবন সংকটে একই রুমে অফিসের কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান,খেলার মাঠ,রাস্তাঘাটসহ নানা সংকটের মাজেই জোড়াতালি দিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
মৌলভীবাজার জেলা একদিকে হাওর অন্যদিকে পাহাড় ব্যষ্টিত। প্রধান শিক্ষক সংকটের অন্যতম বড় কারণ দীর্ঘদিনের নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত আইনি জটিলতা। শুধু তাই নয় একই রুমে অফিসের কার্যক্রম আর শিক্ষার্থীদের মাজে পাঠদান চলছে। জেলার ৭টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শূন্য রয়েছে সহকারী শিক্ষকের পদও। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এসব বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে তাঁদের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে অন্যদিকে নিয়মিত পাঠদানও চালিয়ে যেতে গিশশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া, ভবন সংকট, জলাবদ্ধতা,নদীভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলেও তা সমাধানে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না নেয়ায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এসব সংকট নিরসন না করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ ও মান আরও উন্নত করা অসম্বব হয়ে পাড়বে।
এনিয়ে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্টানের ছাত্র/ছাত্রীরা জানান- বর্ষাকালে রাস্তাঘাটে, খেলার মাঠ ও স্কুলে জলাবদ্ধাতার মাজে আসতে হয় কষ্ট করে। স্কুলে ভবন না থাকায় ক্লাস করতে হয় গাদাগাদি করে। সরকার স্কুলে নতুন ভবন দিলে পড়া লেখা করতে পারবো।
এবিষয়ে একাদিক শিক্ষক/শিক্ষিকারা দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ এর সাথে আলাপকালে বলেন- প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রায়ই দাফতরিক কাজের জন্য উপজেলায় যেতে হয়। শিক্ষকের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটে ও প্রভাব পড়ে সামগ্রিক শিক্ষার মানের ওপর।
কথা হয় একাদিক শিক্ষক ও সংগঠনের নেতারা দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ এর প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান- শুধু শিক্ষক সংকট নয়, জেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে অবকাঠামোগত নানা সমস্যা। কোথাও ভবন সংকট, কোথাও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অফিসের কার্যক্রম ও পাঠদান চলছে। আবার অনেক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠেও নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা। বিগত সরকারের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের জন্যও জোর দিতে হবে।
এবিষয়ে আনিছুর রহমান,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) মৌলভীবাজার দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ এর প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন- ফলে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এছাড়া জেলায় অনেক শিক্ষক কেউ ছুটি নিয়ে, কেউ ছুটি না গিয়েছেন দেশের বাইরে, ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও ঘটছে ব্যাঘাত। বিদ্যলয়গুলোতে শিক্ষক সংকটসহ রয়েছে নানাবিধ সংকট, এগুলো সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।
শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠের উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

চোরাই মোটরসাইকেল, ০২টি গরু ও ০১টি প্রাইভেট কার উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়:শিক্ষক,ভবনসহ নানা সংকটে কোমলতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত: ভবন ও শিক্ষক নিয়োগের দাবী

Update Time : 07:14:51 pm, Friday, 2 October 2026


বিশেষ প্রতিবেদক: শিশুরা যেখান থেকে গড়ে উঠবে সেখানেই দু:খ আর সংকট নিয়েই শুরু শিক্ষা কার্যক্রম। মৌলভীবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ নানা সংকটে ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান । বিদ্যালয় গুলোতে বিগত কয়েক বছর ধরে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্বক ভ্রাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। সারা জেলার ১হাজার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৪৭৭জন। বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৫৭৩টি পদ। প্রায় ৫৫শতাংশ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। সহবারী শিক্ষক,ভবন সংকটে একই রুমে অফিসের কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান,খেলার মাঠ,রাস্তাঘাটসহ নানা সংকটের মাজেই জোড়াতালি দিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
মৌলভীবাজার জেলা একদিকে হাওর অন্যদিকে পাহাড় ব্যষ্টিত। প্রধান শিক্ষক সংকটের অন্যতম বড় কারণ দীর্ঘদিনের নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত আইনি জটিলতা। শুধু তাই নয় একই রুমে অফিসের কার্যক্রম আর শিক্ষার্থীদের মাজে পাঠদান চলছে। জেলার ৭টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শূন্য রয়েছে সহকারী শিক্ষকের পদও। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এসব বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে তাঁদের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে অন্যদিকে নিয়মিত পাঠদানও চালিয়ে যেতে গিশশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া, ভবন সংকট, জলাবদ্ধতা,নদীভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলেও তা সমাধানে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না নেয়ায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এসব সংকট নিরসন না করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ ও মান আরও উন্নত করা অসম্বব হয়ে পাড়বে।
এনিয়ে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্টানের ছাত্র/ছাত্রীরা জানান- বর্ষাকালে রাস্তাঘাটে, খেলার মাঠ ও স্কুলে জলাবদ্ধাতার মাজে আসতে হয় কষ্ট করে। স্কুলে ভবন না থাকায় ক্লাস করতে হয় গাদাগাদি করে। সরকার স্কুলে নতুন ভবন দিলে পড়া লেখা করতে পারবো।
এবিষয়ে একাদিক শিক্ষক/শিক্ষিকারা দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ এর সাথে আলাপকালে বলেন- প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রায়ই দাফতরিক কাজের জন্য উপজেলায় যেতে হয়। শিক্ষকের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটে ও প্রভাব পড়ে সামগ্রিক শিক্ষার মানের ওপর।
কথা হয় একাদিক শিক্ষক ও সংগঠনের নেতারা দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ এর প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান- শুধু শিক্ষক সংকট নয়, জেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে অবকাঠামোগত নানা সমস্যা। কোথাও ভবন সংকট, কোথাও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অফিসের কার্যক্রম ও পাঠদান চলছে। আবার অনেক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠেও নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা। বিগত সরকারের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের জন্যও জোর দিতে হবে।
এবিষয়ে আনিছুর রহমান,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) মৌলভীবাজার দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ এর প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন- ফলে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এছাড়া জেলায় অনেক শিক্ষক কেউ ছুটি নিয়ে, কেউ ছুটি না গিয়েছেন দেশের বাইরে, ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও ঘটছে ব্যাঘাত। বিদ্যলয়গুলোতে শিক্ষক সংকটসহ রয়েছে নানাবিধ সংকট, এগুলো সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।
শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠের উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের।